শিক্ষিত বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য মাসিক ৩০০০ টাকার আর্থিক সহায়তার প্রকল্প যুবশক্তি ভরসা কার্ড নিয়ে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, আবেদন আসলে কবে শুরু হচ্ছে। সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী অক্টোবর থেকেই প্রকল্প চালু হওয়ার কথা, কিন্তু অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহ পেরিয়েও আনুষ্ঠানিক আবেদন প্রক্রিয়া শুরুর কোনও বিজ্ঞপ্তি আসেনি।
যুব শক্তির আবেদন কবে শুরু হবে?
রাজ্য বাজেটেই জানানো হয়েছিল, অক্টোবর থেকে প্রকল্প কার্যকর হবে। সেই অনুযায়ী ১ অক্টোবর থেকে আবেদন শুরুর আশা করা হচ্ছিল, আর নভেম্বর থেকে টাকা ঢোকার কথা বলা হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা হয়নি।
২ থেকে ৪ অক্টোবরের জনকল্যাণ শিবিরেও যুবশক্তির ফর্ম পাওয়া যায়নি, কারণ আনুষ্ঠানিক ঘোষণা তখনও বাকি ছিল। সরকারি বিজ্ঞপ্তি এলে অনলাইনে পোর্টালে এবং শিবির বা পঞ্চায়েত ও পুরসভা মারফত অফলাইনে, দু’ভাবেই আবেদনের সুযোগ থাকার সম্ভাবনা।
কত টাকা মিলবে যুবশক্তি প্রকল্পে?
যোগ্যতা অনুযায়ী দুটো স্তরে সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। স্নাতক পাশ বেকাররা মাসে ৩,০০০ টাকা এবং মাধ্যমিক বা উচ্চমাধ্যমিক পাশ, স্নাতক নন এমন প্রার্থীরা মাসে ২,০০০ টাকা পাবেন। আগের যুবসাথী প্রকল্পে এই অঙ্ক ছিল ১,৫০০ টাকা।
কারা আবেদন করতে পারবে?
বিভিন্ন সূত্র অনুযায়ী মূল শর্তগুলো এরকম: পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হওয়া, ন্যূনতম মাধ্যমিক পাশ, সম্পূর্ণ বেকার থাকা, আর পরিবারের মাসিক আয় ১ লক্ষ টাকার কম হওয়া। আধারের সঙ্গে যুক্ত সচল ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টও লাগবে। বয়সসীমা নিয়ে অবশ্য একটু অমিল আছে। বেশিরভাগ রিপোর্টে ২১ থেকে ৪০ বছরের কথা বলা হলেও কয়েকটি সূত্রে ৪৫ বছরের উল্লেখ আছে, তাই চূড়ান্ত বয়সসীমা সরকারি বিজ্ঞপ্তি থেকেই জানা যাবে।
কী কী ডকুমেন্ট রেডি রাখবেন?
একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী আবেদনের জন্য ৮টি নথি লাগতে পারে:
- আধার কার্ড
- ভোটার কার্ড
- জন্ম শংসাপত্র
- মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড (বয়সের প্রমাণ)
- শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কশিট ও সার্টিফিকেট
- আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক পাসবইয়ের কপি
- সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- স্নাতকদের ক্ষেত্রে প্রভিশনাল বা মূল ডিগ্রি সার্টিফিকেট
এর পাশাপাশি রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট ও ইনকাম সার্টিফিকেটও চাওয়া হতে পারে, তাই বিজ্ঞপ্তির আগেই এগুলো তৈরি করে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
আরও পড়ুন: অক্টোবরে অন্নপূর্ণার ৩০০০ টাকার ঢুকলে, নভেম্বর-ডিসেম্বর পরের মাসে চিন্তামুক্ত
এখন কী করবেন?
আবেদন শুরু না হওয়া পর্যন্ত কোনও অচেনা ওয়েবসাইট বা দালালের কাছে টাকা বা ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না। সরকারি বিজ্ঞপ্তি আসার আগে নথিগুলো গুছিয়ে রাখুন, বিশেষ করে ইনকাম ও রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেট, যেগুলো বানাতে কিছুটা সময় লাগে।
