ছেলে-মেয়েরা প্রতিদিন ৩০০ টাকা করে পাবে, নতুন এই প্রকল্পের জন্য ফর্ম জমা করুন

পশ্চিমবঙ্গের ছেলে-মেয়েরা প্রতিদিন ৩০০ টাকা করে পাবে, এমনই কথা জানিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে এবং সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের রুজি-রোজগার নিশ্চিত করতে দেশজুড়ে চালু হয়েছে নতুন গ্রামীণ কর্মসংস্থান প্রকল্প — ভিবি জি রামজি (VB-G-RAM-G), অর্থাৎ “বিকশিত ভারত গ্যারান্টি ফর রোজগার অ্যান্ড আজীবিকা মিশন (গ্রামীণ)”।

পুরনো ১০০ দিনের কাজের প্রকল্পের বদলে চলতি বছরের ১ জুলাই থেকে এই নতুন ব্যবস্থাই কার্যকর হয়েছে, আর জব কার্ড তৈরি ও কাজের সুযোগ নিয়ে গ্রামাঞ্চলে আগ্রহ এখন তুঙ্গে।

দিনে ৩০০ টাকা করে পাবে ছেলে-মেয়েরা

এই প্রকল্পের আওতায় কাজ করলে অদক্ষ শ্রমিকরা প্রতিদিন ৩০০ টাকা করে মজুরি পাবে, যা সরাসরি জমা হবে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। আগে যেখানে বছরে সর্বোচ্চ ১০০ দিন কাজের সুযোগ ছিল, এখন তা বাড়িয়ে ১২৫ দিন করা হয়েছে।

সেই হিসেবে পুরো ১২৫ দিনই কাজ পেলে একজন শ্রমিক বছরে সর্বোচ্চ ৩৭,৫০০ টাকা পর্যন্ত রোজগার করতে পারেন। শুধু অদক্ষ নয়, আধা-দক্ষ ও দক্ষ শ্রমিকদের জন্যও আলাদা, তুলনামূলক বেশি মজুরির হার রাখা হয়েছে।

প্রকল্প নিয়ে রাজ্যের লক্ষ্য

চলতি অর্থবর্ষের বাকি সময়ে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় ২৭ কোটি ২০ লক্ষ কর্মদিবস তৈরির লক্ষ্য নিয়েছে রাজ্য সরকার। এর মূল উদ্দেশ্য গ্রামীণ এলাকায় কর্মসংস্থান বাড়ানো, পরিকাঠামোর উন্নয়ন করা এবং সাধারণ মানুষের হাতে সরাসরি নগদ অর্থ পৌঁছে দেওয়া।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

একটা কার্ডে ক’জন আবেদন করতে পারেন?

একটা গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো, একই পরিবারের একাধিক প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য একটিমাত্র জব কার্ডের আওতাতেই কাজের জন্য আবেদন জানাতে পারেন। ফলে পরিবারে যত বেশি কর্মক্ষম সদস্য থাকবেন, বাড়ির মোট আয়ের সম্ভাবনাও তত বাড়ে।

কী কী নথি লাগবে?

আবেদনের সময় আবেদনকারী এবং কার্ডে অন্তর্ভুক্ত পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের জন্যই নিচের নথিগুলোর জেরক্স জমা দিতে হয় —

  • আধার কার্ড
  • ভোটার আইডি কার্ড
  • ব্যাঙ্ক পাসবইয়ের প্রথম পাতা (অ্যাকাউন্ট নম্বর ও IFSC কোড স্পষ্ট থাকতে হবে)
  • জাতিগত শংসাপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
  • সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজ ছবি

আবেদন কীভাবে করবেন?

প্রথমে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে হবে স্থানীয় ব্লক অফিস, গ্রাম পঞ্চায়েত অথবা সেবা সেতু ক্যাম্পের অধীনে ‘জনকল্যাণ শিবির’ থেকে।

আমাদের এই আর্টিকেলে আবেদন করার ফর্ম ডাউনলোড করার লিঙ্ক দেওয়া হলো। নীচে থেকে ফর্ম ডাউনলোড করা যাবে। 

ফর্মে প্রথমেই BDO, ব্লক ও গ্রাম পঞ্চায়েতের নাম, আবেদনকারী ও তাঁর অভিভাবকের নাম স্পষ্ট করে লিখতে হয়। এরপর পরিবার প্রধানের নাম, পুরো ঠিকানা এবং কার্ডে অন্তর্ভুক্ত হতে চলা প্রত্যেক সদস্যের নাম, জন্মতারিখ, লিঙ্গ, ভোটার ও আধার নম্বর, মোবাইল নম্বর ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের বিস্তারিত তথ্য দিতে হয়। আধার তথ্য যাচাইয়ের জন্য নির্দিষ্ট অংশে আধার নম্বর লিখে সইও করতে হবে।

জব কার্ডের জন্য আবেদন করার: Form Download

সব তথ্য পূরণ করে প্রয়োজনীয় নথি সহ ফর্মটি পঞ্চায়েত বা সরকারি ক্যাম্পে জমা দিলে একটা সিলমোহরযুক্ত রসিদ দেওয়া হয় — এই রসিদটি ভবিষ্যতের প্রয়োজনে যত্ন করে রেখে দেওয়া জরুরি।

আরও পড়ুন: ২ অক্টোবর থেকে সারা রাজ্যে জনকল্যাণ শিবির বসবে, আপনার এলাকায় কোথায় এক্ষুনি দেখুন

সব মিলিয়ে বলা যায়, সঠিক নিয়ম মেনে সময়মতো আবেদন করলে জব কার্ড গ্রামীণ পরিবারগুলোর জন্য নিশ্চিত ও স্থায়ী আয়ের একটা ভালো উৎস হয়ে উঠতে পারে।

Leave a Comment