কৃষকবন্ধু প্রকল্পের নিয়মকানুনে বড় রদবদল আসতে চলেছে বলে জানিয়ে দিল রাজ্য প্রশাসন। সোমবার নবান্নে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডল স্পষ্ট করে দেন, যাঁরা কেন্দ্রের পিএম-কিষান থেকে ইতিমধ্যেই টাকা পাচ্ছেন, কৃষকবন্ধুর তালিকা থেকে তাঁদের নাম বাদ পড়বে।
একটা পরিবার থেকে ১ জনই পাবে সুবিধা
এতদিন একই বাড়ির স্বামী, স্ত্রী, সন্তান — প্রত্যেকেই আলাদা আলাদা করে কৃষকবন্ধুর টাকা তুলতে পারতেন। এবার থেকে সেই রাস্তা বন্ধ হচ্ছে। গোটা পরিবারকে একটা ইউনিট ধরে তার মধ্যে থেকে মাত্র একজনকেই উপভোক্তা হিসেবে বেছে নেওয়া হবে — অনেকটা পিএম-কিষানের মডেলেই, যেখানে স্বামী-স্ত্রী ও নাবালক সন্তান মিলিয়ে একটাই পরিবার গণ্য হয়।
নতুন করে তালিকা যাচাই এবং কারণ
সরকারি চাকরিতে থাকা মানুষ, আয়করদাতা বা প্রকল্পের শর্তের বাইরে পড়া কেউ যাতে কৃষকবন্ধুর সুবিধা না পান, মূলত সেটা নিশ্চিত করতেই কৃষি দফতর গোটা উপভোক্তা তালিকা নতুন করে যাচাই করছে।
এই দুই প্রকল্পের সুবিধা একসাথে আর মিলবে না
কৃষি দফতরের তথ্য বলছে, কৃষকবন্ধুতে মোট নথিভুক্ত ছিলেন প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষ ৯ হাজার ৫৭১ জন কৃষক। এঁদের মধ্যে প্রায় ৩৮ লক্ষ ৫৫ হাজার জন একইসঙ্গে পিএম-কিষানেরও সুবিধাভোগী, তাই বাকি প্রায় ৭১ লক্ষ ৫৪ হাজার জনের তথ্য নতুন করে মেলানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ৪৭ লক্ষ ৭৪ হাজার কৃষক পুনর্বৈধকরণের আবেদন জমা দিয়েছেন, যাঁদের মধ্যে প্রায় ৩৯ লক্ষকে যোগ্য হিসেবে ধরা হয়েছে। এই যাচাই চলাকালীনই বাদ পড়েছেন প্রায় ২ লক্ষ ৯৮ হাজার জন।
১০ অক্টোবরের মধ্যে আবেদনপত্র জমা করতে হবে
আগে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই যাচাই শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু প্রায় ২৩ লক্ষ ৭৯ হাজার নথিভুক্ত কৃষকের আবেদনপত্রই এখনও জমা পড়েনি দেখে, সময়সীমা বাড়িয়ে ১০ অক্টোবর করা হয়েছে। যাঁদের আবেদন বাকি, তাঁদের ব্লক অফিসে গিয়ে কৃষি আধিকারিকের কাছে ফর্ম জমা দিতে বলা হয়েছে।
টাকার পরিমানও কমতে পারে
বর্তমানে জমির পরিমাণ অনুযায়ী বছরে ৪ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত সহায়তা মেলে এই প্রকল্পে, খরিফ ও রবি মরশুমে দুই কিস্তিতে। তবে সর্বোচ্চ অঙ্ক ১০ হাজার থেকে কমিয়ে ৬ হাজার টাকা করার কথাও ভাবা হচ্ছে বলে জানা যাচ্ছে। অন্যদিকে কেন্দ্রের পিএম-কিষানে বছরে মোট ৬ হাজার টাকা মেলে তিনটি কিস্তিতে, সরাসরি অ্যাকাউন্টে।
আরও পড়ুন: স্বামী-স্ত্রী মিলে পোস্ট অফিসে এই অ্যাকাউন্ট খুলুন, প্রতি মাসে পাবেন ৮,৬৩৩ টাকা
সব মিলিয়ে, কৃষকবন্ধুর কাঠামোয় এই পরিবর্তন কার্যকর হলে অনেক পরিবারের মোট প্রাপ্তিতেই হেরফের হবে। তাই যাঁদের আবেদন এখনও জমা পড়েনি, ১০ অক্টোবরের মধ্যে তা সেরে ফেলাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
