আয়ুষ্মান ভারত যোজনা (Ayushman Bharat Yojana) চালু হওয়ার পর থেকে রাজ্যের বহু মানুষের মনেই একটা প্রশ্ন ঘুরছিল — তাহলে কি পুরনো স্বাস্থ্যসাথী কার্ড (Swasthya Sathi Card) আর কাজে লাগবে না? নন্দীগ্রামে উপনির্বাচনের প্রচারে গিয়ে এই বিষয়ে স্পষ্ট জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
আয়ুষ্মান ভারত কার্ড এবং স্বাস্থ্যসাথী কার্ডের সম্পর্ক
মুখ্যমন্ত্রীর ব্যাখ্যা অনুযায়ী, আয়ুষ্মান ভারত বা মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনায় নাম নথিভুক্ত না হওয়া পর্যন্ত স্বাস্থ্যসাথী কার্ড পুরোপুরি সচল থাকবে। অর্থাৎ এখনই কারও কার্ড হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না।
তবে কেউ যখন আয়ুষ্মানের পোর্টালে গিয়ে নিজের নাম নথিভুক্ত করবেন, সেই মুহূর্ত থেকেই তিনি স্বাস্থ্যসাথীর আওতা থেকে বেরিয়ে যাবেন। অর্থাৎ দুটো প্রকল্পের সুবিধা একসঙ্গে নেওয়া যাবে না — নতুন প্রকল্পে ঢুকলে পুরনোটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাদ হয়ে যাবে।
যাঁরা আয়ুষ্মান পাবেন না, তাঁদের জন্য কী ব্যবস্থা?
সবাই যে আয়ুষ্মান ভারতের সুবিধা পাবেন, এমন নয়। যাঁরা এই প্রকল্পের যোগ্যতার শর্ত পূরণ করবেন না, তাঁদের জন্য রাজ্য সরকার আলাদাভাবে মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা চালু করেছে। দুটো প্রকল্পেই ক্যাশলেস চিকিৎসার সুবিধা মিলবে সর্বোচ্চ ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত।
আয়ুষ্মান ভারতে বেড়েছে হাসপাতাল সংখ্যা
পরিষেবার পরিধি নিয়েও তুলনা টেনেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি অনুযায়ী, স্বাস্থ্যসাথীতে রাজ্যের সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে প্রায় ১৭০০টি হাসপাতালে পরিষেবা মিলত। সেই তুলনায় আয়ুষ্মান ভারত ও মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনায় রাজ্যের প্রায় ১৯০০টি এবং সারা দেশের প্রায় ৩৮ হাজার হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ থাকছে।
কটক বা ভেলোরের মতো রাজ্যের বাইরের কিছু নামী হাসপাতাল আগে স্বাস্থ্যসাথী নিত না বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি, যেখানে আয়ুষ্মান কার্ড দেশের বিভিন্ন প্রান্তের হাসপাতালে গ্রহণযোগ্য বলে দাবি তাঁর।
অন্নপূর্ণা নিয়েও আশ্বাস
একই অনুষ্ঠানে অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়েও কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাজ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৫৮ লক্ষ এবং নন্দীগ্রামে প্রায় ৭০ হাজার মহিলা এই প্রকল্পের টাকা পেয়েছেন। যাঁরা যোগ্য অথচ এখনও পাননি, তাঁদের ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়াধীন আছে এবং শীঘ্রই তাঁরাও সুবিধা পাবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন: গ্যাস বুকিং এর ঝামেলা শেষ! নতুন প্ল্যান সরকারের, আগে কারা পাবে এই সুবিধা?
সব মিলিয়ে বলা যায়, স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই — নতুন প্রকল্পে নাম না লেখালে পুরনো কার্ড চালু থাকবেই। তবে যাঁরা আয়ুষ্মান ভারত বা মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমার সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, তাঁদের জন্য নতুন প্রকল্পে নাম তোলাই এখন বেশি সুবিধাজনক হতে পারে, কারণ সেখানে পরিষেবার পরিধি তুলনামূলক বেশি।
