নিজের বাড়িতে একটা স্বাস্থ্যসম্মত শৌচাগার থাকা আজও অনেক পরিবারের কাছে বাস্তব নয়। মালদহ জেলার ছবিটা সেই কথাই বলছে। জেলা প্রশাসনের সমীক্ষায় উঠে এসেছে, এখনও প্রায় ২৫ হাজার পরিবারের নিজস্ব শৌচাগার নেই। এই পরিস্থিতি বদলাতে ‘নব দিশা’ নামে একটা নতুন কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যার ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
প্রকল্পটা কোথায় শুরু হয়েছে?
এই কর্মসূচি আপাতত শুধু মালদহ জেলার জন্য। রাজ্যের অন্য কোনও জেলায় এখনও এটা চালু হয়নি। তাই অন্য জেলার বাসিন্দাদের এই প্রকল্পের জন্য আবেদন করার সুযোগ নেই।
অনুদান নয়, ঋণের মডেল
এই প্রকল্পের সবচেয়ে আলাদা দিক হলো টাকা দেওয়ার পদ্ধতি। সরকারি টাকার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন সরাসরি অনুদানের বদলে ঋণের পথ বেছে নিয়েছে। আর্থিকভাবে দুর্বল পরিবারগুলো শৌচাগার তৈরির জন্য ১২ হাজার টাকা ঋণ হিসেবে পাবে।
টাকা কীভাবে পাওয়া যাবে?
ব্যক্তিগত গৃহস্থালি শৌচাগার তৈরির কাজকে স্বচ্ছ ভারত মিশনের আওতায় রাজ্য গ্রামীণ জীবিকা মিশনের স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। স্বনির্ভর গোষ্ঠীর সদস্যরা সংঘ সমবায়ের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক ঋণ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পরিবারের শৌচাগার নির্মাণে সাহায্য করবেন। পুরো প্রক্রিয়াটা এভাবে এগোবে:
- স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মাধ্যমে ঋণের টাকা পেয়ে পরিবার শৌচাগার তৈরির কাজ শুরু করবে
- নির্মাণ শেষ হলে শৌচাগারের ছবি সরকারি পোর্টালে আপলোড করতে হবে
- যাচাইয়ের পর সরকারি সহায়তার টাকা উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানো হবে
- সেই টাকা দিয়েই ঋণ পরিশোধ করতে হবে
অর্থাৎ নির্মাণ শেষ করে প্রমাণ দেওয়ার পরই সরকারি সহায়তা হাতে আসবে, তারপর সেটা দিয়ে নেওয়া ঋণ শোধ হবে।
ঋণ হিসেবে এই টাকা দেওয়ার কারণ
ঋণের মডেলে কাজ করার সুবিধা হলো, টাকা সত্যিই শৌচাগার তৈরিতে খরচ হচ্ছে কিনা তা ছবি আর যাচাইয়ের মাধ্যমে নিশ্চিত করা যায়। এতে সরকারি অর্থের অপব্যবহারের সুযোগ কমে।
আরও পড়ুন: মাত্র ৫০ হাজার টাকায় ফ্ল্যাট দিচ্ছে সরকার! কেমন হবে এই ফ্ল্যাট?
সব মিলিয়ে বলা যায়, মালদহের যে পরিবারগুলোর এখনও নিজস্ব শৌচাগার নেই, তাঁরা নিজের এলাকার স্বনির্ভর গোষ্ঠী বা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে এই কর্মসূচির সুবিধা নিতে পারেন। আবেদনের নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও যোগ্যতার খুঁটিনাটি জেলা প্রশাসনের পরবর্তী বিজ্ঞপ্তিতে জানা যাবে।
