পশ্চিমবঙ্গের কর্মহীন যুবক-যুবতীদের আর্থিক সুরক্ষা দিতে রাজ্য সরকারের বহু প্রতীক্ষিত উদ্যোগ ‘যুবশক্তি প্রকল্প’ (বা যুবশক্তি ভরসা স্কিম)। এই প্রকল্পের আওতায় শিক্ষিত বেকার তরুণ-তরুণীদের প্রতি মাসে ২,০০০ থেকে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত আর্থিক ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
আগামী ২৩ নভেম্বর রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন ও চূড়ান্ত রূপরেখা প্রকাশ পাওয়ার কথা রয়েছে, এবং নতুন বছরের জানুয়ারি থেকে সুবিধাভোগীদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ভাতার টাকা পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে।
তবে এই প্রকল্পের সুবিধা রাজ্যের সমস্ত যুবক-যুবতী পাবেন না। সরকারি অর্থের অপচয় রুখতে এবং প্রকৃত অভাবী চাকরিপ্রার্থীদের কাছে পৌঁছাতে কিছু কঠোর শর্তাবলী ও বিধিনিষেধ রাখা হচ্ছে। আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই জেনে নেওয়া জরুরি কোন ৩ শ্রেণির আবেদনকারী এই প্রকল্পের সুবিধা থেকে বাদ পড়তে পারেন:
১. সরকারি বা স্থায়ী চাকরিজীবী
যুবশক্তি প্রকল্পটি মূলত এমন তরুণ-তরুণীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে, যাঁরা পড়াশোনা শেষ করে উপযুক্ত কর্মসংস্থানের অভাবে ভুগছেন। ফলে আবেদনকারী যদি ইতিমধ্যে রাজ্য সরকার, কেন্দ্র সরকার, কোনো পুরসভা, পঞ্চায়েত বা সরকারি অনুদানপ্রাপ্ত কোনো প্রতিষ্ঠানে স্থায়ী চাকরিতে নিযুক্ত থাকেন, তবে তিনি এই প্রকল্পের জন্য সরাসরি অযোগ্য বিবেচিত হবেন। কোনো আবেদনকারী স্থায়ী আয়ের মধ্যে থাকলে তাঁর আবেদন বাতিল করে দেওয়া হবে।
২. ধনী পরিবার বা ইনকাম ট্যাক্স দেওয়া ব্যক্তি
যে সমস্ত আবেদনকারীর পরিবার আর্থিকভাবে সচ্ছল কিংবা পরিবারের কোনো সদস্য নিয়মিত আয়কর (Income Tax) রিটার্ন ফাইল করেন, তাঁদের এই ভাতার আওতায় আনা হবে না। সামাজিক সুরক্ষার মূল উদ্দেশ্য প্রান্তিক ও অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের বেকারদের স্বাবলম্বী করা। ফলে পারিবারিক আয়ের ক্ষেত্রে একটি নির্দিষ্ট ঊর্ধ্বসীমা কার্যকর থাকবে, যা অতিক্রম করলে কোনো যুবক-যুবতী এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন না।
৩. আগে থেকেই সরকারি ভাতা পাওয়া ব্যক্তি
রাজ্য বা কেন্দ্রের অন্য কোনো সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প থেকে ইতিমধ্যেই যদি কেউ নিয়মিত আর্থিক অনুদান বা ভাতা পেয়ে থাকেন, তাঁদের নাম যুবশক্তির তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। এছাড়া একটি পরিবার থেকে একাধিক ব্যক্তি যাতে একই সুবিধা না পান, তার জন্য যাচাই ব্যবস্থা রাখা হতে পারে। পাশাপাশি আবেদনকারীর নিজস্ব বৈধ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও কেওয়াইসি (KYC) সক্রিয় না থাকলে নাম বাতিল হতে পারে।
আরও পড়ুন: যুবশক্তির টাকা ঢুকবে জানুয়ারি ২০২৭ থেকে, আবেদন কবে শুরু হবে?
২৩ নভেম্বর রাজ্য মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর সরকারি পোর্টাল ও নির্দেশিকা চালু হলে বিস্তারিত শর্তাবলী পুরোপুরি প্রকাশ্যে আসবে। তাই আবেদনের আগেই এই সমস্ত নিয়ম ভালোভাবে যাচাই করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গুছিয়ে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
