দেশের সাম্প্রতিক রাজনীতিতে আলোড়ন ফেলে দেওয়া যুব সংগঠন তথা রাজনৈতিক দল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP) কার্যত শেষ হয়ে গিয়েছে বলে তীব্র মন্তব্য করলেন সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি মার্কণ্ডেয় কাটজু।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি সাফ জানিয়েছেন, সিজেপি-র প্রথম সারির নেতারা আসলে জেলে যেতে ভয় পান। জেল থেকে দ্রুত মুক্তি পাওয়ার তাগিদে তাঁরা এমন এক পদক্ষেপ নিয়েছেন, যার ফলে তাঁদের পুরো রাজনৈতিক জীবন ও আন্দোলনের ভবিষ্যৎ বড়সড় সংকটের মুখে পড়ে গিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে?
গত ১৩ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের জারি করা নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এবং পুলিশের ব্যারিকেড টপকে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে গিয়েছিলেন সিজেপি নেতা সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কা ও তাঁদের সমর্থকেরা। ঘটনাস্থল থেকেই দিল্লি পুলিশ তাঁদের আটক করে।
এরপর ১৪ অক্টোবর আদালতের নির্দেশে তাঁদের পাঁচ দিনের বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়। ১৯ অক্টোবর হেফাজতের মেয়াদ আরও দু’দিন বাড়ানো হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ২১ অক্টোবর বিশেষ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে তাঁরা জামিন পান।
পিস বন্ডে সই নিয়েই যত বিতর্ক
প্রাক্তন বিচারপতি কাটজুর দাবি, জামিন পেতে গিয়ে সিজেপি নেতারা শর্তসাপেক্ষে একটি ‘পিস বন্ড’ বা শান্তিচুক্তির মুচলেকাতে সই করে মারাত্মক ভুল করেছেন। তিনি ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, পিস বন্ডে সই করার সোজা অর্থ হলো প্রশাসনের কাছে লিখিত প্রতিজ্ঞা করা যে তারা ভবিষ্যতে শান্তি ভঙ্গ করবে না এবং কোনও ধরনের আইন-শৃঙ্খলাবিরোধী আন্দোলনে জড়াবে না।
কাটজু জানান, এর ফলে পুলিশ ও প্রশাসনের কাজ অনেক সহজ হয়ে গিয়েছে। এখন যদি সৌরভ বা আশুতোষরা রাস্তায় নেমে কোনো বিক্ষোভ বা আন্দোলন সংগঠিত করার চেষ্টা করেন, তবে পুলিশ সরাসরি অভিযোগ তুলবে যে তাঁরা শান্তিচুক্তি বা বন্ডের শর্ত লঙ্ঘন করেছেন। আর শর্ত ভাঙলেই জামিন বাতিল করে তাঁদের এবার আর এক সপ্তাহের জন্য নয়, বরং কয়েক মাসের জন্য দীর্ঘ মেয়াদে জেলে আটকে রাখা হবে।
CJP-র মেরুদণ্ড ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা
ব্রিটিশ আমলের তুলনা টেনে প্রাক্তন বিচারপতি কাটজু উল্লেখ করেন, স্বাধীনতা আন্দোলনের সময় যারা পুলিশের ভয়ে মুচলেকা বা ক্ষমা চেয়ে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছিল, তাদের ওপর দেশের মানুষ আর ভরসা রাখেনি। একই ঘটনা সিজেপি নেতাদের ক্ষেত্রেও ঘটেছে।
আরও পড়ুন: আরও ৫০০ টাকা বাড়ছে বার্ধক্য, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতা! কীভাবে নতুন করে আবেদন করবেন?
আন্দোলনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তৈরি দলের নেতারা যদি সামান্য কয়েক দিন জেলে থাকার ভয়ে আন্দোলন না করার শর্তে বন্ডে সই করে বেরিয়ে আসেন, তবে তাঁদের ভাবমূর্তি একজন ‘আন্দোলন থেকে পালিয়ে যাওয়া মানুষের’ মতো হয়ে যায়। এই ভয়ের কারণেই ককরোচ জনতা পার্টির মেরুদণ্ড ভেঙে গিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের বিশ্বাসও পুরোপুরি নষ্ট হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
