রাজ্যের সাধারণ মানুষের জন্য ফের বড় সুযোগ নিয়ে আসছে রাজ্য প্রশাসন। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন রাজ্য সরকার আগামী নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের মধ্যে নতুন করে ৩ দিনের ‘জনকল্যাণ শিবির’ বা ‘সেবা সেতু অভিযান’ আয়োজন করতে চলেছে।
এর আগে অক্টোবর মাসের শুরুতে (২ থেকে ৪ অক্টোবর) রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে ৩ দিনের মেগা ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছিল। সেখানে সাধারণ মানুষের অভাবনীয় ভিড় ও ব্যাপক সাড়া দেখা যায়। কিন্তু অনেকেই সময়ের অভাব, নথিপত্রের ঘাটতি কিংবা অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে ফর্ম জমা দিতে পারেননি। তাঁদের কথা চিন্তা করেই ফের এই বিশেষ শিবিরের দিনক্ষণ ঠিক করা হচ্ছে।
বাদ পড়াদের জন্য বড় স্বস্তি
নতুন এই শিবির নিয়ে সরকারের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, আগের শিবিরে যারা কোনও কারণে অংশ নিতে পারেননি কিংবা যাঁদের নাম পুরনো তালিকার জটে আটকে বাদ পড়েছে, তাঁদের এই শিবিরে সরাসরি যুক্ত করা হবে।
পূর্ববর্তী সরকারের তৈরি দীর্ঘ ‘ওয়েটিং লিস্ট’-এর জটিলতা পাশে সরিয়ে রেখে, এই জনকল্যাণ শিবিরে জমা পড়া যোগ্য আবেদনকারীদের নামকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ফলে সাধারণ মানুষকে আর পঞ্চায়েত বা সরকারি দফতরে দফতরে ঘুরতে হবে না।
কোন কোন প্রকল্পের সুবিধা মিলবে?
এই ৩ দিনের বিশেষ শিবিরে কেন্দ্র ও রাজ্যের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের আবেদন গ্রহণ এবং সংশোধন করা হবে:
অন্নপূর্ণা যোজনা: মহিলাদের জন্য বরাদ্দ আর্থিক ভাতার নতুন আবেদন জমা এবং যাঁদের টাকা ঢুকতে সমস্যা হচ্ছিল, তাঁদের কাগজপত্র যাচাই করা হবে। নভেম্বরের কিস্তির টাকা যাতে নির্বিঘ্নে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়, তার ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
যুবশক্তি ভরসা কার্ড: রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের নিয়মিত আর্থিক ভাতা ও কর্মসংস্থানের সহায়তার জন্য এই বিশেষ কার্ডের নাম নথিভুক্তির কাজ শুরু হচ্ছে।
স্বাস্থ্য ও বয়স্ক ভাতা: বিনামূল্যে চিকিৎসার জন্য ‘আয়ুষ্মান ভারত’ কার্ডের আবেদন, বার্ধক্য ভাতা এবং বিধবা ভাতার মতো সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের নতুন নাম তোলা যাবে।
পিএম কিষান সম্মান নিধি: রাজ্যের কৃষকদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি টাকা পৌঁছে দেওয়ার জন্য নতুন আবেদন ও আধার সংযুক্তিকরণের কাজ হবে।
কবে এবং কোথায় বসবে এই জনকল্যাণ শিবির?
নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের মধ্যে রাজ্যজুড়ে প্রতিটি ব্লকে ও পুরসভা এলাকায় এই শিবিরগুলি আয়োজিত হবে। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, খুব শীঘ্রই সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি করে কোন ব্লকে বা এলাকায় ঠিক কোন কোন তারিখে ক্যাম্প বসবে, তা জানিয়ে দেওয়া হবে। সাধারণ মানুষ যাতে আগেভাগেই নিজেদের প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত রাখতে পারেন, সেই জন্য পঞ্চায়েত ও স্থানীয় প্রশাসনের তরফে এলাকায় এলাকায় প্রচারও চালানো হবে।
