IDBI Bank: বিদেশী কোম্পানির কাছে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে এই ব্যাঙ্ক, গ্রাহকদের টাকার কী হবে?

ভারতের ব্যাংকিং ক্ষেত্রে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল নরেন্দ্র মোদী মন্ত্রিসভা। দীর্ঘদিন ধরে চলা জল্পনার অবসান ঘটিয়ে আইডিবিআই ব্যাংকের (IDBI Bank) সিংহভাগ মালিকানা বিক্রির প্রস্তাবে চূড়ান্ত সিলমোহর দিয়েছে কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার অর্থনৈতিক বিষয়ক কমিটি (CCEA)।

কানাডাভিত্তিক বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান ‘ফেয়ারফ্যাক্স ফিনান্সিয়াল হোল্ডিংস’-এর অধীনস্থ সংস্থা ‘কানাডা ইনকর্পোরেশন’-এর কাছে ব্যাংকের ৬০.৭২ শতাংশ শেয়ার হস্তান্তর করা হচ্ছে। মোট ৫২,৮৭৮.০৮ কোটি টাকার এই চুক্তিকে দেশের আর্থিক ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (FDI) এবং এয়ার ইন্ডিয়ার পর বৃহত্তম কৌশলগত বিলগ্নীকরণ চুক্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

IDBI ব্যাঙ্কের অংশীদারিত্ব বণ্টনের অনুপাত

বর্তমানে আইডিবিআই ব্যাংকে কেন্দ্রীয় সরকার ও ভারতীয় জীবন বিমা নিগমের (LIC) মিলিত শেয়ার রয়েছে প্রায় ৯৪.৭১ শতাংশ। নতুন সমঝোতা অনুযায়ী দুই পক্ষই তাদের অংশীদারিত্বের একাংশ ছাড়ছে:

  • কেন্দ্রীয় সরকার: নিজেদের হাতে থাকা শেয়ারের ৩০.৪৮ শতাংশ বিক্রি করবে।

  • এলআইসি (LIC): তাদের অংশীদারিত্বের ৩০.২৪ শতাংশ বিক্রি করবে।

  • ক্রেতা সংস্থা: কানাডার ফেয়ারফ্যাক্স গ্রুপ মোট ৬০.৭২ শতাংশ শেয়ার অধিগ্রহণ করবে। প্রতি শেয়ারের মূল্য নির্ধারিত হয়েছে ৮১ টাকা।

এই শেয়ার হস্তান্তরের পরও ব্যাংক থেকে সরকারি নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হচ্ছে না। চুক্তির শর্তানুযায়ী, কেন্দ্রের ১৫ শতাংশ এবং এলআইসির হাতে ১৯ শতাংশ অংশীদারিত্ব বজায় থাকবে। অর্থাৎ, অবশিষ্ট ৩৪ শতাংশ শেয়ার সম্মিলিতভাবে সরকারি ও আধা-সরকারি সংস্থার হাতেই থেকে যাবে।

ব্যাঙ্কের গ্রাহকদের আমানত ও ব্যাঙ্কিং পরিষেবা 

মালিকানা বদলের খবরে ব্যাংকের কোটি কোটি গ্রাহকের মনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। তবে অর্থনৈতিক বিশ্লেষক ও প্রশাসনিক সূত্রে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, গ্রাহকদের সঞ্চিত টাকা বা আমানতের ওপর এই সিদ্ধান্তের কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।

ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের (RBI) কঠোর নজরদারি ও নিয়মের অধীনেই ব্যাংকটি পরিচালিত হবে। আমানত বিমা ও ঋণ নিশ্চয়তা কর্পোরেশন (DICGC)-এর নিয়ম অনুযায়ী পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত সম্পূর্ণ বিমাকৃত থাকবে। উল্টে আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থার পরিচালনায় ব্যাংকের প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিকায়ন, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে (MSME) ঋণ প্রদান এবং সার্বিক পরিষেবা আরো উন্নত হবে বলেই আশা করা হচ্ছে।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

আরও পড়ুন: রাজ্যে ৪৫,১৮৫টি শূন্যপদে নিয়োগের অনুমোদন, কোথায় কত চাকরি হবে দেখুন

প্রয়োজনীয় আইনি ছাড়পত্র ও আরবিআই-এর নির্ধারিত রূপরেখা সম্পন্ন করার মাধ্যমে আগামী ২০২৭ সালের ৩১ মার্চের মধ্যে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে অর্থ মন্ত্রক।

Leave a Comment