সরকারি অফিসে কাজের কোনো কাগজ বা ফাইল জমা দিলে তা মাসের পর মাস এক টেবিলে পড়ে থাকে—এমন অভিযোগ আমরা প্রায়ই শুনে থাকি। এক দফতর থেকে আরেক দফতরে কাগজ চালাচালি হতেই বছরের পর বছর পার হয়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষের জন্য তৈরি ভালো ভালো সরকারি প্রকল্পগুলোর কাজ অনেক সময় মাঝপথে আটকে থাকে, টাকা বরাদ্দ পেতেও অনেক দেরি হয়।
সরকারি এই ঢিলেমি ও কাজের গড়িমসি বন্ধ করতে এবার অত্যন্ত কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে রাজ্য সরকার (নবান্ন)।
৭ দিনের মধ্যে কাজ মেটাতে হবে
মুখ্যসচিবের দফতর থেকে সব সরকারি দফতরে পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—এখন থেকে অন্য কোনো দফতর থেকে আসা কোনো চিঠি, কাজের আবেদন বা ফাইল সর্বোচ্চ ৭ দিনের (কাজের দিন) মধ্যে দেখে সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ মিটিয়ে ফেলতে হবে। অকারণে কোনো ফাইল ফেলে রাখা যাবে না।
নবান্নের কড়া নির্দেশিকা
৭ দিনের সময়সীমা: কোনো মতামত বা অনুমোদনের জন্য ফাইল এলে তা আর মাসের পর মাস ফেলে রাখা চলবে না; ৭ দিনের মধ্যেই তা ছাড়তে হবে।
বড় কর্তাদের নিয়মিত নজরদারি: কোনো দফতরে পুরনো কোনো ফাইল আটকে আছে কি না, তা দফতরের বড় সচিবদের নিয়মিত বৈঠক করে খতিয়ে দেখতে হবে।
সমস্যা হলে সরাসরি বড় কর্তার কাছে: যদি দুই দফতরের মধ্যে কোনো ফাইল নিয়ে মতের অমিল হয় বা কাজ আটকে যায়, তবে তা চেপে রাখা যাবে না। সরাসরি রাজ্যের মুখ্যসচিবের নজরে আনতে হবে।
এতে সাধারণ মানুষের কী লাভ হবে?
আমরা জানি, রাস্তা তৈরি, পানীয় জল বা সাধারণ মানুষের উপকারের জন্য নানা সরকারি প্রকল্পের টাকা ছাড়াতে অনেক সই-সাবুদের প্রয়োজন হয়। ফাইলগুলো যদি মাত্র ৭ দিনের মধ্যে এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে চলে যায়, তবে সরকারি প্রকল্পের কাজ আর মাঝপথে আটকে থাকবে না। এর ফলে সাধারণ মানুষ অনেক দ্রুত সরকারি সুযোগ-সুবিধা ও পরিষেবা নিজেদের হাতে পাবেন।
