পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের (PNB) গ্রাহকদের জন্য বড় ও জরুরি খবর। ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খুলে রেখে যারা বছরের পর বছর কোনো লেনদেন করেন না, তাঁদের বিরুদ্ধে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাঙ্ক। দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা হাজার হাজার নিষ্ক্রিয় বা ইনঅ্যাক্টিভ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবার পাকাপাকিভাবে বন্ধ করে দেওয়ার কাজ শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
PNB-র কাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে?
ব্যাঙ্কের তরফ থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানানো হয়েছে—
যে সমস্ত সেভিংস অ্যাকাউন্টে টানা ৩ বছরের বেশি সময় ধরে কোনও ধরনের লেনদেন (টাকা জমা বা তোলা) হয়নি।
এবং বর্তমানে যে অ্যাকাউন্টগুলিতে ব্যালান্স সম্পূর্ণ শূন্য অর্থাৎ জিরো ব্যালান্স (Zero Balance) হয়ে পড়ে রয়েছে।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিসাব অনুযায়ী এই ধরনের সমস্ত নিষ্ক্রিয় ও শূন্য ব্যালান্সের অ্যাকাউন্ট তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং সেগুলো অবিলম্বে বন্ধ করে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
কেন এই কড়া সিদ্ধান্ত নিচ্ছে ব্যাঙ্ক?
প্রশাসন ও ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের মতে, দীর্ঘদিন বন্ধ পড়ে থাকা অ্যাকাউন্টে কোনো নজরদারি থাকে না। সাইবার প্রতারক ও অপরাধীরা প্রায়ই এই ধরনের নিষ্ক্রিয় অ্যাকাউন্ট জালিয়াতির কাজে ব্যবহার করার চেষ্টা করে। গ্রাহকদের নিরাপত্তা বজায় রাখতে এবং ব্যাঙ্কের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই নিয়মমাফিক এই ধরনের অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হচ্ছে। যে সমস্ত গ্রাহকদের অ্যাকাউন্ট এই তালিকায় পড়েছে, তাঁদের মেসেজ ও চিঠির মাধ্যমে আগেই নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
অ্যাকাউন্ট চালু রাখতে হলে কী করবেন?
যদি আপনার কোনো পুরনো পিএনবি অ্যাকাউন্ট থাকে এবং আপনি সেটি বন্ধ হওয়া আটকাতে চান, তবে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে:
(১) কেওয়াইসি (KYC) জমা দিন: গ্রাহকদের নিজের নিকটবর্তী পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের শাখায় যেতে হবে।
(২) প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: সেখানে গিয়ে পরিচয়পত্র এবং ঠিকানার প্রমাণপত্র (যেমন ভোটার কার্ড বা প্যান কার্ডের জেরক্স) সহ কেওয়াইসি ফর্ম পূরণ করে জমা দিতে হবে।
(৩) শেষ সময়সীমা: ব্যাঙ্কের নির্দেশ অনুযায়ী, আগামী ১০ নভেম্বরের মধ্যে এই কেওয়াইসি প্রক্রিয়া শেষ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নথি জমা না দিলে অ্যাকাউন্টটি সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় বা বন্ধ হয়ে যাবে।
