রাজ্যের কৃষকদের জন্য আর্থিক সহায়তার হিসেবটা এবার আরও স্পষ্ট করে দিল সরকার। একই সঙ্গে সুখবর এসেছে আরেকটা জায়গাতেও — যাঁরা এখনও নতুন প্রকল্পে নাম তোলাতে পারেননি, তাঁদের জন্য সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। পুরো বিষয়টা ধাপে ধাপে বুঝে নেওয়া যাক।
জমির পরিমাণ অনুযায়ী টাকার অঙ্ক কীভাবে ঠিক হয়?
কৃষকবন্ধু প্রকল্পে টাকার পরিমাণ নির্ভর করে জমির মাপের উপর। নিয়মটা এরকম:
- জমি ৪০ শতক বা তার কম হলে বছরে মিলবে ৪,০০০ টাকা
- জমি ৪০ শতকের বেশি হলে বছরে মিলবে ৬,০০০ টাকা
এই টাকার পুরোটাই রাজ্য সরকার দেয় না। এর মধ্যে ৩,০০০ টাকা আসে রাজ্যের তহবিল থেকে, আর বাকি অংশ মেটায় কেন্দ্রীয় সরকার।
PM-KISAN যুক্ত হলে অঙ্কটা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায়?
যাঁরা কৃষকবন্ধুর পাশাপাশি কেন্দ্রের PM-KISAN প্রকল্পেরও সুবিধাভোগী, তাঁদের হিসেবটা একটু আলাদা। PM-KISAN থেকে কেন্দ্র সরাসরি বছরে ৬,০০০ টাকা দেয়। এর সঙ্গে রাজ্যের ৩,০০০ টাকা যোগ হলে মোট দাঁড়ায় বছরে ৯,০০০ টাকা। এই পুরো টাকাটাই কৃষকরা নিজেদের চাষের কাজে ব্যবহার করতে পারবেন।
একটা গুরুত্বপূর্ণ শর্ত — এক পরিবারে একাধিক উপভোক্তা নয়
এখানেই সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট হওয়া দরকার। কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল নিজে জানিয়ে দিয়েছেন, PM-KISAN আর কৃষকবন্ধু — দুটো প্রকল্পের সুবিধাই যে কেউ পাবেন, এমনটা নয়। আর একই পরিবারের একাধিক সদস্য যদি আলাদা আলাদাভাবে এই দুই প্রকল্পে নাম লেখান, সেটাও অনুমোদিত হবে না। অর্থাৎ:
- একটা পরিবারকে একটা ইউনিট হিসেবে ধরা হচ্ছে
- সেই পরিবার থেকে একজনই উপভোক্তা হতে পারবেন
- দুই বা ততোধিক সদস্য একসঙ্গে দুটো প্রকল্পে নাম তোলাতে পারবেন না
এই নিয়মটা মাথায় না রাখলে পরিবারের একাধিক সদস্যের আবেদন যাচাইয়ের সময় আটকে যেতে পারে।
নাম নথিভুক্তির সময় বাড়ল ১০ দিন
নতুন প্রকল্পে নাম তোলার জন্য যাঁরা এখনও আবেদন করতে পারেননি, তাঁদের জন্য স্বস্তির খবর — সময়সীমা আরও ১০ দিন বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। যোগ্য হয়েও যাঁদের নাম এখনও তালিকায় ওঠেনি, তাঁরা এই বাড়তি সময়ের মধ্যে প্রক্রিয়াটা সম্পূর্ণ করতে পারবেন।
আবেদনের আগে কী কী যাচাই করে নেবেন
টাকা পাওয়া নিয়ে পরে সমস্যায় না পড়তে চাইলে আবেদনের আগে এই বিষয়গুলো একবার মিলিয়ে নিন:
- নিজের জমির পরিমাণ নথিতে সঠিকভাবে উল্লেখ আছে কিনা
- পরিবারের অন্য কোনও সদস্য ইতিমধ্যে PM-KISAN বা কৃষকবন্ধুর কোনওটার উপভোক্তা কিনা
- নিজে একাধিক প্রকল্পে আবেদন করে ফেলেননি তো, যা পরে বাতিলের কারণ হতে পারে
- আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় সব নথি হাতের কাছে প্রস্তুত আছে কিনা
সংক্ষেপে পুরো বিষয়টা
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| জমি ৪০ শতক বা কম | বছরে ৪,০০০ টাকা |
| জমি ৪০ শতকের বেশি | বছরে ৬,০০০ টাকা |
| PM-KISAN যুক্ত হলে | সর্বোচ্চ বছরে ৯,০০০ টাকা |
| পরিবারপ্রতি উপভোক্তা | একজনই, একাধিক নয় |
| নাম নথিভুক্তির সময় | ১০ দিন বাড়ানো হয়েছে |
আরও পড়ুন: যুবশক্তি প্রকল্পের আবেদন কি শুরু হলো? জনকল্যাণ শিবিরে গেলে আবেদন হবে কি?
একজন কৃষক ঠিক কত টাকা পাবেন, তা নির্ভর করছে মূলত দুটো জিনিসের উপর — তাঁর জমির পরিমাণ, আর পরিবারে আগে থেকে অন্য কেউ এই সুবিধা নিচ্ছেন কিনা। তাই আবেদনের আগে এই দুটো বিষয় নিজে একবার যাচাই করে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পথ, যাতে বাড়তি সময়টুকু কাজে লাগিয়ে ভুলত্রুটিহীন আবেদন জমা দেওয়া যায়।
