অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজ্যে এখন নতুন একটা নিয়ম ঘিরে আলোচনা তুঙ্গে। প্রতি মাসে ৩ হাজার টাকা করে পাওয়া এই প্রকল্পে এতদিন অনেকেই বিধবা ভাতার সঙ্গে একইসঙ্গে সুবিধা নিয়ে আসছিলেন। সেই ব্যবস্থাতেই এবার দাঁড়ি টানল রাজ্য সরকার।
অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা
রাজ্যের নারী, শিশু বিকাশ ও সমাজকল্যাণ দফতর থেকে সম্প্রতি স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে — অন্নপূর্ণা যোজনা আর বিধবা ভাতা, দুটো প্রকল্পের সুবিধা একইসঙ্গে পাওয়া যাবে না। যে কোনও একটা বেছে নিতে হবে। জেলাশাসক ও কলকাতা পুরসভার কমিশনারকে পাঠানো এই নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বহু বিধবা ভাতার উপভোক্তা এখন অন্নপূর্ণার সুবিধাও পাচ্ছেন, যা নিয়ম অনুযায়ী আর চলবে না।
কীভাবে বেছে নিতে হবে?
যাঁরা শুধু অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা রাখতে চান, তাঁদের থেকে লিখিত সম্মতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রতিটা উপভোক্তাকে স্পষ্ট করে জানাতে হবে, তিনি বিধবা ভাতা চালিয়ে যেতে চান, নাকি সেটা ছেড়ে অন্নপূর্ণার আওতায় আসতে চান।
দুটি প্রকল্পেই যাঁরা আগে থেকে সুবিধাভোগী, তাঁদের তালিকা ইতিমধ্যে রাজ্যের সমর্থ পোর্টালে তোলা আছে, আর সেখান থেকেই উপভোক্তাদের পছন্দ সংগ্রহ করে আপলোড করে দিতে বলা হয়েছে।
টাকার অঙ্কে ফারাক কতটা?
দুটো প্রকল্পের মধ্যে টাকার অঙ্কে বেশ পার্থক্য আছে। অন্নপূর্ণায় মাসে মেলে ৩ হাজার টাকা, যেখানে বিধবা ভাতা আগে ছিল মাসে ১ হাজার টাকা, সম্প্রতি বাড়িয়ে করা হয়েছে ১,৫০০ টাকা। অঙ্কের হিসেবে অন্নপূর্ণা বেছে নেওয়াই বেশিরভাগ উপভোক্তার জন্য লাভজনক হতে পারে, যদিও সিদ্ধান্তটা একান্তই ব্যক্তিগত।
কেন এই নিয়ম আনা হলো?
একই উপভোক্তা দুটো সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের সুবিধা একসঙ্গে নিতে থাকলে প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হয় — কারণ তাতে প্রকৃত প্রয়োজনীয় আরও অনেকের কাছে সুবিধা পৌঁছনো কঠিন হয়ে পড়ে। তাই একজন উপভোক্তা একটামাত্র প্রকল্পেই থাকবেন, এই নীতিতেই এগোচ্ছে প্রশাসন।
আরও পড়ুন: অক্টোবরে অন্নপূর্ণার ৩০০০ টাকার ঢুকলে, নভেম্বর-ডিসেম্বর পরের মাসে চিন্তামুক্ত
সব মিলিয়ে বলা যায়, যাঁরা এখনও দুটো প্রকল্পেরই সুবিধা নিচ্ছেন, তাঁদের দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে নিজের পছন্দ প্রশাসনকে জানানো উচিত। নইলে যাচাইয়ের সময় সমস্যায় পড়তে পারেন, আর কোন প্রকল্প বহাল থাকবে তা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।
