রাজ্যজুড়ে তিন দিনের সেবা সেতু অভিযান ৪ অক্টোবর শেষ হয়ে গেছে। যাঁরা ক্যাম্পে যেতে পারেননি, তাঁদের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন, আবেদনের সুযোগ কি তাহলে ফুরিয়ে গেল? উত্তর হলো, না। কোন প্রকল্পের জন্য কোথায় যেতে হবে, সেটা বুঝে নিলে অন্য সরকারি মাধ্যমেও কাজ সারা সম্ভব।
প্রথমে ঠিক করুন কোন প্রকল্পে আবেদন করবেন?
সব প্রকল্পের আবেদন পদ্ধতি এক নয়। কোনওটায় অনলাইন পোর্টালে আবেদন চলে, কোনওটায় সংশ্লিষ্ট দফতরে গিয়ে ফর্ম জমা দিতে হয়। তাই বেরোনোর আগে নিজের প্রকল্পের নিয়ম একবার দেখে নেওয়া ভালো।
বাংলা সহায়তা কেন্দ্র (BSK)
সবচেয়ে সহজ ঠিকানা হতে পারে নিজের এলাকার বাংলা সহায়তা কেন্দ্র। এখানে বিভিন্ন সরকারি পরিষেবার অনলাইন আবেদনে সাহায্য মেলে। তবে প্রত্যেক প্রকল্পে BSK-এর মাধ্যমে আবেদন চলে কিনা, তা আগে জেনে নিতে হবে।
BDO ও SDO অফিস
গ্রামের বাসিন্দারা নিজের ব্লকের BDO অফিসে খোঁজ নিতে পারেন। শহর বা মহকুমা এলাকায় SDO অফিস থেকে তথ্য পাওয়া যাবে। বিশেষ করে বিভিন্ন ভাতা, সামাজিক সুরক্ষা আর স্থানীয় প্রশাসনের হাতে থাকা প্রকল্পের ক্ষেত্রে এই অফিসগুলো কাজে আসে।
অনলাইন পোর্টাল
কিছু প্রকল্পের আলাদা সরকারি পোর্টাল আছে। কৃষি-সংক্রান্ত প্রকল্পে কৃষি দফতরের আধিকারিকের সঙ্গে বা সংশ্লিষ্ট পোর্টালে যোগাযোগ করা যায়। পড়ুয়াদের স্কলারশিপের জন্যও আলাদা পোর্টাল রয়েছে।
হাতের কাছে রাখুন এই নথিগুলো
প্রকল্পভেদে নথি বদলায়, তবে এই কাগজগুলো সাধারণত লাগে:
- আধার কার্ড
- ভোটার কার্ড
- ব্যাঙ্ক পাসবইয়ের প্রথম পাতার কপি
- পাসপোর্ট সাইজ ছবি
- চালু মোবাইল নম্বর
- জাতিগত শংসাপত্র (প্রযোজ্য হলে)
অনলাইনে আবেদন করলে এগুলোর স্ক্যান কপি বা ছবি আপলোড করতে হতে পারে।
যদি কোনও প্রকল্পের আবেদনের সুযোগ না থাকে
কিছু প্রকল্পে আবেদন শুধু ক্যাম্পের মাধ্যমেই নেওয়া হয়, বা এই মুহূর্তে অন্য কোনও পথ খোলা নেই। সেক্ষেত্রে পরবর্তী ক্যাম্পের খবরের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। নিজের পঞ্চায়েত, পুরসভা বা BDO অফিসের নোটিসে পরের শিবিরের তথ্য মিলবে।
আরও পড়ুন: নব দিশা কর্মসূচি-১২ হাজার টাকা পুজোর আগে মিলবে, আপনি পাবেন কি দেখুন
সব মিলিয়ে, ক্যাম্পে যেতে না পারলেও সুযোগ হারিয়ে যায়নি। নিজের প্রকল্পের নিয়ম যাচাই করে সঠিক দফতরে গেলেই আবেদনের পথ খোলা।
