রাজ্যের শিক্ষিত অথচ কর্মহীন যুবক-যুবতীদের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এল যুবশক্তি প্রকল্প (Yuva Shakti Scheme)। বেকার ভাতার পুরনো নিয়মে বড়সড় বদল এনে এবার ভাতার পরিমাণ দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চাকরি খোঁজার সময়টাতে প্রার্থীরা যাতে নিজের দৈনন্দিন খরচ চালাতে পারেন, মূলত সেই লক্ষ্য নিয়েই যুবশক্তি ভরসা কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ভাতা পাঠানো হবে।
যুবশক্তি প্রকল্পে প্রতি মাসে ২০০০-৩০০০ টাকা পাবেন?
শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে দুটো আলাদা স্তরে ভাতা ঠিক করা হয়েছে। মাধ্যমিক উত্তীর্ণ প্রার্থীরা পাবেন মাসে ২ হাজার টাকা, আর স্নাতক বা তার বেশি যোগ্যতাসম্পন্নরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা। সব ঠিকঠাক থাকলে অক্টোবর মাস থেকেই আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে, আর নভেম্বর থেকে নিয়মিত টাকা ঢোকা শুরু হবে বলে জানা যাচ্ছে।
যুবশক্তি প্রকল্পের জন্য কারা আবেদনের যোগ্য?
আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে, বয়স হতে হবে ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে, আর সম্পূর্ণ কর্মহীন থাকতে হবে। ন্যূনতম মাধ্যমিক পাশ যোগ্যতা বাধ্যতামূলক। এছাড়া অন্য কোনও সরকারি বৃত্তি বা ভাতা ইতিমধ্যে পেয়ে থাকলে এই প্রকল্পে আবেদন করা যাবে না।
এই ৭ টি ডকুমেন্ট রেডি করে রাখুন
আবেদনের সময় সামান্য ভুল বা কোনও নথি বাদ পড়লেই আবেদন বাতিল হয়ে যেতে পারে। তাই আগে থেকেই নিচের নথিগুলো গুছিয়ে রাখা জরুরি —
- আধার কার্ড
- ভোটার কার্ড
- জন্ম শংসাপত্র বা মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড (বয়সের প্রমাণ)
- শিক্ষাগত যোগ্যতার মার্কশিট ও সার্টিফিকেট
- সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি
- ব্যাঙ্কের পাসবই (আধার লিঙ্কযুক্ত)
- এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সার্টিফিকেট (প্রয়োজন হতে পারে)
বি:দ্র: এই ডকুমেন্টগুলি এখন এখন হাতের কাছে রেডি করে রাখুন। যেহেতু এখনও পর্যন্ত যুবশক্তি প্রকল্পের জন্য সরকারি গাইডলাইন প্রকাশিত হয়নি তাই একেবারে সঠিক তথ্য জানা যায়নি। সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হলে এই সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যাবে।
আবেদন কীভাবে করবেন?
সূত্র অনুযায়ী জানা গেছে যে, আগামী অক্টোবর মাস থেকেই এই প্রকল্পে আবেদন শুরু হয়ে যাবে। প্রশাসনিক সূত্রে জানা যাচ্ছে, অনলাইন ও অফলাইন — দুই মাধ্যমেই আবেদনের সুযোগ থাকতে পারে। তবে যেহেতু রাজ্য সরকারের তরফে এখনও চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়নি, তাই আবেদনের নির্দিষ্ট পোর্টাল ও পদ্ধতি নিয়ে এখনই স্পষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ামাত্রই পুরো প্রক্রিয়া পরিষ্কার হয়ে যাবে।
আরও পড়ুন: ২ অক্টোবর থেকে সারা রাজ্যে জনকল্যাণ শিবির বসবে, আপনার এলাকায় কোথায় এক্ষুনি দেখুন
একটা বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি — সরকারি বিজ্ঞপ্তি না আসা পর্যন্ত কোনও অপরিচিত ওয়েবসাইটে ব্যক্তিগত তথ্য জমা দেওয়া থেকে বিরত থাকাই ভালো।
সব মিলিয়ে বলা যায়, যাঁরা যুবশক্তির সুবিধা নিতে চান, তাঁদের এখন থেকেই সমস্ত নথি প্রস্তুত করে রাখা উচিত, যাতে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নির্দ্বিধায় আবেদন করে ফেলা যায়।
