অন্নপূর্ণা যোজনায় আবেদনের আগে অনেক মহিলার মনেই একটা প্রশ্ন ঘোরে — স্বামী সরকারি চাকরি করলে কি তাঁর আবেদন বাতিল হয়ে যাবে এবং মাসে ৩০০০ টাকাটা পাওয়া যাবেনা? উত্তরটা অনেকের ধারণার মতো সরল নয়।
অন্নপূর্ণা প্রকল্প নিয়ে সরকারি নিয়মটা কী?
প্রকল্পের প্রকাশিত যোগ্যতার শর্তে চাকরি ও আয়করের প্রসঙ্গ এসেছে সুবিধা পেতে ইচ্ছুক মহিলার নিজের ক্ষেত্রে, পরিবারের যে কোনও একজন পুরুষ সদস্যের প্রসঙ্গে নয়।
অর্থাৎ বাড়িতে একজন সরকারি কর্মী থাকলেই সেই বাড়ির সব মহিলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই প্রকল্প থেকে বাদ পড়বেন, এমন কোনও কথা সরকারি বিবরণে নেই। তবে উল্টোটাও সত্যি নয় — শুধু স্বামীর চাকরি বাধা নয় বলেই স্ত্রী নিশ্চিতভাবে টাকা পাবেন, এমন সিদ্ধান্তেও পৌঁছনো যায় না।
তাহলে কীসের ভিত্তিতে যোগ্যতা ঠিক হয়?
বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে, নিজে স্থায়ী সরকারি চাকরিতে না থাকা, নিজে আয়কর না দেওয়া — এই শর্তগুলো প্রযোজ্য হয় আবেদনকারী মহিলার নিজের ক্ষেত্রে। তাই স্বামী নিয়মিত সরকারি চাকরি করলেও, স্ত্রী নিজে যদি এই শর্তগুলো পূরণ করেন, তাহলে শুধু স্বামীর পেশার কারণে তাঁর আবেদন বাতিল হওয়ার কথা সরাসরি লেখা নেই।
ফর্ম ফিলাপের সময় পরিবারের সবার তথ্য কেন চাওয়া হয়?
ফর্মে পরিবারের প্রধান ও প্রত্যেক সদস্যের কর্মসংস্থানের তথ্য চাওয়া হয় ঠিকই, কেউ আয়কর বা পেশাকর দেন কিনা, কেউ পেনশন পান কিনা বা পরিবারের মোট বার্ষিক আয় কত — এসবও জানাতে হয়। কিন্তু এই তথ্য সংগ্রহ করা, আর সেই তথ্যের প্রতিটি ঘরকেই আবেদনকারীর জন্য আলাদা অযোগ্যতার নিয়ম হিসেবে ধরে নেওয়া এক জিনিস নয়। তাই স্বামীর পেশার ঘরে “সরকারি” লেখা থাকা মানেই স্ত্রীর আবেদন বাতিল, এই ধারণা ভুল হতে পারে।
কোন ধরনের চাকরি সেটাও দেখার বিষয়
নিয়মিত বেতন বা পেনশন পাওয়া নির্দিষ্ট ধরনের স্থায়ী চাকরির কথাই এখানে বলা হয়েছে — কেন্দ্র বা রাজ্য সরকার, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, সরকারি উদ্যোগ, পঞ্চায়েত, পুরসভা বা রাজ্য-সহায়তাপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তাই নিজের পেশা ঠিক কোন শ্রেণিতে পড়ছে তা যাচাই না করে, শুধু পরিচয়পত্রের পদবি দেখে নিজেকে যোগ্য বা অযোগ্য ভেবে নেওয়া ঠিক হবে না।
স্বামী চাকরি করলে কী করণীয়?
পরিবারের প্রত্যেক সদস্যের পেশা ও আয়ের তথ্য যেমনটা বাস্তবে আছে, ঠিক সেভাবেই ফর্মে দেওয়া দরকার। স্বামীর চাকরি এড়াতে তথ্য গোপন করা বা ভুল করে দেওয়া কোনও সমাধান নয় — বরং যাচাইয়ের সময় তা ধরা পড়ে গেলে সমস্যা আরও বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন: বাড়িতে দুটো রান্নাঘর থাকলেই কি বন্ধ হবে অন্নপূর্ণার ৩০০০ টাকা, আসল বিষয় জানুন
সব মিলিয়ে বলা যায়, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করে আবেদনকারীর নিজের বয়স, পরিচয়, আর পরিবারের সত্য তথ্যের উপর — শুধু স্বামীর চাকরির পরিচয় দেখে আগে থেকেই কিছু ধরে নেওয়া ঠিক নয়। নির্দিষ্ট আবেদনে কী সিদ্ধান্ত হবে, তা প্রশাসনিক যাচাইয়ের পরই স্পষ্ট হবে।
