স্কুল-কলেজে ভর্তি, হাসপাতালে চিকিৎসা, হোটেলে চেক-ইন কিংবা বিদ্যুৎ বা গ্যাসের সংযোগ—সব জায়গাতেই আধার কার্ডের জেরক্স বা ফটোকপি জমা দেওয়া এখন যেন এক প্রকার বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু যেখানে-সেখানে নিজের আধার কার্ডের জেরক্স জমা দেওয়ার ফলে ব্যক্তিগত তথ্য চুরি ও জালিয়াতির ঝুঁকি দিন দিন মারাত্মক আকার নিচ্ছে।
সাধারণ মানুষের এই আশঙ্কা কাটাতে এবং তথ্যের নিরাপত্তা জোরদার করতে ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (UIDAI)। খুব শীঘ্রই আধার কার্ডের কাগজের ফটোকপি জমা দেওয়ার দিন শেষ হতে চলেছে; তার বদলে আসছে সম্পূর্ণ অ্যাপ-ভিত্তিক ডিজিটাল পরিচয় যাচাই ব্যবস্থা।
৩০০টি সংস্থায় চালু হচ্ছে নতুন এই ব্যবস্থা
UIDAI সূত্রে জানানো হয়েছে, কাগজের ব্যবহার ও জেরক্স দেওয়ার ঝামেলা চিরতরে বন্ধ করতে দেশজুড়ে একটি শক্তিশালী অফলাইন ভেরিফিকেশন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হচ্ছে। ইতিমধ্যে ৩০০-রও বেশি সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে ‘অফলাইন ভেরিফিকেশন সিকিং এনটিটি’ (OVSE) হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এই তালিকায় নাম রয়েছে:
বিভিন্ন নামী স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়
সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল
হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সংস্থা
সুইগি, জোম্যাটোর মতো ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম এবং বিভিন্ন পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান
আধারের জেরক্স ছাড়াই কীভাবে পরিচয় যাচাই হবে?
নতুন নিয়মে কোথাও গেলে আর আধার কার্ডের ফটোকপি জমা দিতে হবে না।
উপভোক্তা যখন কোনো প্রতিষ্ঠানে যাবেন, তখন তাঁর মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে একটি ডিজিটাল নোটিফিকেশন বা সম্মতি চাওয়া হবে।
নাগরিকের নিজস্ব অনুমতির (Consent) ভিত্তিতেই কেবল প্রয়োজনীয় তথ্যটুকু ডিজিটালভাবে যাচাই করে নেবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান।
সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, যাচাইকারী কোনো সংস্থা বা ব্যক্তি আপনার মূল আধার নম্বর দেখতে পাবে না।
কোন তথ্যের কতটা অংশ সংস্থার সঙ্গে শেয়ার করা হবে, তা ব্যবহারকারী নিজেই অ্যাপের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা সহ সব প্রকল্পে আধার বাতিল? টাকা পেতে বায়োমেট্রিক নিয়ম আনছে কেন্দ্র?
ডিজিটাল ডেটা সুরক্ষা আইনের (Personal Data Protection Act) সমস্ত নিয়ম মেনেই এই ব্যবস্থা সুরক্ষিত করা হচ্ছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে এই সম্পূর্ণ কাগজবিহীন ব্যবস্থা আরও ব্যাপকভাবে দেশজুড়ে কার্যকর করার লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে। বর্তমানে কোটি কোটি নাগরিক নিয়মিত আধার অ্যাপের মাধ্যমে ঠিকানা ও বায়োমেট্রিক সংক্রান্ত কাজ সারছেন। এবার জেরক্সের ঝামেলা থেকেও চিরতরে মুক্তি পেতে চলেছেন দেশবাসী।
