উৎসবের মরসুম শুরুর ঠিক মুখে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য স্বস্তির খবর নিয়ে এল নবান্ন। প্রতিবারের মতোই এবারও দুর্গাপুজো, কালীপুজো আর ছটপুজো মিলিয়ে বেশ লম্বা ছুটির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে কর্মীরা পরিবারের সঙ্গে নিশ্চিন্তে উৎসবের আনন্দ উপভোগ করতে পারেন। সম্প্রতি প্রকাশিত ছুটির তালিকা অনুযায়ী অক্টোবর ও নভেম্বর মিলিয়ে মোট প্রায় ২৭ দিনের ছুটি পেতে চলেছেন কর্মীরা।
অক্টোবরে কোন তারিখে কীসের ছুটি?
মাসের শুরুতেই, ২ অক্টোবর গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষে বন্ধ থাকছে সরকারি দফতর। তার ঠিক পরেই পড়েছে সাপ্তাহিক ছুটির দুই দিন, ৩ ও ৪ অক্টোবর। এরপর ১০ অক্টোবর মহালয়া, পরদিন ১১ অক্টোবর রবিবার। এই ছোট ছোট বিরতিগুলোর পর আসছে বছরের সবচেয়ে বড় ছুটির পর্ব — ১৫ থেকে ২৬ অক্টোবর, টানা ১২ দিন।
এ বছর পঞ্চমী পড়েছে ১৫ অক্টোবর, তাই সেদিন থেকেই শুরু হয়ে যাচ্ছে পুজোর লম্বা বিরতি। লক্ষ্মীপুজো পড়েছে ২৫ অক্টোবর, আর তার পরের দিনটাও ছুটির তালিকা থেকে বাদ যাচ্ছে না। অর্থাৎ পঞ্চমী থেকে লক্ষ্মীপুজোর পরদিন পর্যন্ত একটানা অফিসে যেতে হচ্ছে না কর্মীদের।
মাসের হিসেবে দেখলে কতটা ছুটি?
গোটা মাস ধরে আলাদা আলাদা করে গুনলে দেখা যাচ্ছে, ৩১ দিনের অক্টোবরে মোট ১৬ দিনই বন্ধ থাকছে সরকারি দফতর। অর্থাৎ মাসের অর্ধেকেরও বেশি সময় জুড়ে চলবে ছুটির আমেজ, যা কাজের চাপ থেকে বড় একটা স্বস্তি এনে দেবে কর্মীদের।
নভেম্বরেও আরও ছুটি
উৎসবের রেশ অক্টোবরেই শেষ হয়ে যাচ্ছে না। পরের মাসেই আছে কালীপুজো, দিওয়ালি আর ছটপুজোর পালা, যার জন্য নভেম্বরে বরাদ্দ থাকছে আরও ১১ দিনের ছুটি। দুই মাস একসঙ্গে মেলালে উৎসবের গোটা মরসুমে কর্মীরা মোট প্রায় ২৭ দিনের ছুটি হাতে পাচ্ছেন, যা বেশ দীর্ঘ একটা বিরতি।
স্কুল-পড়ুয়ারাও বাদ যাচ্ছে না
শুধু সরকারি কর্মীরাই নন, রাজ্যের স্কুল-পড়ুয়াদের জন্যও আলাদা সুখবর এসেছে। শিক্ষা দফতরের তরফে উৎসবের আগে অতিরিক্ত ১০ দিনের ছুটির নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, ফলে স্কুলেও পুজোর ছুটি শুরু হচ্ছে আগে থেকেই।
আরও পড়ুন: যুবশক্তি প্রকল্পের আবেদন কি শুরু হলো? জনকল্যাণ শিবিরে গেলে আবেদন হবে কি?
সব মিলিয়ে বলা যায়, অফিস হোক বা স্কুল — এবারের উৎসবের মরসুমে প্রায় সবার হাতেই থাকছে লম্বা অবসর। পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো, দূরে কোথাও বেড়াতে যাওয়া বা শুধুই বিশ্রাম নেওয়া — যে যেভাবে চান, এই দীর্ঘ ছুটিকে কাজে লাগাতে পারবেন।
