ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) শেষ হওয়ার পরেও পশ্চিমবঙ্গে অনেকের নাম ভোটার তালিকায় নেই। এঁদের মধ্যে যাঁরা যোগ্য, তাঁদের তালিকায় ফেরানোর জন্য এবার নির্বাচন কমিশন আলাদা অভিযান শুরু করেছে। রাজ্যের ২৪টি নির্বাচনী জেলায় বিশেষ শিবির বসানোর কথা জানিয়েছে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর, যদিও ক্যাম্পের নির্দিষ্ট তারিখ এখনও ঘোষণা হয়নি।
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ কী?
SIR প্রক্রিয়া শেষ হওয়া ২০টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের খুঁজে নাম ফেরানোর জন্য ২৯ সেপ্টেম্বর লিখিত নির্দেশ পাঠিয়েছে কমিশন। রাজ্যে ১ অক্টোবর জেলা নির্বাচনী আধিকারিক আর নির্বাচনী নিবন্ধন আধিকারিকদের এই বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পর ১২ অক্টোবর রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর বিশেষ শিবির আয়োজনের বিজ্ঞপ্তি জারি করে।
বাড়ি বাড়ি যাবেন বিএলও-রা
রিপোর্ট অনুযায়ী, বুথ লেভেল অফিসাররা প্রায় এক মাস ধরে বাড়ি বাড়ি গিয়ে বাদ পড়া ভোটারদের চিহ্নিত করবেন এবং ফর্ম পূরণে সাহায্য করবেন। প্রতি সপ্তাহে অন্তত ২০ থেকে ২৫ জনের কাছে পৌঁছনোর কথা বলা হয়েছে। শিবির সাধারণত বসবে স্থানীয় স্কুল, পঞ্চায়েত অফিস বা পুরসভার ওয়ার্ড কার্যালয়ে।
ফর্ম ৬-এ কী বদল?
SIR চলাকালীন ফর্ম ৬-এর সঙ্গে একটা অতিরিক্ত ঘোষণাপত্র চাওয়া হত। ৩০ সেপ্টেম্বর কমিশন সেটা সরিয়ে নিয়েছে। এখন নির্বাচক নিবন্ধন বিধি, ১৯৬০ অনুযায়ী সাধারণ ফর্ম ৬-ই ব্যবহার হবে।
আবেদনের জন্য দরকারি নথি
- জন্ম শংসাপত্র বা মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডের মতো বয়সের প্রমাণ
- চাইলে আধার বা প্যান কার্ডের কপি
- সাম্প্রতিক পাসপোর্ট সাইজের ছবি
কীভাবে আবেদন করবেন?
অফলাইনে ফর্ম ৬ সংগ্রহ করে পূরণ করুন, নথির স্ব-প্রত্যয়িত কপি জুড়ে বিএলও-র কাছে জমা দিন। অনলাইনে ভোটার হেল্পলাইন অ্যাপ বা নির্বাচন কমিশনের পোর্টালে মোবাইল নম্বরে ওটিপি দিয়ে লগইন করে ফর্ম ৬ বেছে নিন, তথ্য ভরে নথি আপলোড করুন।
মনে রাখতে হবে
ফর্ম ৬ জমা দিলেই নাম উঠে যায় না। নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ আবেদন যাচাই করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। বাদ পড়া সবার নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ফিরিয়ে দেওয়ার কোনও ঘোষণাও হয়নি।
আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বিমা যোজনা ২০২৬, আপনার নাম আছে কিনা এভাবে চেক করুন
সব মিলিয়ে, নাম খুঁজে না পেলে অপেক্ষা না করে নথি গুছিয়ে স্থানীয় বিএলও-র সঙ্গে যোগাযোগ করুন বা অনলাইনে আবেদন করুন। বাদ পড়া যোগ্য ভোটারদের জন্য এই বিশেষ অভিযান নাম ফেরানোর একটা সুযোগ, তবে ফর্ম জমা দেওয়ার পরও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে নির্বাচনী কর্তৃপক্ষ।
