সবে কর্মজীবনে পা রেখেছেন, বা শিগগিরই রাখতে চলেছেন? তাহলে কেন্দ্রীয় সরকারের ‘প্রধানমন্ত্রী বিকশিত ভারত রোজগার যোজনা’ (PM Viksit Bharat Rozgar Yojana) সম্পর্কে আপনার জানা দরকার। সংগঠিত ক্ষেত্রে প্রথমবার চাকরি শুরু করা যোগ্য কর্মীরা এই প্রকল্পে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ইনসেনটিভ পান, যার সর্বোচ্চ অঙ্ক ১৫ হাজার টাকা।
কারা এই সুবিধা পাবেন?
প্রকল্পে যোগ্য হতে কয়েকটা শর্ত মানতে হবে:
- এটা আপনার জীবনের প্রথম EPFO-ভুক্ত চাকরি হতে হবে। ১ আগস্ট ২০২৫-এর আগে আপনি EPFO বা কোনও অনুমোদিত ট্রাস্টের চাঁদাদাতা সদস্য থাকলে চলবে না।
- চাকরিতে যোগদানের তারিখ হতে হবে ১ আগস্ট ২০২৫ থেকে ৩১ জুলাই ২০২৭-এর মধ্যে।
- মাসিক বেতন সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা হতে হবে।
- একই প্রতিষ্ঠানে টানা অন্তত ছয় মাস কাজ করতে হবে।
টাকা কখন, কত করে আসবে?
ইনসেনটিভের অঙ্ক নির্ধারণ হয় আপনার এক মাসের EPF বেতনের ভিত্তিতে, সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা। টাকাটা একসঙ্গে মেলে না, দুই কিস্তিতে ভাগ হয়:
- প্রথম কিস্তি: ছয় মাসের টানা চাকরি পূর্ণ হলে, সর্বোচ্চ ৭,৫০০ টাকা
- দ্বিতীয় কিস্তি: ১২ মাসের চাকরি পূর্ণ হলে এবং ফিনান্সিয়াল লিটারেসি কোর্স শেষ করলে, বাকি ৭,৫০০ টাকা
টাকা পাঠানো হয় ডিবিটি (DBT) পদ্ধতিতে, আধার-সংযুক্ত ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে।
টাকা পেতে আগে থেকে যা করতে হবে
প্রযুক্তিগত দিকটা অবহেলা করলে টাকা আটকে যেতে পারে, তাই এই কাজগুলো গুছিয়ে রাখুন:
- আপনার ইউনিভার্সাল অ্যাকাউন্ট নম্বর (UAN) সক্রিয় আছে কিনা দেখুন
- উমাং (UMANG) অ্যাপে ফেস অথেন্টিকেশন সম্পূর্ণ করুন
- ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট আধারের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কিনা নিশ্চিত করুন
- দ্বিতীয় কিস্তির জন্য ফিনান্সিয়াল লিটারেসি কোর্স শেষ করতে ভুলবেন না
নিয়োগকর্তারাও সুবিধা পান
এই প্রকল্প শুধু কর্মীদের জন্য নয়। EPFO-নথিভুক্ত প্রতিষ্ঠান অতিরিক্ত কর্মী নিলে তারাও সরকারের তরফে আর্থিক সহায়তা পায়, যা নতুন কর্মসংস্থান তৈরিতে উৎসাহ জোগাবে।
বিস্তারিত একনজরে
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| সর্বোচ্চ সুবিধা | ১৫,০০০ টাকা |
| প্রথম কিস্তি | ৬ মাস চাকরির পর |
| দ্বিতীয় কিস্তি | ১২ মাস চাকরি ও কোর্স শেষে |
| বেতন সীমা | মাসে সর্বোচ্চ ১ লক্ষ টাকা |
| চাকরিতে যোগদানের সময়সীমা | ১ আগস্ট ২০২৫ – ৩১ জুলাই ২০২৭ |
আরও পড়ুন: সেবা সেতু ক্যাম্প শেষ! সরকারি প্রকল্পে আবেদনের জন্য এখন কোথায় যাবেন
সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রথম চাকরিতে ঢোকা তরুণদের জন্য এই প্রকল্প কর্মজীবনের শুরুতেই একটা আর্থিক ভরসা। তবে শর্ত আর নথিগুলো আগে থেকে মিলিয়ে না রাখলে সুবিধা হাতছাড়া হতে পারে, তাই চাকরিতে যোগ দেওয়ার পরই UAN আর ব্যাঙ্কের তথ্য যাচাই করে নেওয়া ভালো।
