বিদেশি মুদ্রায় পরিষেবা আদান-প্রদান ও লেনদেনের নিয়মে বড়সড় বদল আনল ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (RBI)। আন্তর্জাতিক স্তরে পরিষেবা রফতানি (Export) ও আমদানি (Import) করার ক্ষেত্রে এতদিন ধরে যে কঠোর নিয়ম ও কাগজপত্রের কড়াকড়ি মেনে চলতে হতো, তাতে এবার বড় ছাড় মিলল। ফরেন এক্সচেঞ্জ ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্ট (FEMA)-এর অধীনে সংশোধিত বিধি চালু করে ছোট ব্যবসায়ী, ফ্রিল্যান্সার এবং ব্যক্তিগত স্তরে কাজ করা পরিষেবা প্রদানকারীদের প্রশাসনিক জটিলতা ও ফর্ম জমা দেওয়ার ঝামেলা একধাক্কায় অনেকটাই কমিয়ে দিল দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।
রফতানির নিয়মে বদল
নতুন নির্দেশিকায় পরিষেবা রফতানির ক্ষেত্রে ‘এক্সপোর্ট ডিক্লারেশন ফর্ম’ (EDF) জমা দেওয়ার প্রক্রিয়ায় বড় স্বস্তি দেওয়া হয়েছে:
ভারতে বসবাসকারী কোনো ব্যক্তি যদি বিদেশের কোনো সংস্থাকে পরিষেবা দিয়ে পারিশ্রমিক পান, তবে অনুমোদিত ব্যাঙ্কে লেনদেনের সাধারণ তথ্য দিলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফর্ম জমার সমান বলে ধরে নেওয়া হবে।
ব্যক্তিগত রফতানিকারক ছাড়াও অন্যান্য ছোট সংস্থার ক্ষেত্রেও এই সুবিধা কার্যকর হবে, তবে সে ক্ষেত্রে বিদেশ থেকে পাওয়া পারিশ্রমিকের পরিমাণ সর্বোচ্চ ১০ লক্ষ টাকা বা তার সমমূল্যের বিদেশি মুদ্রার মধ্যে হতে হবে। এর ফলে ছোট স্টার্টআপ ও স্বাধীন পেশাদারদের আলাদা করে দীর্ঘ ফর্ম পূরণ করতে হবে না।
আমদানির ক্ষেত্রেও কমছে কড়াকড়ি
বিদেশে কোনো পরিষেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে ‘ইমপোর্ট ডেটা প্রসেসিং অ্যান্ড মনিটরিং সিস্টেম’ (IDPMS)-এ ব্যাঙ্কগুলির তথ্য নথিভুক্ত করার বাধ্যবাধকতাতেও বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, কেবল দুটি নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলেই ব্যাঙ্ককে এই কেন্দ্রীয় সিস্টেমে তথ্য তুলতে হবে: ১. আমদানিকারক কোনো সাধারণ ব্যক্তি (Resident Individual) হতে পারবেন না।
২. সংশ্লিষ্ট পরিষেবা চুক্তির মূল্য অবশ্যই ১০ লক্ষ টাকা বা তার বেশি হতে হবে।
অর্থাৎ, ভারতে বসবাসকারী সাধারণ কোনো নাগরিক ব্যক্তিগত প্রয়োজনে বিদেশ থেকে সফটওয়্যার বা কোনো পরিষেবা কিনলে তার জন্য আর জটিল রিপোর্টিং করতে হবে না। একইভাবে ১০ লক্ষ টাকার কম মূল্যের আমদানি লেনদেনও এই বাড়তি নজরদারির ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকবে।
আরও পড়ুন: ২ চাকার গাড়ি কিনতে টাকা দিচ্ছে সরকার! আপনি কি পাবেন এই সুবিধা?
কবে থেকে কার্যকর হচ্ছে নতুন নিয়ম?
RBI অর্থাৎ রিজার্ভ ব্যাঙ্কের জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, সংশোধিত এই নিয়মটি ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যকে আরও সহজ ও গতিশীল করতে এবং বিশেষ করে ছোট উদ্যোক্তাদের ব্যাঙ্কিং প্রক্রিয়া ঝামেলামুক্ত রাখতেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।
