পশ্চিমবঙ্গের কৃষকদের আধুনিক সুযোগ-সুবিধার আওতায় আনতে এবং চাষের খরচ কমাতে জোড়া উদ্যোগ নিল কৃষি দফতর। আধার কার্ডের আদলে রাজ্যের প্রতিটি চাষির জন্য ১১ সংখ্যার একটি ডিজিটাল ‘ফার্মার আইডি’ (Farmer ID) তৈরির কাজ পুরোদমে শুরু হয়েছে। এর পাশাপাশি কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পের আওতায় পাওয়ার টিলার, পাম্পসেট থেকে শুরু করে বিভিন্ন আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি কেনার জন্য সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ পর্যন্ত বিপুল সরকারি ভর্তুকি দেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।
১১ সংখ্যার ‘ফার্মার আইডি’ কী এবং কেন জরুরি?
কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের যৌথ উদ্যোগে চালু হওয়া ‘এগ্রিস্ট্যাক’ (AgriStack) প্রকল্পের অধীনে এই ডিজিটাল রেজিস্ট্রি তৈরি করা হচ্ছে। কৃষকদের পরিচয় ও তাঁদের জমির যাবতীয় তথ্যকে একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে আনাই এর মূল উদ্দেশ্য।
ফার্মার আইডি এবং এর সুবিধা
একবার এই ১১ সংখ্যার ইউনিক আইডি তৈরি হয়ে গেলে কৃষকদের সরকারি প্রকল্পের টাকা পেতে কোনো জট থাকবে না। পরবর্তীতে সহজে সার বুকিং, কিষান ক্রেডিট কার্ডের (KCC) ঋণ, শস্য বিমা এবং সরকারি অনুদানের টাকা সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাওয়ার ক্ষেত্রে এই আইডি বাধ্যতামূলক হতে চলেছে।
কীভাবে তৈরি করবেন ফার্মার আইডি?
নিজস্ব আধার কার্ড, আধার-সংযুক্ত সক্রিয় মোবাইল নম্বর এবং জমির হালনাগাদ খতিয়ান বা পর্চা (ROR) নিয়ে স্থানীয় বাংলা সহায়তা কেন্দ্র (BSK), সিএসসি (CSC) বা ব্লক কৃষি দফতরে যোগাযোগ করতে হবে। এছাড়া নির্দিষ্ট সরকারি পোর্টালে গিয়ে কৃষকেরা নিজেরাও নাম নথিভুক্ত করতে পারছেন।
কৃষি যন্ত্রপাতিতে সরকারি অনুদান
চাষিদের আধুনিক যন্ত্রের ব্যবহারে উৎসাহ দিতে কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্পে মোটা অঙ্কের আর্থিক অনুদান দেওয়া হচ্ছে: ১. ছোট কৃষি যন্ত্রপাতি (OTA-SFI): সাধারণ ছোট চাষের যন্ত্র কেনার ক্ষেত্রে ৫০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সরকারি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
২. শক্তিচালিত বড় যন্ত্রপাতি (FSSM): পাওয়ার টিলার, পাম্পসেট, রোটাভেটর বা আধুনিক ড্রোন কেনার জন্য ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ হারে সর্বোচ্চ ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ভর্তুকি মিলছে।
৩. কাস্টম হায়ার সেন্টার ও মেশিনারি ব্যাঙ্ক: গ্রামীণ এলাকায় যন্ত্রপাতির ভাড়া কেন্দ্র (CHC) গড়তে ৪০ শতাংশ এবং ফার্ম মেশিনারি ব্যাঙ্ক (FMB) তৈরিতে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ অর্থাৎ ২৪ লক্ষ টাকা পর্যন্ত অনুদান দেওয়া হচ্ছে।
আরও পড়ুন: ২ চাকার গাড়ি কিনতে টাকা দিচ্ছে সরকার! আপনি কি পাবেন এই সুবিধা?
কৃষক বন্ধু বা পিএম কিষান প্রকল্পে নাম থাকা কৃষক, স্বনির্ভর দল এবং সমবায় সমিতিগুলি এই সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। তবে যে সমস্ত কৃষক গত চার বছরে এই অনুদান নেননি, তাঁদেরকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
