স্বাস্থ্যসাথী ও আয়ুষ্মান কার্ড ফেরত দিচ্ছেন সরকারি কর্মীরা! কিন্তু কেন? জেনে নিন আসল কারণ

সরকারি স্বাস্থ্যবিমা নিয়ে বড় নির্দেশ জারি করেছে রাজ্য সরকার। সরকারি নিয়মে জানানো হয়েছে, কোনো কর্মী কেবল একটি সরকারি স্বাস্থ্যবিমার সুবিধাই নিতে পারবেন। এর ফলে যেসব সরকারি কর্মচারী ইতিমধ্যেই ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিম’ (WBHS)-এর সুবিধা পাচ্ছেন, তাঁদের কাছে থাকা স্বাস্থ্যসাথী কিংবা আয়ুষ্মান ভারত কার্ড সরকারকে ফেরত বা সারেন্ডার করতে হচ্ছে। এই নির্দেশের পরেই বিভিন্ন পুরসভা ও বিডিও অফিসে কার্ড জমা দেওয়ার হিড়িক পড়ে গিয়েছে।

স্বাস্থ্যসাথী বা আয়ুষ্মান ভারত কার্ড কেন ফেরত দিতে হচ্ছে?

সাধারণ মানুষের চিকিৎসার খরচে সাহায্য করার জন্য বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসাথী ও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প রয়েছে। পাশাপাশি রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য নিজস্ব আলাদা হেলথ স্কিম রয়েছে, যেখানে চিকিৎসার জন্য পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সুবিধা পাওয়া যায়।

দেখা যাচ্ছিল, অনেক সরকারি কর্মী নিজের দফতরের হেলথ স্কিমের সুবিধার পাশাপাশি পরিবার বা নিজের নামে স্বাস্থ্যসাথী কিংবা আয়ুষ্মান কার্ডও চালু রেখেছিলেন। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, এক ব্যক্তি একসঙ্গে দুটি সরকারি বিমার সুবিধা নিতে পারেন না। তাই অতিরিক্ত কার্ডটি জমা দেওয়ার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কোথায় এবং কীভাবে কার্ড জমা দিতে হচ্ছে?

যে এলাকা থেকে স্বাস্থ্যসাথী বা আয়ুষ্মান কার্ড নেওয়া হয়েছিল, সেখানকার পুরসভা বা ব্লক অফিসে (BDO Office) গিয়ে কর্মীরা কার্ড সারেন্ডার করছেন:

  • কর্মীরা অফিসে গিয়ে কার্ড ফেরতের নির্দিষ্ট আবেদনপত্র জমা দিচ্ছেন।

  • আবেদন জমা নেওয়ার পর অফিস থেকে একটি রিসিভ কপি বা প্রাপ্তিস্বীকার পত্র দেওয়া হচ্ছে।

  • এই রিসিভ কপিটি সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মীদের নিজেদের অফিসে জমা রাখতে হবে।

  • ৩১ অক্টোবরের পর সমস্ত আবেদন জেলা প্রশাসনের কাছে পাঠানো হবে এবং নিয়ম অনুযায়ী অতিরিক্ত কার্ডগুলি বাতিল করা হবে।

আরও পড়ুন: যুবশক্তির আবেদন কি নভেম্বর থেকেই শুরু হবে?

এর ফলে সাধারণ মানুষের কী লাভ হবে?

প্রশাসনের বক্তব্য, একজন ব্যক্তি যদি একাধিক কার্ডের সুবিধা আটকে রাখেন, তবে সরকারের কোষাগারে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। সরকারি কর্মীরা তাঁদের অতিরিক্ত স্বাস্থ্যসাথী বা আয়ুষ্মান কার্ড ফেরত দিলে সেই জায়গায় প্রকৃত অভাবী ও দরিদ্র সাধারণ মানুষ নতুন করে এই চিকিৎসার সুযোগ পাওয়ার পথ খুঁজে পাবেন। এর ফলে সরকারের স্বাস্থ্য খাতের বাজেট সামলানো সহজ হবে এবং কোনো গরিব মানুষ চিকিৎসার সাহায্য থেকে বঞ্চিত হবেন না।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

Leave a Comment