অন্নপূর্ণা যোজনার আবেদন জমা দেওয়ার পরও অনেক মহিলার অ্যাকাউন্টে এখনও ৩০০০ টাকা একবারও ঢোকেনি। মাসের পর মাস অপেক্ষা করেও কোনও ফল না পেলে হতাশ লাগাটাই স্বাভাবিক, তবে এর পেছনে নির্দিষ্ট কারণ আছে, আর সমাধানের পথও আছে।
প্রথম ১ মাস — শুধুই যাচাইয়ের সময়
ফর্ম জমা দেওয়ার পর প্রথম এক মাস সাধারণত সরকারি যাচাইকরণেই কেটে যায়। ব্লক স্তরের আধিকারিকরা জমা পড়া প্রতিটা নথি খুঁটিয়ে দেখেন, আর ডেটা এন্ট্রি অপারেটররা তথ্য পোর্টালে তোলেন।
এই পর্যায়ে সার্ভারের সমস্যা বা সামান্য প্রযুক্তিগত ত্রুটি একেবারেই স্বাভাবিক ঘটনা। তাই এক মাসের মধ্যে টাকা না এলে বাড়তি চিন্তার কিছু নেই, শুধু নিয়মিত নিজের আবেদনের স্ট্যাটাস দেখে রাখাই যথেষ্ট।
২ মাস পেরোলে — একটু সক্রিয় হওয়ার সময়
দুই মাস কেটে যাওয়ার পরও টাকা না এলে এবার নিজের এলাকার গ্রাম পঞ্চায়েত, BDO অফিস বা পুরসভায় গিয়ে বিনীতভাবে খোঁজ নেওয়া দরকার। অনেক সময় দেখা যায়, আধার কার্ড বা ব্যাঙ্কের পাসবইয়ে নামের বানানে সামান্য গরমিল থাকার কারণেই টাকা আটকে থাকে। তাই এই ধাপে নিজের সব ব্যক্তিগত তথ্য পোর্টালে সঠিকভাবে আপডেট আছে কিনা যাচাই করুন, প্রয়োজনে সংশোধিত নথি বা আবেদনের রসিদ ফের জমা দিন।
৩ মাস বা তার বেশি — এবার লিখিত অভিযোগের পালা
তিন মাস পেরিয়ে গেলেও সমাধান না হলে বিষয়টা সত্যিই উদ্বেগের। এই পর্যায়ে সরাসরি মহকুমা শাসক (SDO) বা জেলাশাসকের দফতরে লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া যায়, যেখানে রেজিস্ট্রেশন নম্বর, আধার নম্বর ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য স্পষ্ট করে উল্লেখ করতে হবে। চাইলে মুখ্যমন্ত্রীর দফতর বা নির্দিষ্ট অভিযোগ পোর্টালেও এই সমস্যা জানানো যায়।
ব্যাঙ্ক আর আধারের লিঙ্ক জরুরি!
টাকা পাঠানো হয় DBT পদ্ধতিতে, তাই ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধারের লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক। অনেক সময় DBT বা NPCI ম্যাপিং সক্রিয় না থাকলে, অথবা অ্যাকাউন্টের KYC হালনাগাদ না থাকলে বা অ্যাকাউন্ট নিষ্ক্রিয় (Dormant) হয়ে গেলে মাসের পর মাস টাকা আটকে থাকে।
ব্যাঙ্কে গিয়ে লিখিতভাবে DBT সংযুক্তির আবেদন করলে এই সমস্যা মিটে যায়, আর তখন আগের আটকে থাকা পুরো টাকাটাই একসঙ্গে অ্যাকাউন্টে চলে আসার সম্ভাবনা থাকে।
অন্নপূর্ণা যোজনা স্ট্যাটাস ও হেল্পলাইন
সরকারি পোর্টালে রেজিস্টার্ড মোবাইল নম্বর বা আবেদন নম্বর দিয়ে বাড়িতে বসেই স্ট্যাটাস যাচাই করা যায় — অনুমোদিত, বাতিল নাকি কোনও ত্রুটি দেখাচ্ছে, তা সহজেই জানা যাবে। এছাড়া টোল-ফ্রি হেল্পলাইনেও ফোন করে সরাসরি অভিযোগ নথিভুক্ত করানো যায়, যা পরবর্তীতে প্রশাসনিক তদন্তের জন্য পাঠানো হয়।
আরও পড়ুন: ই-শ্রম কার্ডে প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা দিচ্ছে সরকার, কী কী নথি লাগবে?
সব মিলিয়ে বলা যায়, বিপুল সংখ্যক আবেদনের তথ্য একসঙ্গে প্রক্রিয়াকরণ করতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কিছুটা দেরি হয়। তাই ৩০-৬০-৯০ দিনের এই ধাপগুলো মাথায় রেখে ঠান্ডা মাথায় এগোলে এবং সঠিক নথি সময়মতো জমা দিলে আটকে থাকা টাকা পাওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়।
