দৈনন্দিন লেনদেনের ক্ষেত্রে পকেটে রাখা কাগজের টাকা ভিজে যাওয়া, ছিঁড়ে যাওয়া বা ময়লা হয়ে নষ্ট হয়ে যাওয়া খুবই সাধারণ সমস্যা। তবে এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান নিয়ে আসছে দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্ক রিজার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া (RBI)। দীর্ঘ আলোচনার পর এবার ভারতীয় বাজারে আসতে চলেছে প্লাস্টিক বা পলিমারের নোট।
প্রাথমিকভাবে সব টাকার নোট নয়, বাজারে সবচেয়ে বেশি হাতবদল হওয়া ১০ টাকা ও ২০ টাকার নোট দিয়ে এই পরীক্ষামূলক কাজ শুরু করতে চলেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। এই উদ্যোগ সফল হলে আগামী দিনে অন্যান্য মূল্যের কাগজের নোটও ধাপে ধাপে প্লাস্টিকের নোটে বদলে ফেলা হতে পারে।
কবে হাতে আসতে পারে এই নতুন নোট?
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সূত্রে খবর, নতুন এই প্লাস্টিক নোটের পাইলট প্রজেক্ট শুরু করার জন্য জোরকদমে প্রস্তুতি চলছে। আগামী আর্থিক বছর অর্থাৎ ২০২৭ সালের ১ এপ্রিল থেকেই সাধারণ মানুষের হাতে এই নতুন ১০ ও ২০ টাকার পলিমার নোট পৌঁছাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক প্রাথমিক দফায় মোট ২০০ কোটি (২ বিলিয়ন) প্লাস্টিকের নোট বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করেছে। এর মধ্যে থাকবে ১০০ কোটি ১০ টাকার নোট এবং ১০০ কোটি ২০ টাকার নোট।
প্লাস্টিক নোট ব্যবহারের সুবিধা কী?
১. অনেক বেশি টেকসই: সাধারণ কাগজের নোটের তুলনায় এই পলিমার বা প্লাস্টিকের নোট সহজে ছেঁড়ে না এবং জলে ভিজলেও নষ্ট হয় না।
২. দীর্ঘদিন টিকে থাকে: বিশ্বে প্রথম অস্ট্রেলিয়াতে এই নোট চালু হয়েছিল। বিশ্বের প্রায় ৫০টিরও বেশি দেশে এই নোট সফলভাবে চলছে এবং বহু বছর ধরে এগুলো কোনো ক্ষতি ছাড়াই ব্যবহার করা যায়।
৩. সরকারের খরচ কমবে: সাধারণ কাগজের নোট দ্রুত নষ্ট হয়ে যায় বলে সরকারকে বারবার নতুন নোট ছাপাতে হয়। প্লাস্টিক নোটের আয়ু বেশি হওয়ায় বারবার টাকা ছাপানোর বিশাল খরচ অনেকটাই বেঁচে যাবে।
আরও পড়ুন: নভেম্বর মাস পড়তেই বাড়ল গ্যাসের দাম! নতুন রেট জেনে নিন
এটিএম এবং নোটের মাপ নিয়ে স্বস্তি
নতুন নোট বাজারে এলেই এটিএম (ATM) মেশিন নিয়ে মানুষের মনে একটা চিন্তা তৈরি হয়। তবে জানা গিয়েছে, নতুন প্লাস্টিক নোটের মাপ ও আকার বর্তমান কাগজের নোটের মতোই রাখা হচ্ছে। মাপ না বদলানোর কারণে ব্যাঙ্কগুলিকে নতুন করে এটিএম মেশিন বদলাতে বা অতিরিক্ত খরচ করতে হবে না। ফলে এটিএম থেকে টাকা তোলা বা সাধারণ লেনদেনে কোনও সমস্যা হবে না।
