পুজোর মুখে রাজ্যের মহিলাদের নজর এখন অন্নপূর্ণা যোজনার মাসিক ৩০০০ টাকার আর্থিক সহায়তার দিকে। মাসের মাঝামাঝি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনও উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে অনুদানের অর্থ জমা না পড়ায় নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
এর মধ্যেই উপভোক্তা তালিকায় বড়সড় কাটছাঁটের ইঙ্গিত মিলছে। নথিপত্র স্ক্রুটিনি ও সরকারি নিয়মের বেড়াজালে অক্টোবর মাসে তালিকা থেকে বহু মহিলার নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
কাদের নাম বাদ পড়তে চলেছে?
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, তালিকায় অসঙ্গতি দূর করতে এবং জোড়া প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া আটকাতেই মূলত এই পদক্ষেপ করা হচ্ছে:
একাধিক প্রকল্পের সুবিধা গ্রহণ: নিয়মানুযায়ী কোনো উপভোক্তা একসঙ্গে দুটি সরকারি ভাতা বা প্রকল্পের সুবিধা নিতে পারেন না। বহু মহিলা বিধবা ভাতার সুবিধা পাওয়ার পাশাপাশি অন্নপূর্ণা যোজনাতেও নাম নথিভুক্ত করেছিলেন। সরকারের স্পষ্ট নির্দেশ, বিধবা ভাতার সুবিধা চালু থাকলে অন্নপূর্ণা যোজনার তালিকায় নাম রাখা যাবে না। যাঁরা আগের প্রকল্প থেকে নাম প্রত্যাহার করেননি, তাঁদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ দেওয়া হচ্ছে।
ভুয়ো ও ত্রুটিপূর্ণ আবেদন: অনলাইন এবং অফলাইনে আবেদন জমা নেওয়ার সময় বেশ কিছু ক্ষেত্রে অসত্য ও অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়ার অভিযোগ সামনে আসে। তথ্য পুনর্যাচাইয়ের পর যোগ্যতার মাপকাঠিতে না টেকা আবেদনপত্রগুলি বাতিল করা হচ্ছে।
অন্নপূর্নার টাকা নিয়ে আপডেট
প্রতি মাসের নির্দিষ্ট সময়ে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পাঠানো হলেও উৎসবের এই মাসে এখনও কোনো সরকারি ছাড়পত্রের বিজ্ঞপ্তি মেলেনি। গত মাসে উপভোক্তার সংখ্যা এক কোটি ৫৮ লাখে পৌঁছেছিল। তবে চলতি মাসে নতুন করে তথ্য যাচাইয়ের প্রক্রিয়া চলায় এবং সরকারি ছুটির দিন এগিয়ে আসায় অর্থ ছাড়ার প্রক্রিয়ায় সাময়িক বিলম্ব ঘটছে বলে মনে করা হচ্ছে।
যাঁরা সমস্ত নিয়ম ও যোগ্যতার শর্ত পূরণ করেছেন, তাঁদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই বলেই জানা গিয়েছে। তবে যাঁদের কাগজপত্রে ত্রুটি রয়েছে বা যাঁরা অন্য কোনো ভাতার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, তাঁদের নাম বাদ যাওয়া এখন কার্যত সময়ের অপেক্ষা।
