রাজ্যের গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়ন ও স্থানীয় স্তরের পরিষেবাকে আরও গতিশীল করতে বড়সড় আর্থিক পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। দীর্ঘদিন পর ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থার জন্য অর্থ ছাড়ল নবান্ন। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, ষষ্ঠ রাজ্য অর্থ কমিশনের প্রথম কিস্তির বরাদ্দ হিসেবে মোট ৪৬৮ কোটি টাকার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে। এই বিপুল অর্থ রাজ্যের গ্রাম পঞ্চায়েত, পঞ্চায়েত সমিতি এবং জেলা পরিষদগুলির নিজস্ব তহবিলে জমা পড়তে চলেছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতি ও এলাকার উন্নয়নমূলক কাজকর্মে নতুন জোয়ার আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।
কোন স্তরে কত টাকা বরাদ্দ হচ্ছে?
প্রশাসনিক সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্য সরকারের তরফ থেকে ছাড়পত্র পাওয়া ৪৬৮ কোটি টাকার সিংহভাগই সরাসরি পৌঁছে যাবে তৃণমূল স্তরে:
গ্রাম পঞ্চায়েত: বরাদ্দ মোট অর্থের সিংহভাগ অর্থাৎ ৮০ শতাংশ সরাসরি পাবে গ্রাম পঞ্চায়েতগুলি। ফলে গ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা মেটানো এবং রাস্তাঘাট, নিকাশি ব্যবস্থা ও পানীয় জলের মতো জরুরি পরিকাঠামো দ্রুত মেরামত করা সম্ভব হবে।
পঞ্চায়েত সমিতি ও জেলা পরিষদ: বাকি ২০ শতাংশ অর্থ সমানভাগে ভাগ করে দেওয়া হবে। এর মধ্যে ১০ শতাংশ যাবে পঞ্চায়েত সমিতির তহবিলে এবং বাকি ১০ শতাংশ পৌঁছাবে জেলা পরিষদগুলির কোষাগারে।
চাহিদা এবং বরাদ্দ-এর অনুপাত
নবান্ন সূত্রের খবর, চলতি অর্থবর্ষে রাজ্য বাজেটে অর্থ কমিশনের আওতায় এই খাতের জন্য মোট ২,০৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল, যা দুটি কিস্তিতে মিটিয়ে দেওয়ার কথা। প্রথম কিস্তির অর্থ হিসেবে রাজ্যের পঞ্চায়েত ব্যবস্থার পক্ষ থেকে প্রায় ১,০২২ কোটি টাকা দাবি করা হয়েছিল। তবে বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে আপাতত প্রথম কিস্তিতে ৪৬৮ কোটি টাকা ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ দফতর। ফলে চাহিদার তুলনায় অর্থের পরিমাণ কিছুটা কম হলেও দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এই তহবিল হাতে আসায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রতিনিধিদের মধ্যে।
কোন কোন উন্নয়নমূলক কাজে খরচ হবে এই টাকা?
এই টাকা হাতে পাওয়ার পর পঞ্চায়েতগুলি স্থানীয় স্তরে একাধিক উন্নয়নমূলক প্রকল্পের কাজ হাতে নিতে পারবে। বিশেষ করে গ্রামীণ রাস্তা সংস্কার, পানীয় জলের পরিকাঠামো উন্নয়ন, বাজার ও জনবহুল এলাকার নিকাশি নালা তৈরি, পথবাতি বা সোলার লাইট স্থাপন এবং স্থানীয় প্রশাসনের দৈনন্দিন নাগরিক পরিষেবা সচল রাখতে এই বরাদ্দ অত্যন্ত সহায়ক হবে।
আরও পড়ুন: এক ধাক্কায় ৩ শতাংশ DA বাড়ছে, সরকারি কর্মীদের জন্য দারুন সুখবর
তবে পঞ্চায়েত স্তরে এই টাকার ব্যবহারে যাতে স্বচ্ছতা বজায় থাকে এবং কোনো নয়ছয় না হয়, সে বিষয়ে খুব শীঘ্রই বিস্তারিত গাইডলাইন বা নির্দেশিকা জারি করতে চলেছে পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর।
