সেপ্টেম্বরের ১৭ তারিখে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলার অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে অন্নপূর্ণা যোজনার ৩ হাজার টাকা। তবে পুজোর মাসে দাঁড়িয়ে এখন সবার মনে একটাই প্রশ্ন — অক্টোবরে কবে আসবে পরের কিস্তি? আর এর মধ্যেই উঠে এসেছে আরও উদ্বেগজনক একটা তথ্য — গত মাসে টাকা পেলেও এই মাসে কিছু মহিলার নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে।
অক্টোবরে কেন বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে?
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই জানিয়েছিলেন, প্রতি মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহেই এই টাকা ঢোকার কথা। সেই অনুযায়ী সেপ্টেম্বরে ১৭ তারিখ, অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রীর জন্মদিনে অন্নপূর্ণা দিবস পালন করে টাকা পাঠানো শুরু হয়।
কিন্তু রাজ্যের নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী মালতি রাভা রায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, একবার টাকা পাওয়া মানেই সেই আবেদন পুরোপুরি যাচাই হয়ে গেছে, এমনটা নয়। রাজ্য সরকার এখনও প্রতিটি আবেদনকারীর তথ্য খুঁটিয়ে যাচাইয়ের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। যাচাইয়ের পর কাউকে অযোগ্য মনে হলে, তাঁর নাম অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে।
অর্থাৎ আগস্ট-সেপ্টেম্বরে টাকা ঢুকে যাওয়াটা কোনও স্থায়ী নিশ্চয়তা নয়। যাচাই প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত যে কারও সুবিধা যেকোনও মাসে আটকে যেতে পারে।
কাদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি?
প্রকল্পের নির্ধারিত যোগ্যতার শর্ত স্পষ্ট — আবেদনকারীর বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে, কোনও সরকারি চাকরিতে থাকা চলবে না, মাসিক আয় ১০ হাজার টাকার বেশি হওয়া যাবে না, ভোটার তালিকায় নাম থাকতে হবে, আর আয়করদাতা হলে চলবে না। মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, অনেকেই ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিয়ে আবেদন করে এতদিন সুবিধা নিয়ে আসছিলেন। পুনর্যাচাইয়ে এমন আবেদনকারীদেরই নাম বাদ পড়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
কীভাবে যাচাই হবে অন্নপূর্ণা ভান্ডার?
শুধু কাগজপত্র মিলিয়ে দেখাই নয়, বাড়ি বাড়ি গিয়ে সরেজমিনে তথ্য যাচাইয়ের কথাও জানিয়েছে প্রশাসন। অর্থাৎ ফর্মে দেওয়া তথ্য আর বাস্তব পরিস্থিতির মধ্যে গরমিল থাকলে তা সহজেই ধরা পড়ে যাবে।
মাঝে বিক্ষোভও হয়েছে
এদিকে টাকা না পাওয়ার অভিযোগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ইতিমধ্যেই বিক্ষোভে নেমেছেন মহিলারা, স্থানীয় বিধায়ক ও নেতাদের ঘেরাও করার মতো ঘটনাও ঘটেছে। একদিকে যাঁরা টাকা পাচ্ছেন না তাঁদের ক্ষোভ, অন্যদিকে যাঁরা পেয়েও যাচাইয়ে বাদ পড়ার শঙ্কায় আছেন — দুই পরিস্থিতিই এখন একসঙ্গে চলছে।
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণার টাকা ১-২-৩ মাসেও ঢোকেনি? এখন কী করবেন জানুন
সব মিলিয়ে বলা যায়, যাঁরা ইতিমধ্যে টাকা পেয়েছেন তাঁদেরও এখনই পুরোপুরি নিশ্চিন্ত হওয়ার সময় আসেনি। নিজের আবেদনের তথ্য সঠিক ও হালনাগাদ আছে কিনা, সেটা নিশ্চিত করে রাখাই এখন সবচেয়ে নিরাপদ পথ।
