এলপিজি নিয়ে গত কয়েক দিনে একাধিক নিয়মে বদল এসেছে। মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতির জেরে দুটো সিলিন্ডার বুকিংয়ের মধ্যে সময়ের ব্যবধান সাময়িকভাবে বাড়ানো হয়েছিল, যদিও এখন তা আবার আগের নিয়মেই ফিরে এসেছে। এরই মধ্যে সিলিন্ডারের বদলে পাইপড গ্যাস বা PNG-র দিকে গ্রাহকদের উৎসাহিত করতে কেন্দ্র শুরু করেছে একেবারে নতুন একটা কর্মসূচি — ‘ন্যাশনাল পিএনজি ড্রাইভ ৩.০’।
৫০ লাখ নতুন কানেকশন, বুক করতে হবেনা গ্যাস
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা PNGRB-র যৌথ উদ্যোগে এই অভিযান চলবে ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত। লক্ষ্য তিনটে ভাগে ভাগ করা — দেশজুড়ে ৫০ লক্ষ বাড়িতে একেবারে নতুন সংযোগ বসানো, আগে নেওয়া অথচ এখন ব্যবহার হয় না এমন প্রায় ৪০ লক্ষ নিষ্ক্রিয় সংযোগ ফের চালু করা, আর আলাদাভাবে আরও ৫০ লক্ষ নতুন নথিভুক্তিকরণ।
সিলিন্ডার Vs পাইপড গ্যাস
পাইপড গ্যাসের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, বাড়িতে সিলিন্ডার মজুত রাখার দরকার পড়ে না — রান্নাঘরে সরাসরি পাইপ দিয়ে গ্যাস পৌঁছে যায়। ফলে সিলিন্ডার শেষ হয়ে যাওয়ার পর বুকিং করা বা ডেলিভারির জন্য বসে থাকতে হয় না। সরকারের এই উদ্যোগ থেকেই স্পষ্ট, বেশি মানুষ PNG-তে সরে গেলে এলপিজি সিলিন্ডারের চাহিদা অনেকটাই কমে আসবে।
প্রতি মাসে আসবে বিল
PNG ব্যবহারে বাড়িতে মিটার বসানো থাকে, আর যতটা গ্যাস খরচ হয়, ঠিক ততটার জন্যই বিল আসে। তবে এখনও সব এলাকায় এই পরিষেবা পৌঁছয়নি, আর সংযোগের খরচ, মাসিক বিল ও স্থানীয় দাম — এসব নির্ভর করে সংশ্লিষ্ট এলাকার গ্যাস বিতরণ সংস্থার উপর।
শুধু নতুন সংযোগই নয়, পুরনোগুলোও সক্রিয় করার চেষ্টা
IANS-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, এই অভিযানের লক্ষ্য শুধু নতুন বাড়িতে পৌঁছনো নয় — দেশে এমনিতেই বিপুল সংখ্যক PNG সংযোগ থাকলেও তার একটা বড় অংশ এখন ব্যবহারই হয় না। সেই প্রায় ৪০ লক্ষ নিষ্ক্রিয় সংযোগকে ফের কাজে লাগানোও সমান গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
কারা এই সুবিধা আগে পাবে?
যাঁদের এলাকায় PNG পাইপলাইন ইতিমধ্যে পৌঁছে গেছে বা শীঘ্রই পৌঁছনোর সম্ভাবনা আছে, তাঁরা ভবিষ্যতে সিলিন্ডারের বদলে পাইপলাইনের গ্যাস ব্যবহারের সুযোগ পেতে পারেন। তবে কোনও পরিবারের জন্য এটা সত্যিই সুবিধাজনক হবে কিনা, তা নির্ভর করবে এলাকায় পরিষেবার উপলভ্যতা, সংযোগের খরচ আর গ্যাসের দামের উপর।
আরও পড়ুন: ৬ মাসের রিচার্জ ফ্রি দিচ্ছে জিও! Jio–র ১০ বছর পূর্তিতে এই অফার
সরকার এই গোটা উদ্যোগকে দেখছে দেশে গ্যাসের প্রাপ্যতা বাড়ানো এবং ‘ওয়ান নেশন, ওয়ান গ্যাস গ্রিড’ লক্ষ্যের দিকে এগোনোর একটা বড় পদক্ষেপ হিসেবে।
