উৎসবের মরশুম শুরু হতেই দেশের কোটি কোটি কৃষকের নজর প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মান নিধি যোজনার (PM Kisan Samman Nidhi Yojana) পরবর্তী কিস্তির দিকে। দুর্গাপুজো ও উৎসবের আবহে কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে কিষান নিধির অনুদান জমা পড়বে কি না, তা নিয়ে আগ্রহ তুঙ্গে। তবে কেন্দ্রীয় কৃষি মন্ত্রকের নিয়মিত সূচি ও পূর্ববর্তী কিস্তির সময়ের দিকে তাকালে দেখা যাচ্ছে, উৎসবের ঠিক মুখে এই টাকা মেলার সম্ভাবনা কার্যত নেই বললেই চলে।
দুর্গাপুজোর সময়ে PM কিষানের টাকা ঢুকবে না?
কেন্দ্রীয় সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, পিএম কিষান প্রকল্পের আওতায় নথিভুক্ত কৃষকদের বছরে মোট ৬,০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এই অনুদান বছরে তিনটি সমান কিস্তিতে—প্রতিটিতে ২,০০০ টাকা করে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে (DBT) পাঠানো হয়।
সাধারণ নিয়ম হিসেবে প্রতি চার মাস অন্তর একটি করে কিস্তি ছাড়ার চল রয়েছে। চলতি বছরে আগের কিস্তির টাকা কৃষকদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়ার পর এখনও পর্যাপ্ত সময় অতিক্রান্ত হয়নি। চার মাসের ব্যবধান পূরণ না হওয়ায় পুজোর দিনগুলিতেই পরবর্তী কিস্তির টাকা ছাড়া সম্ভব নয় বলেই প্রশাসনিক সূত্রে ইঙ্গিত মিলছে।
PM কিষান পরের কিস্তির টাকা কবে ঢুকতে পারে?
পিএম কিষানের নিয়ম অনুযায়ী, যোগ্য কৃষকদের বছরে মোট তিনটি কিস্তিতে ২,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। এই সহায়তা সাধারণত তিনটি নির্দিষ্ট চক্রে (এপ্রিল-জুলাই, অগাস্ট-নভেম্বর এবং ডিসেম্বর-মার্চ) ছাড়া হয়ে থাকে।
সরকারের পক্ষ থেকে এখনও পরবর্তী কিস্তি ছাড়ার কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি।
তবে সরকারি পেমেন্ট সাইকেল এবং নিয়মমাফিক ব্যবধান অনুযায়ী, চলতি বছরের অক্টোবর মাসের শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বর মাসের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে কৃষকদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে এই কিস্তির টাকা জমা পড়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।
পিএম কিষানের টাকা পাওয়ার শর্ত!
অনেক ক্ষেত্রে সময়মতো কিস্তি ছাড়া হলেও বহু কৃষকের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছায় না মূলত কিছু কাগজপত্রের ত্রুটির কারণে। কৃষি মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, পরবর্তী কিস্তির সুবিধা পেতে কৃষকদের তিনটি বিষয় অবশ্যই সম্পন্ন রাখতে হবে:
ই-কেওয়াইসি (e-KYC): পিএম কিষানের অফিসিয়াল পোর্টাল বা নিকটবর্তী সিএসসি (CSC) সেন্টারে গিয়ে আধারভিত্তিক বায়োমেট্রিক বা ওটিপি কেওয়াইসি সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক।
জমি সংক্রান্ত নথির যাচাই (Land Seeding): সংশ্লিষ্ট কৃষকের নামে থাকা চাষযোগ্য জমির নথিপত্র রাজ্য সরকারের পোর্টালে যাচাই ও সংযুক্ত থাকতে হবে।
ডিবিটি সক্রিয় ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট: ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার নম্বর লিঙ্ক থাকা এবং ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) বিকল্পটি চালু থাকা জরুরি।
আরও পড়ুন: রাজ্যে ৪৫,১৮৫টি শূন্যপদে নিয়োগের অনুমোদন, কোথায় কত চাকরি হবে দেখুন
যেসব কৃষকের এই তিনটির কোনো একটি অসম্পূর্ণ থাকবে, তাঁদের কিস্তির টাকা আটকে যেতে পারে। কৃষকরা পিএম কিষানের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট (pmkisan.gov.in)-এ গিয়ে ‘Know Your Status’ বিকল্প থেকে তাঁদের নাম ও নথিপত্রের বর্তমান স্থিতি যাচাই করে নিতে পারেন।
