দেশের বিপুল সংখ্যক অসংগঠিত শ্রমিক যাঁরা কোনও নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অধীনে কাজ করেন না, তাঁদের আর্থিক সুরক্ষার আওতায় আনতে কেন্দ্রীয় সরকার চালু করেছে ই-শ্রম পোর্টাল (e-Shram Portal)। এই পোর্টালের মাধ্যমে প্রত্যেক যোগ্য শ্রমিক পাচ্ছেন একটা নিজস্ব পরিচয়পত্র, যার নাম ই-শ্রম কার্ড। সচেতনতার অভাবে এখনও বহু মানুষ এই সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়ে গেছেন।
এই e-Shram কার্ড আসলে কী?
ই-শ্রম কার্ড হলো অসংগঠিত শ্রমিকদের একটা জাতীয় ডিজিটাল পরিচয়। প্রতিটি কার্ডে থাকে ১২ সংখ্যার একটা অনন্য নম্বর, যা দেশের যে কোনও প্রান্তে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য। এই কার্ডের কোনও মেয়াদ শেষ হয় না, একবার তৈরি করলে তা সারা জীবনের জন্য বৈধ থাকে। অন্য রাজ্যে গিয়ে কাজ করলেও এই কার্ডের মাধ্যমে শ্রমিকরা নিজেদের প্রাপ্য অধিকার দাবি করতে পারেন।
কী কী সুবিধা পাওয়া যায়?
এই ই-শ্রম কার্ড থাকলে জরুরি প্রয়োজনে সরকার সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আর্থিক সাহায্য পাঠিয়ে দেয়। ৬০ বছর বয়স পূর্ণ হলে মাসে ৩,০০০ টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়ার রাস্তাও সহজ হয়ে যায়। এছাড়া বিনামূল্যে দক্ষতা বৃদ্ধির প্রশিক্ষণ, নতুন কাজের সুযোগ সম্পর্কে তথ্য — এসবও পাওয়া যায় এই কার্ডের মাধ্যমে।
কারা আবেদনের যোগ্য?
গৃহকর্মী, দিনমজুর, রিকশাচালক, পরিযায়ী শ্রমিক কিংবা কৃষক — দেশের প্রায় সব ধরনের অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীই এই কার্ডের জন্য আবেদন করতে পারেন। বয়স হতে হবে ১৬ থেকে ৫৯ বছরের মধ্যে। তবে আয়করদাতা বা সরকারি চাকরিজীবী হলে আবেদন করা যাবে না, আর যাঁরা ইপিএফও বা ইএসআইসি-র সদস্য, তাঁরাও এই কার্ডের আওতায় পড়বেন না।
কী কী নথি লাগবে?
আবেদনের জন্য জটিল কোনও কাগজপত্রের দরকার নেই। প্রয়োজন শুধু একটা বৈধ আধার কার্ড, আধারের সঙ্গে যুক্ত সচল একটা মোবাইল নম্বর, আর ব্যাঙ্কের সঠিক অ্যাকাউন্ট নম্বর ও আইএফএসসি কোড।
কীভাবে আবেদন করবেন?
প্রথমে যেতে হবে ই-শ্রমের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে। হোমপেজে থাকা ‘রেজিস্টার অন ই-শ্রম’ অপশনে ক্লিক করে, আধার সংযুক্ত মোবাইল নম্বর দিয়ে ওটিপি যাচাই করতে হবে। এরপর নাম, বর্তমান ঠিকানা, পেশা আর ব্যাঙ্কের তথ্য পূরণ করে সাবমিট করলেই সরাসরি স্ক্রিন থেকে কার্ড ডাউনলোড করা যাবে।
আরও পড়ুন: আয়ুষ্মান ভারত কার্ড পেলে, স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের কী হবে? জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী
সব মিলিয়ে বলা যায়, যাঁরা এখনও কোনও সংগঠিত প্রতিষ্ঠানের বাইরে কাজ করছেন, তাঁদের জন্য এই কার্ড ভবিষ্যতের একটা বড় আর্থিক ভরসা হয়ে উঠতে পারে। পুরো প্রক্রিয়াটা ঘরে বসেই, বিনামূল্যে সম্পন্ন করা যায়, তাই দেরি না করে যোগ্য প্রত্যেকের উচিত এখনই এই কার্ডের জন্য আবেদন করে ফেলা।
