রাজ্যের শিক্ষিত অথচ কর্মহীন তরুণ-প্রজন্মের আর্থিক স্বনির্ভরতা নিশ্চিত করতে ‘বাংলার যুবশক্তি প্রকল্প’ (Banglar Yuva Shakti Scheme) চালুর ঘোষণা করেছিল রাজ্য সরকার। বাজেট পেশের সময় রাজ্য সরকারের তরফে জানানো হয়েছিল যে, অক্টোবর মাস থেকেই এই নতুন বেকার ভাতা প্রকল্পের আবেদন গ্রহণ শুরু হবে।
তবে উৎসবের মরশুম শেষ হলেও এখনও পর্যন্ত প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক আবেদন প্রক্রিয়া চালু হয়নি। এমতাবস্থায় নভেম্বর মাস থেকেই কি এই বহুল প্রতীক্ষিত বেকার ভাতার অনলাইন পোর্টাল চালু হতে চলেছে? তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে রাজ্যের চাকরিপ্রার্থী মহলে।
যুবশক্তির আবেদন প্রক্রিয়া কেন পিছল?
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রকল্পের আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য একটি সম্পূর্ণ নতুন ডেডিকেটেড ডিজিটাল পোর্টাল তৈরির কাজ চলছে। দুর্গাপূজা ও উৎসবের ছুটির পর সরকারি দফতরগুলির কাজকর্ম ফের স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতেই পোর্টাল চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া জোরকদমে শুরু হয়েছে।
নবান্ন সূত্রে ইঙ্গিত মিলেছে, খুব শীঘ্রই এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করা হতে পারে এবং সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে নভেম্বরের শুরুতেই অনলাইনে ফর্ম জমা নেওয়ার উইন্ডো খুলে দেওয়া হতে পারে।
শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী কত টাকা ভাতা মিলবে?
প্রাথমিকভাবে সবার জন্য সমান ভাতার কথা ভাবা হলেও, শেষ আপডেট অনুযায়ী শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে প্রতি মাসে পৃথক হারে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে-
স্নাতক (Graduate) উত্তীর্ণ প্রার্থী: প্রতি মাসে ৩,০০০ টাকা করে ভাতা পাওয়ার সুযোগ থাকবে।
মাধ্যমিক (Madhyamik) উত্তীর্ণ প্রার্থী: প্রতি মাসে ২,০০০ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।
যুবশক্তি প্রকল্পের এই টাকা সরাসরি উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ডিরেক্ট বেনিফিট ট্রান্সফার (DBT) ব্যবস্থার মাধ্যমে পাঠানো হবে।
আবেদনের প্রয়োজনীয় যোগ্যতা ও শর্তাবলী
এই প্রকল্পে আবেদনের ক্ষেত্রে বেশ কিছু শর্ত মানা বাধ্যতামূলক:
১. আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।
২. প্রার্থীর বয়স ২১ থেকে সর্বোচ্চ ৪০ বছরের মধ্যে থাকা প্রয়োজন।
৩. অন্তত মাধ্যমিক পাস হতে হবে (উচ্চশিক্ষিতরাও আবেদনযোগ্য)।
৪. আবেদনকারীকে অবশ্যই বেকার হতে হবে
৫. আবেদনকারীর পরিবারের মাসিক আয় ১ লক্ষ টাকার কম হতে হবে।
৬. উপভোক্তার নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে এবং তাতে আধার ও ডিবিটি (DBT) লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক।
আরও পড়ুন: ৫ নভেম্বর ঢুকবে কৃষক বন্ধুর টাকা, ৫০ লাখ মানুষ পাবে! তালিকায় আপনার নাম আছে তো?
অনলাইন আবেদন ও স্ট্যাটাস যাচাইয়ের নিয়ম
যুবশক্তির অনলাইন পোর্টাল চালু হওয়ার পর আবেদনকারীরা ঘরে বসেই নিজেদের মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। ফর্ম সঠিকভাবে জমা দেওয়ার পর একটি ইউনিক ‘অ্যাপ্লিকেশন আইডি’ বা রেজিস্ট্রেশন নম্বর মিলবে। সেই নম্বর দিয়ে সংশ্লিষ্ট সরকারি ওয়েবসাইটে লগইন করে আবেদনের বর্তমান স্থিতি (Status Check), ফর্ম গৃহীত বা বাতিল হওয়ার কারণ এবং অ্যাকাউন্টে টাকা আসার তথ্য সহজেই জেনে নেওয়া যাবে।
