সেপ্টেম্বরে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাওয়া মানেই অক্টোবরের কিস্তি নিশ্চিত, এমনটা ধরে নেওয়া এখন ঝুঁকিপূর্ণ। রাজ্য সরকার জমা পড়া আবেদনের পুনর্যাচাই চালাচ্ছে, আর নারী ও শিশু কল্যাণমন্ত্রী মালতী রাভা রায় জানিয়েছেন, অযোগ্য বলে প্রমাণিত হলে তালিকা থেকে নাম বাদ যাবে। তাই নিজের আবেদন কোন কোন কারণে সমস্যায় পড়তে পারে, সেটা আগে থেকে দেখে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
এখন কেন এত যাচাই?
সেপ্টেম্বরে দেড় কোটিরও বেশি মহিলা অন্নপূর্ণা প্রকল্পের ৩০০০ টাকা পেয়েছেন। প্রশাসনের পর্যবেক্ষণ, এই তালিকার একটা অংশ নিয়ম না মেনে সুবিধা নিচ্ছিলেন। সেবা সেতু শিবির থেকেও বহু নতুন আবেদন জমা পড়েছে, তাই যাচাইয়ের কাজ এখন দ্রুত গতিতে চলছে।
অন্নপূর্নার আবেদনে এই পাঁচটা বিষয় মিলিয়ে নিন
১. ফর্মের তথ্যে ভুল: নাম, বয়স, ঠিকানা বা পরিবারের তথ্যে অসাবধানে ভুল থাকলেও আবেদন সমস্যায় পড়তে পারে। আধার আর ব্যাঙ্কের তথ্যের সঙ্গে ফর্মের তথ্য মিলিয়ে নিন।
২. যোগ্যতার তথ্য লুকানো: যোগ্যতার সঙ্গে সম্পর্কিত কোনও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আবেদনে না জানালে সেটা অনিয়ম বলে ধরা হয়।
৩. অন্য ভাতা বা পেনশন: আপনি অন্য কোনও সরকারি ভাতা বা পেনশন পেলে এই প্রকল্পের সুবিধা নেওয়া সমস্যার হতে পারে। যেমন, অন্নপূর্ণা আর বিধবা ভাতা একসঙ্গে মিলবে না, একটা বেছে নিতে হবে।
৪. সরকারি চাকরি: আপনি নিজে সরকারি চাকরিতে থাকলে এই প্রকল্পের সুবিধা মিলবে না। স্বামী বা পরিবারের অন্য কারও চাকরির ক্ষেত্রে বিষয়টা চাকরির ধরন ও আবেদনকারীর নিজের অবস্থার উপর নির্ভর করে।
৫. আয়কর দেওয়া: আয়করদাতা হলে আবেদন বাতিলের ঝুঁকি থাকে, তাই এই তথ্য ফর্মে সঠিকভাবে জানানো জরুরি।
অন্নপূর্ণার টাকা কবে ঢুকবে?
অক্টোবরের কিস্তি ঠিক কোন তারিখে আসবে, তা নিয়ে সরকারিভাবে এখনও নির্দিষ্ট ঘোষণা হয়নি। কারও কারও অনুমান, পুজোর আগেই প্রক্রিয়া শেষ হতে পারে, তবে এটা অনুমানই।
এখনই কী করবেন?
- পোর্টালে নিজের আবেদনের স্ট্যাটাস দেখুন
- আধার, ব্যাঙ্ক ও DBT-র তথ্য ঠিক আছে কিনা যাচাই করুন
- ফর্মে দেওয়া তথ্যে কোনও ভুল থাকলে স্থানীয় BDO বা পুরসভা অফিসে জানিয়ে সংশোধনের চেষ্টা করুন
আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণার ৩০০০ টাকা পুজোর মাস অক্টোবরে কবে ঢুকবে?
সব মিলিয়ে বলা যায়, এই পাঁচটা বিষয়ে আপনার তথ্য সঠিক থাকলে ভয়ের কিছু নেই। তবে সন্দেহ থাকলে যাচাই শেষ হওয়ার আগেই সংশ্লিষ্ট অফিসে গিয়ে অবস্থাটা জেনে নেওয়াই নিরাপদ।
