হাসপাতালের বড় বিল সামলাতে গিয়ে অনেক পরিবারের সঞ্চয় শেষ হয়ে যায়। সেই চাপ কমাতেই রাজ্যে চালু হয়েছে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা (MMSBY)। যোগ্য পরিবার এই প্রকল্পে ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ক্যাশলেস চিকিৎসা পেতে পারে। কিন্তু সুবিধা পেতে হলে আগে দেখে নিতে হবে আপনার নাম তালিকায় আছে কিনা, আর e-KYC সম্পূর্ণ হয়েছে কিনা।
কারা এই প্রকল্পের সুবিধা পাবে?
প্রকল্পটা মূলত সেই পরিবারগুলোর জন্য, যারা স্বাস্থ্যসাথীর আওতায় ছিল কিন্তু কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারতের তালিকায় জায়গা পায়নি। আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। পরিবারের আয় আর অন্য কোনও স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা আছে কিনা, তাও যাচাই হয়। রাজ্য সরকারি কর্মী ও পেনশনভোগীরা WBHS-এর আওতায় থাকায় তাঁরা সাধারণত এই প্রকল্পের বাইরে।
নিজের নাম যাচাই ও e-KYC কীভাবে করবেন?
বেশ কিছু গাইড অনুযায়ী প্রক্রিয়াটা এরকম:
- beneficiary.nha.gov.in পোর্টালে বা আয়ুষ্মান অ্যাপে যান
- মোবাইল নম্বর দিয়ে ওটিপি ও ক্যাপচা বসিয়ে লগইন করুন
- রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গ, জেলা আর প্রকল্প বেছে নিন
- আধার, পারিবারিক আইডি বা রেশন কার্ড নম্বর দিয়ে খুঁজুন, নাম পেলে পরিবারের সদস্যদের বিবরণ দেখা যাবে
- নামের পাশে e-KYC অপশনে ক্লিক করে আধারের ওটিপি বা বায়োমেট্রিক দিয়ে যাচাই শেষ করুন
এই পোর্টালে সব ক্ষেত্রে MMSBY-র নাম পাওয়া যাবে কিনা, তা সরকারি সূত্রে নিশ্চিত নয়। তাই পোর্টালে নাম না পেলে ঘাবড়াবেন না, নিচের অফলাইন পথ আছে।
কী কী নথি লাগবে?
- পরিবারের সদস্যদের আধার কার্ড
- ডিজিটাল রেশন কার্ড (খাদ্যসাথী)
- আধারের সঙ্গে যুক্ত মোবাইল নম্বর
- পারিবারিক আয়ের শংসাপত্র বা স্ব-ঘোষণা (প্রয়োজন হতে পারে)
আধার আর রেশন কার্ডে নামের বানান মিলছে কিনা আগে দেখে নিন। বানানে গরমিল থাকলে যাচাইয়ে সমস্যা হতে পারে।
e-KYC-তে সমস্যা হলে কী করবেন?
পোর্টালে তথ্য না পেলে বা e-KYC-তে কারিগরি ত্রুটি দেখালে নথি নিয়ে নিকটবর্তী BDO অফিস, পুরসভার স্বাস্থ্য বিভাগ বা সরকারি সহায়তা কেন্দ্রে যান। সেখানকার আধিকারিকরা অফলাইনে যাচাই ও তথ্য হালনাগাদে সাহায্য করতে পারেন।
প্রতারণা থেকে সাবধান!
আধার, ব্যাঙ্কের বিবরণ বা ওটিপি কোনও অপরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে শেয়ার করবেন না। কার্ড বা নাম ওঠানোর নামে কেউ টাকা চাইলে সেটা সরকারি নিয়ম নয়।
আরও পড়ুন: অক্টোবরের ১৩ তারিখ হয়ে গেল! কবে শুরু হবে যুবশক্তির আবেদন?
সব মিলিয়ে বলা যায়, নাম যাচাই আর e-KYC-র এই কাজটা আগে থেকে সেরে রাখলে প্রয়োজনের সময় হাসপাতালে কার্ড নিয়ে অযথা হয়রানি এড়ানো যাবে।
