গত ১০ অক্টোবর দিল্লির জন্তর মন্তরে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (CJP)-র ডাকা বিক্ষোভের আগে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি (Dhruv Rathee)-কে গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে আটক করে পুলিশ। সিজেপির তরফে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে এই কর্মসূচি ডাকা হয়েছিল। ইটিভি ভারত ও পিটিআই-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ওই দিন রাতেই তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে তাঁর পরিচয়, পড়াশোনা আর আয় নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
ধ্রুব রাঠির জন্ম ও পড়াশোনা
১৯৯৪ সালের ৮ অক্টোবর হরিয়ানার রোহতকে জন্ম ধ্রুব রাঠির। স্কুলের পড়া হরিয়ানায় শেষ করে তিনি উচ্চশিক্ষার জন্য জার্মানি যান। উইকিপিডিয়া ও একাধিক প্রোফাইল অনুযায়ী, কার্লসরুহে ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (KIT) থেকে তিনি মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক এবং রিনিউয়েবল এনার্জিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন। তিনি ভারতীয় নাগরিক, বর্তমানে জার্মানিতে থাকেন।
ধ্রুব রাঠির ইউটিউব যাত্রা
২০১৩-১৪ সালের দিকে পড়াশোনার সময়েই তিনি ইউটিউবে ভিডিও আপলোড শুরু করেন। প্রথমে ভ্রমণ আর সাধারণ বিষয়ের ভিডিও থাকলেও পরে রাজনীতি, সমাজ ও পরিবেশ নিয়ে ব্যাখ্যামূলক ভিডিওতেই তাঁর পরিচিতি বাড়ে। এখন তাঁর প্রধান চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা প্রায় ৩.৩ কোটি (৩৩ মিলিয়ন)। এছাড়া তার ‘Dhruv rathee vlogs’ ও ‘Dhruv rathee shorts’ নামে আরও দুটো চ্যানেল রয়েছে।
ধ্রুব রাঠির মোট সম্পদ কত?
এই প্রশ্নের নির্ভরযোগ্য উত্তর আসলে নেই। কিছু সংবাদমাধ্যমের রিপোর্টে প্রায় ৫৮ কোটি টাকার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু সেই রিপোর্টেই স্বীকার করা হয়েছে যে অঙ্কটি কোনও যাচাই করা আর্থিক নথির ভিত্তিতে নয়। অন্য ওয়েবসাইটগুলোর আনুমানিক হিসেব প্রায় ২ কোটি থেকে ৬০ কোটি টাকা পর্যন্ত ছড়ানো। এই বিশাল ফারাকই বুঝিয়ে দেয়, সংখ্যাগুলো অনুমানের বেশি কিছু নয়।
রিপোর্ট অনুযায়ী তাঁর গাড়ির সংগ্রহে আছে রেঞ্জ রোভার, টেসলা মডেল ৩, বিএমডব্লিউ ৫ সিরিজ ও মার্সিডিজ-বেঞ্জ জিএলসি। তবে শুধু কয়েকটা গাড়ির নাম থেকে তাঁর মোট সম্পদ বোঝা সম্ভব নয়। বাড়ি, জমি বা অন্য স্থাবর সম্পত্তি নিয়েও যাচাই করা কোনও তথ্য প্রকাশ্যে নেই।
ইউটিউব থেকে আনুমানিক আয়
ইউটিউবের ট্র্যাকিং সাইটগুলো মূলত ভিউয়ের উপর আন্দাজ করে আয়ের হিসেব দেয়। বিজ্ঞাপনের হার দেশভেদে আলাদা হয়, তাই এই হিসেব আসল আয়ের থেকে আলাদা হতে পারে। বিভিন্ন সাইটের মাসিক আয়ের হিসেবও একে অপরের থেকে অনেকটাই আলাদা, ফলে কোনও একটা সংখ্যাকে নির্ভরযোগ্য বলা যায় না।
বিজ্ঞাপন ছাড়াও ব্র্যান্ড ডিল, স্পনসরশিপ, অনলাইন কোর্স, মার্চেন্ডাইজ ও ‘এআই ফিয়েস্তা’ নামের একটি এআই প্ল্যাটফর্ম তাঁর সম্ভাব্য আয়ের উৎস বলে রিপোর্টে এসেছে। কিন্তু এগুলো থেকে আসল আয়, খরচ বা কর নিয়ে কোনও যাচাই করা তথ্য নেই।
আরও পড়ুন: আটকে যেতে পারে অন্নপূর্ণার ৩০০০ টাকা, এই ৫ টি ভুলের কারণে
সব মিলিয়ে বলা যায়, ধ্রুব রাঠির পড়াশোনা আর কর্মজীবনের তথ্য মোটামুটি নিশ্চিত, কিন্তু সম্পত্তি ও আয় নিয়ে প্রচলিত সংখ্যাগুলো আনুমানিক হিসেব মাত্র। এগুলো পড়ার সময় সেটা মাথায় রাখাই ভালো।
