পুজোর ঠিক মুখে বড় খবর। মাত্র ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে এবার নিজের একটা ফ্ল্যাটের মালিক হওয়ার সুযোগ মিলছে। রাজ্য ও কেন্দ্র সরকারের যৌথ উদ্যোগে এই আবাসন প্রকল্পের ঘোষণা হয়েছে, যেখানে সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকার ফ্ল্যাটের বড় অংশের খরচ বহন করবে সরকার।
তবে এই সুযোগ সবার জন্য নয়। ব্যারাকপুর শিল্পাঞ্চলের জুটমিল শ্রমিকদের জন্যই এই ফ্ল্যাট বরাদ্দ করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে ঘিঞ্জি কোয়ার্টারে থাকা এই শ্রমিকদের জন্য প্রকল্পের কথা সাংবাদিক বৈঠকে ঘোষণা করেছেন রাজ্যের শ্রমমন্ত্রী অর্জুন সিং।
কোন প্রকল্পে মিলছে ৫০,০০০ টাকায় ফ্ল্যাট?
প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা-আরবান ২.০-এর ‘অ্যাফোর্ডেবল হাউজিং ইন পার্টনারশিপ’ কাঠামোতে এই প্রকল্প হবে। কেন্দ্র, রাজ্য ও রাজ্যের শ্রম দফতর মিলে একসঙ্গে কাজ করবে।
৫০ হাজারে ফ্ল্যাট, বাকি টাকা কে দেবে?
প্রতিটি ফ্ল্যাট তৈরিতে আনুমানিক খরচ সাড়ে পাঁচ লক্ষ টাকা। এর মধ্যে কেন্দ্র দেবে ১.৫ লক্ষ টাকা, রাজ্য সরকার দেবে ২ লক্ষ ৭৯ হাজার টাকা, আর শ্রম দফতর অনুদান হিসেবে দেবে ৭১ হাজার টাকা। এই তিন অংশের টাকা বাদ দিলে শ্রমিককে নিজের পকেট থেকে দিতে হবে মাত্র ৫০ হাজার টাকা।
ফ্ল্যাট কেমন হবে?
প্রতিটি ফ্ল্যাটের কার্পেট এরিয়া ধরা হয়েছে ৩২০ থেকে ৪৫০ বর্গফুটের মধ্যে। থাকবে দুটো শোবার ঘর, একটা রান্নাঘর, শৌচালয় এবং পরিশ্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা। বাড়িগুলো হবে চারতলা (জি প্লাস থ্রি), প্রতি তলায় চারটি করে ফ্ল্যাট, অর্থাৎ একটা ভবনে মোট ১৬টি পরিবার থাকতে পারবে।
কারা পাবে ৫০,০০০ টাকায় ফ্ল্যাট?
এই সুবিধা পেতে কয়েকটা শর্ত মানতে হবে। আবেদনকারীকে আর্থিকভাবে দুর্বল শ্রেণির (EWS) হতে হবে এবং পরিবারের বার্ষিক আয় ৩ লক্ষ টাকার বেশি হওয়া চলবে না। দেশের কোথাও আবেদনকারী বা পরিবারের কোনও সদস্যের নামে পাকা বাড়ি থাকলে চলবে না। আর গত ২০ বছরে কেন্দ্র বা রাজ্যের অন্য কোনও আবাসন প্রকল্পের সুবিধা নিয়ে থাকলেও আবেদন করা যাবে না।
কারা অগ্রাধিকার পাবেন?
বিধবা, অবিবাহিত বা একা থাকা মহিলা, প্রবীণ নাগরিক, বিশেষভাবে সক্ষম ব্যক্তি এবং রূপান্তরকামী সম্প্রদায়ের আবেদনকারীরা বাছাইয়ে আগে সুযোগ পাবেন। সংরক্ষিত শ্রেণির শ্রমিকদের জন্যও বাড়তি সুবিধা থাকছে।
বিক্রি করা যাবে না ৫ বছর
দালালচক্রের ফায়দা তোলা আটকাতে সরকার একটা কড়া নিয়ম রেখেছে। ফ্ল্যাট বরাদ্দের পর প্রথম পাঁচ বছর তা বিক্রি করা বা অন্যের নামে হস্তান্তর করা যাবে না।
কাজ শুরু কোথায় হবে?
প্রথমে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে উত্তর ২৪ পরগনা ও হুগলি জেলায় কাজ শুরু হবে। ভাটপাড়া, টিটাগড় ও কামারহাটি পুরসভাকে ইতিমধ্যে উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করতে বলা হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, প্রায় আট হাজার শ্রমিক এই ফ্ল্যাটের জন্য আগ্রহ দেখিয়েছেন। শ্রম দফতর, স্থানীয় প্রশাসন, পুরসভা, ট্রেড ইউনিয়ন ও মিল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে যোগ্যদের তালিকা তৈরি হচ্ছে। জমি চূড়ান্ত হলেই ধাপে ধাপে নির্মাণ শুরু হবে।
আরও পড়ুন: এখন PNB ব্যাংকে মিনিমাম ব্যালেন্স কত রাখতে হবে? আসল নিয়মটা কি?
সব মিলিয়ে বলা যায়, বছরের পর বছর ঘুপচি ঘরে থাকা শ্রমিকদের জন্য এই প্রকল্প একটা বড় সুযোগ। তবে এখনও জমি চিহ্নিতকরণ ও যোগ্যদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে, তাই আবেদনের নির্দিষ্ট পদ্ধতি ও সময় প্রশাসনের পরবর্তী ঘোষণার অপেক্ষায়।
