রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের জন্য বড় সুখবর দিল পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এবার মোটর সাইকেল, স্কুটার কিংবা ব্যাটারিচালিত ইলেকট্রিক দু’চাকা (ই-বাইক) কেনার ক্ষেত্রে সরকারি ঋণের সর্বোচ্চ সীমা একধাক্কায় অনেকটাই বাড়িয়ে দিল নবান্ন।
বাজারে যানবাহনের বর্ধিত দাম এবং কর্মীদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক যানের ব্যবহার বাড়াতে অর্থ দফতরের তরফে এই বড় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অতিরিক্ত মুখ্য সচিবের স্বাক্ষরিত এই নির্দেশিকা অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
কত টাকা পর্যন্ত লোন দেবে সরকার?
নতুন নির্দেশিকায় সাধারণ পেট্রল চালিত গাড়ি ও ইলেকট্রিক গাড়ির জন্য আলাদা আর্থিক সুবিধা রাখা হয়েছে:
(১) পেট্রোল চালিত বাইক বা স্কুটার: প্রথমবার সাধারণ বাইক বা স্কুটার কেনার জন্য কর্মীরা সর্বোচ্চ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ পেতে পারেন। তবে কর্মীর ৫ মাসের মূল বেতন অথবা গাড়ির দাম—যেটি কম হবে, সেই পরিমাণ অর্থই মঞ্জুর হবে। দ্বিতীয়বার এমন গাড়ি কিনতে চাইলে সর্বোচ্চ ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মিলবে।
(২) পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক দু’চাকা (E-Bike): ইলেকট্রিক গাড়ি কেনায় বাড়তি উৎসাহ দিতে প্রথমবার ই-বাইক কেনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ঋণ বাড়িয়ে ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে কর্মীর ৬ মাসের মূল বেতন কিংবা গাড়ির মূল্যের মধ্যে যেটি কম হবে, তা পাওয়া যাবে। পরবর্তীতে দ্বিতীয়বার ই-বাইক কেনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৯০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ দেওয়া হবে।
কারা এই সুবিধা পাবেন?
অর্থ দফতরের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, রোপা ২০১৯ (ROPA 2019) নিয়ম অনুযায়ী যে সমস্ত রাজ্য সরকারি কর্মচারীর মূল বেতন (Basic Pay) প্রতি মাসে ন্যূনতম ২৫,৭০০ টাকা বা তার বেশি, কেবল তাঁরাই এই দু’চাকা কেনার ঋণের জন্য আবেদন করার যোগ্য হবেন।
টাকা পরিশোধের নিয়ম
কর্মচারীদের সুবিধার কথা ভেবে ঋণ শোধের পদ্ধতিও বেশ সহজ রাখা হয়েছে:
ঋণের আসল টাকা সর্বোচ্চ ৬০টি মাসিক কিস্তিতে সরাসরি বেতন থেকে কেটে নেওয়া হবে।
এরপর জমে থাকা সুদের অর্থ পরবর্তী সর্বোচ্চ ২০টি কিস্তিতে পরিশোধ করতে হবে।
একবার এই ঋণ নেওয়ার পর আসল ও সুদ পুরোপুরি পরিশোধ হওয়ার অন্তত ৩ বছর না পেরোলে দ্বিতীয়বারের জন্য কোনও নতুন ঋণ পাওয়া যাবে না।
আরও পড়ুন: যুবশক্তির টাকা ঢুকবে জানুয়ারি ২০২৭ থেকে, আবেদন কবে শুরু হবে?
ঝামেলা ছাড়া দ্রুত অনুমোদন মিলবে
আগে এই ঋণের আবেদন অনুমোদনের জন্য বিভিন্ন দফতর ঘুরে নবান্নের অর্থ দফতরে ফাইল পাঠাতে হতো, যাতে অনেক সময় নষ্ট হতো। নতুন নিয়মে কর্মীদের স্বস্তি দিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দফতরকেই সরাসরি ঋণ মঞ্জুর করার চূড়ান্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে আবেদন জমা পড়ার খুব অল্প সময়ের মধ্যেই কর্মীরা গাড়ি কেনার টাকা পেয়ে যাবেন।
