বেতন একধাক্কায় ৬৯,০০০ টাকা করার আর্জি! সপ্তম পে কমিশনে বিরাট দাবি কর্মী সংগঠনের

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো সংশোধনে এবার বড় দাবি তুলল কর্মী সংগঠন। মূল্যবৃদ্ধি ও বর্তমান জীবনযাত্রার খরচের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কর্মচারীদের সম্মানজনক জীবন নিশ্চিত করতে সপ্তম বেতন কমিশনের (7th Pay Commission) কাছে পেশ করা হলো একগুচ্ছ নতুন প্রস্তাব।

রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের অন্যতম প্রধান সংগঠন ‘কনফেডারেশন অফ স্টেট গভর্নমেন্ট এমপ্লয়িজ’ গত ২৯ অক্টোবর কমিশনের কাছে একটি বিশদ স্মারকলিপি জমা দিয়েছে। সেখানে পরিবারের সদস্য গণনার পুরনো নিয়ম বদলে কর্মচারীদের ন্যূনতম মাসিক বেতন একধাক্কায় ৬৯,০০০ টাকা করার জোরদার আর্জি জানানো হয়েছে।

ফ্যামিলি ইউনিট গণনার নিয়মে বড় বদলের প্রস্তাব

সংগঠনটির মূল যুক্তি, বর্তমান ব্যবস্থায় কর্মচারীর পরিবারকে মাত্র ৩টি ‘ইউনিট’ হিসেবে ধরে বেতন নির্ধারণ করা হয়, যা আজকের দিনে সম্পূর্ণ অবাস্তব। এর ফলে পরিবারের সব সদস্যের প্রকৃত খরচ বেতনের হিসাবে আসে না। তাই পরিবারকে মোট ৫টি ইউনিট হিসেবে ধরার বৈজ্ঞানিক প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে:

  • কর্মচারীর জন্য ১ ইউনিট এবং তাঁর জীবনসঙ্গীর জন্য ১ ইউনিট।

  • সন্তানদের জন্য মোট ২ ইউনিট।

  • পিতা-মাতার জন্য জনপ্রতি ০.৬ ইউনিট করে মোট ১.২ ইউনিট (সামগ্রিক হিসেবে যা ৫ ইউনিটে স্থির করার আর্জি জানানো হয়েছে)।

ন্যূনতম বেতন ৬৯,০০০ টাকার দাবি কেন?

সংগঠনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বর্তমান বাজারে প্রচলিত ন্যূনতম বেতন দিয়ে শুধু বেঁচে থাকা সম্ভব, কিন্তু মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন সম্ভব নয়। তাই শুধুমাত্র খাদ্য বা বাসস্থান নয়—উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, সন্তানদের মানসম্মত শিক্ষা, যাতায়াত খরচ এবং বর্তমান যুগের অপরিহার্য ডিজিটাল বা প্রযুক্তিগত চাহিদাকে যুক্ত করে বিজ্ঞানসম্মত ‘লিভিং ওয়েজ’ (Living Wage) নির্ধারণ করতে হবে।

সেই হিসাব অনুযায়ী ৫ জনের পরিবারের জন্য প্রতি মাসে ন্যূনতম ৬৯,০০০ টাকা বেতনের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর পাশাপাশি বেতন নির্ধারণে ৩.৮৩৩ ফিটমেন্ট ফ্যাক্টর (Fitment Factor) কার্যকরের দাবিও জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা সহ সব প্রকল্পে আধার বাতিল? টাকা পেতে বায়োমেট্রিক নিয়ম আনছে কেন্দ্র?

স্মারকলিপিতে সুপ্রিম কোর্টের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণের কথা মনে করিয়ে দিয়ে বলা হয়েছে, রাজ্য সরকারকে কর্মচারীদের প্রতি ‘আদর্শ নিয়োগকর্তা’র ভূমিকা পালন করতে হবে এবং কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার কোনোভাবেই দমিয়ে রাখা উচিত নয়। এখন দেখার, কর্মী সংগঠনের এই প্রস্তাব খতিয়ে দেখে সপ্তম বেতন কমিশন রাজ্য সরকারের কাছে কী সুপারিশ জমা দেয়।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Comment