পুজোর আগে পশ্চিমবঙ্গের বেকার ছেলে-মেয়েদের জন্য বড় সুখবর বয়ে আনতে পারে যুবশক্তি ভরসা কার্ড প্রকল্প (Yuva Shakti Scheme)। দীর্ঘদিনের অপেক্ষার পর এবার এই প্রকল্প নিয়ে চর্চা তুঙ্গে। তবে আবেদনের আগে অনেকের মনেই একটা প্রশ্ন ঘুরছে- এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ কার্ড (Employment Exchange Card) কি সত্যিই লাগবে? চলুন খুঁটিনাটি জেনে নেওয়া যাক।
যুবশক্তি প্রকল্পে কাদের কত টাকা দেওয়া হবে?
অন্নপূর্ণা যোজনার বিকল্প হিসেবেই আনা হয়েছে এই প্রকল্প, যেখানে ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সি শিক্ষিত বেকার নারী-পুরুষ উভয়েই আবেদনের যোগ্য বলে জানা যাচ্ছে।
- মাধ্যমিক পাশ প্রার্থীরা পাবেন প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা,
- আর স্নাতক বা তার বেশি যোগ্যতাসম্পন্নরা পাবেন মাসে ৩ হাজার টাকা।
এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ কার্ড নিয়ে আসল বিষয়টা কী?
এখানেই একটু খেয়াল করার বিষয় আছে। আগে যুবশ্রী প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের জন্য এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ কার্ড থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। কিন্তু পরবর্তীতে যুবসাথী প্রকল্প চালু হলে এই শর্ত আর রাখা হয়নি।
এখন নতুন যুবশক্তি প্রকল্পের ক্ষেত্রে এক্সচেঞ্জ কার্ড বাধ্যতামূলক হবে কিনা, তা নিয়ে সরকারের তরফে এখনও কোনও স্পষ্ট ঘোষণা আসেনি। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলেই বিষয়টা পরিষ্কার হবে। তবে যাঁদের কাছে আগে থেকেই এই কার্ড আছে, তাঁদের সেটা যাচাই করে রাখাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে, যাতে পরে আবেদনের সময় যদি দরকার পড়ে তবে সমস্যায় পড়তে না হয়।
বয়স ও যোগ্যতা নিয়েও কিছু অস্পষ্টতা আছে
প্রার্থীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং ন্যূনতম মাধ্যমিক পাশ হওয়া আবশ্যিক বলে জানা যাচ্ছে। বয়সসীমা ২১ থেকে ৪০ বছর বলে আলোচনা হলেও, এই বিষয়েও সরকারের তরফে চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি এখনও প্রকাশ হয়নি।
কী কী নথি প্রয়োজন হতে পারে?
আবেদনের সময় নিচের নথিগুলো লাগতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে —
- আধার কার্ড (পরিচয়পত্র হিসেবে)
- ভোটার কার্ড (বাসিন্দা প্রমাণ হিসেবে)
- শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট (মাধ্যমিক বা স্নাতক)
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি
- জাতিগত শংসাপত্র (প্রযোজ্য হলে)
- আয়ের বা ইনকামের শংসাপত্র
আবেদন প্রক্রিয়া নিয়ে কী জানা যাচ্ছে?
এখনও পর্যন্ত আবেদন সংক্রান্ত কোনও সরকারি বিজ্ঞপ্তি জারি হয়নি, তবে পুজোর আগেই তা প্রকাশ পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রাজ্যের অন্যান্য প্রকল্পের মতো এটিও অফলাইনের পাশাপাশি অনলাইনেও আবেদন নেওয়া হবে।
আরও পড়ুন: চলতি বছরেই চাকরি পাবেন ১ লক্ষ মানুষ! কোন দফতরে কত পদ, রইল পুরো তালিকা
সব মিলিয়ে বলা যায়, এখনই আতঙ্কিত না হয়ে হাতের কাছে সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি ও এক্সচেঞ্জ কার্ড (থাকলে) প্রস্তুত রাখাই এখন সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। সরকারি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হওয়া মাত্রই বাকি সব প্রশ্নের উত্তর স্পষ্ট হয়ে যাবে।
