বিশ্ব অর্থনীতিতে ভারতের সামগ্রিক বৃদ্ধি যেখানে নজরকাড়া এবং দেশ বিশ্বের অন্যতম দ্রুত বর্ধনশীল বৃহৎ অর্থনীতির স্বীকৃতি পাচ্ছে, ঠিক তখনই মাথাপিছু আয়ের এক চাঞ্চল্যকর পূর্বাভাস সামনে আনল আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার (IMF)।
আইএমএফ-এর সাম্প্রতিক হিসাব অনুযায়ী, মাথাপিছু জিডিপি (Per Capita GDP)-র নিরিখে ভারতকে ফের পেছনে ফেলতে পারে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশ। সামগ্রিক অর্থনীতির আয়তনে ভারত বহুগুণ এগিয়ে থাকলেও মাথাপিছু আয়ের এই বৈষম্য অর্থনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মাথাপিছু আয়ের অঙ্কে কে কোথায় দাঁড়িয়ে?
আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডারের হিসাব অনুসারে, চলতি বছরে ভারতের মাথাপিছু আয় দাঁড়াতে পারে প্রায় ২,৭৪৯ মার্কিন ডলারে। এর বিপরীতে ওপার বাংলার মাথাপিছু আয় পৌঁছে যেতে পারে প্রায় ২,৮৮৬ মার্কিন ডলারে। অর্থাৎ, মাথাপিছু আয়ের অঙ্কে ভারতের তুলনায় বাংলাদেশ প্রায় ১৩৭ ডলার এগিয়ে থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
৮ গুণ বড় অর্থনীতি হয়েও কেন এই সমীকরণ?
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারতের মোট জিডিপির আকার বর্তমানে ৪.১৫ ট্রিলিয়ন ডলারেরও বেশি এবং দেশের জনসংখ্যা প্রায় ১৪৮ কোটি। অন্যদিকে বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনীতির পরিমাণ প্রায় ৫০৬.৪ বিলিয়ন ডলার এবং তাদের জনসংখ্যা প্রায় ১৭.৫ কোটি। স্পষ্টতই ভারতের অর্থনীতির আকার বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় আট গুণ বড়।
তবুও কেন মাথাপিছু আয়ে এগিয়ে বাংলাদেশ? এর মূল কারণ হলো গাণিতিক হিসাব। মাথাপিছু জিডিপি নির্ধারণ করা হয় একটি দেশের মোট জাতীয় আয় বা জিডিপিকে মোট জনসংখ্যা দিয়ে ভাগ করে এবং তা মার্কিন ডলারে রূপান্তর করে। ভারতের বিপুল জনসংখ্যার কারণে সামগ্রিক জাতীয় আয় বড় হওয়া সত্ত্বেও মাথাপিছু ভাগে তা কিছুটা কমে যায়।
বাংলাদেশের এগিয়ে থাকার পেছনের চালিকাশক্তি
বিশেষজ্ঞদের মতে, ওপার বাংলার এই সাফল্যের পেছনে বেশ কিছু অর্থনৈতিক উপাদান সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে:
তৈরি পোশাক শিল্পের রফতানি: বাংলাদেশের তৈরি পোশাক বা আরএমজি (RMG) ক্ষেত্র দেশটির অর্থনীতির মেরুদণ্ড। বিশ্ববাজারে বিপুল পরিমাণ তৈরি পোশাক রফতানি করে বিপুল বিদেশি মুদ্রা আয় করছে ঢাকা।
প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স: মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার ভাণ্ডারকে শক্তিশালী রাখছে।
মুদ্রার বিনিময় হার ও উৎপাদন: মার্কিন ডলারের বিপরীতে স্থানীয় মুদ্রার ভারসাম্য এবং উৎপাদনমুখী কর্মসংস্থানের প্রসার মাথাপিছু হিসাবের তুল্যমূল্যে গতি জুগিয়েছে।
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণার ৩০০০ টাকা নভেম্বরে নাও ঢুকতে পারে! কারা বাদ যাবে জানুন
অর্থনীতিবিদদের মতে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ক্রয়ক্ষমতার সমতা (Purchasing Power Parity বা PPP) এবং মোট অর্থনীতির ভিত্তির দিক থেকে ভারত এখনও বাংলাদেশের চেয়ে অনেক শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। তবে মাথাপিছু আয়ের এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে যে কেবল মোট জিডিপি বাড়ানোই নয়, বিপুল জনসংখ্যার প্রতিটি স্তরে সেই আয়ের সুষম বণ্টন নিশ্চিত করাই আগামী দিনে ভারতের প্রধান চ্যালেঞ্জ।
