রেশন কার্ড (Ration Card) নিয়ে বাজারে নানা গুজব ছড়াচ্ছে, তবে আসল তথ্যটা একটু আলাদা। ১ অক্টোবর থেকে সব রেশন কার্ড বন্ধ হয়ে যাচ্ছে না — বরং নির্দিষ্ট কিছু সন্দেহজনক কার্ডের উপর নতুন করে নজর রাখার ব্যবস্থা চালু হচ্ছে।
রেশন কার্ড নিয়ে কেন্দ্রের নতুন নিয়মটা কী?
কেন্দ্রীয় খাদ্য ও গণবণ্টন দফতর ‘সাইলেন্ট’ রেশন কার্ড এবং একই ব্যক্তির নামে একাধিক জায়গায় সুবিধা নেওয়ার (ডুপ্লিকেট) অভিযোগ থাকা উপভোক্তাদের জন্য একটা নির্দিষ্ট কার্যপ্রণালী তৈরি করেছে।
এই ব্যবস্থাই SMART-PDS সিস্টেমে ১ অক্টোবর থেকে চালু হচ্ছে। কোনও কার্ড সন্দেহজনক মনে হলে তা সরাসরি স্থায়ীভাবে বাতিল হবে না, প্রথমে শুধু সাময়িকভাবে নিষ্ক্রিয় করা হবে, আর উপভোক্তাকে নিজের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ দেওয়া হবে।
‘সাইলেন্ট কার্ড’ মানে কী?
যে কার্ডে দীর্ঘদিন ধরে কোনও রেশন তোলা হয়নি, সেটাকেই বলা হচ্ছে সাইলেন্ট কার্ড। সাম্প্রতিক ব্যাখ্যা অনুযায়ী, টানা ছয় মাস রেশন না তোলা কার্ডই এই শ্রেণিতে পড়তে পারে। তাই যাঁরা অনেকদিন ধরে রেশন তোলেননি, তাঁদের নিজের কার্ডের অবস্থা একবার যাচাই করে নেওয়া ভালো।
রেশন কার্ড নিষ্ক্রিয় হলে কি করতে হবে?
একেবারেই না। সাইলেন্ট বা ডুপ্লিকেট হিসেবে চিহ্নিত হলেও কার্ড চিরতরে বাতিল হয়ে যাচ্ছে না। উপভোক্তারা তিন মাস সময় পাবেন e-KYC-এর মাধ্যমে নিজের যোগ্যতা নতুন করে প্রমাণ করার জন্য। ডুপ্লিকেট হিসেবে চিহ্নিত হলেও প্রয়োজনীয় নথি ও e-KYC দিয়ে নিজের বৈধতা যাচাই করার সুযোগ থাকছে।
নিয়মিত গ্রাহকদের চিন্তার কারণ নেই
যাঁরা নিয়মিত রেশন তোলেন এবং কার্ডের তথ্য ঠিকঠাক আছে, তাঁদের এই নতুন নিয়ম নিয়ে ভয় পাওয়ার দরকার নেই। কেন্দ্রীয় দফতর স্পষ্ট করেছে, এটা সব রেশন কার্ডধারীর জন্য নতুন করে e-KYC করার সাধারণ নির্দেশ নয় — শুধু সাইলেন্ট বা ডুপ্লিকেট হিসেবে চিহ্নিত হওয়া কার্ডের ক্ষেত্রেই এই প্রক্রিয়া প্রযোজ্য।
নিজের রেডন কার্ডের অবস্থা কীভাবে দেখবেন?
পশ্চিমবঙ্গ খাদ্য ও সরবরাহ দফতরের ওয়েবসাইটে গিয়ে ডিজিটাল রেশন কার্ডের নাম, ক্যাটেগরি, ঠিকানা, সংযুক্ত মোবাইল নম্বর ও কার্ডের বর্তমান স্ট্যাটাস দেখা যায়। সেখান থেকেই e-KYC ও আধার সংযুক্তির কাজও সারা যায়।
আরও পড়ুন: বর্ধমানে দাঁড়িয়ে অন্নপূর্ণা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী
সব মিলিয়ে বলা যায়, ১ অক্টোবরের আগে সবচেয়ে জরুরি কাজ হলো আতঙ্কিত না হয়ে নিজের কার্ডের প্রকৃত অবস্থা একবার যাচাই করে নেওয়া — কার্ড সক্রিয় আছে কিনা, আধার সংযুক্তি ঠিক আছে কিনা, আর দীর্ঘদিন রেশন তোলা বাকি পড়ে আছে কিনা। গুজবে কান না দিয়ে নিজের কার্ডের আসল তথ্যটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
