ভারতের আয়কর ব্যবস্থায় আসছে বড়সড় পরিবর্তন। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন সংসদে নতুন আয়কর বিল পেশ করেছেন। কেন্দ্রীয় সরকারের মতে, ১৯৬৭ সালের পুরনো আয়কর আইনকে আরো সহজ-সরল ও কার্যকর করতে এই নতুন বিল পেশ করা হয়েছে। নতুন এই বিল কার্যকর হলে করদাতাদের মামলা-মোকদ্দমার ঝামেলা কমে যাবে এবং আইনি প্রক্রিয়া আরো সহজ হবে।
নতুন আয়কর বিলে কী কী পরিবর্তন আসছে?
কেন্দ্র সরকারের প্রস্তাবিত নতুন আয়কর বিলে যে পরিবর্তনগুলি আনা হচ্ছে সেগুলি হল-
১) TDS-এর নিয়মে পরিবর্তন- নতুন আয়কর বিলের TDS সংক্রান্ত বেশ কিছু নিয়মে পরিবর্তন আনা হচ্ছে, যা করদাতাদের জন্য আরো সুবিধাজনক হবে।
২) বাড়ি বিক্রি ও মিউচুয়াল ফান্ডে নতুন নিয়ম- এতদিন বাড়ি বিক্রি, শেয়ার বা মিউচুয়াল ফান্ড থেকে আয়কর নির্ধারণ করা হতো ৫৪ ও ৫৪ ইসি ধারায়। তবে নতুন আইনে এটি বদল করে ৮২ এবং ৮৫ ধারায় গণনা করা হবে।
৩) পুরনো আইনের থেকে কম ধারা- আগের আয়কর আইনে ৮১৯ টি ধারা ছিল। নতুন আইনে তা সংশোধন করে ৫৩৬ টি করা হয়েছে। ফলে করদাতাদেরদের জন্য আইন বুঝতে আরো সুবিধা হবে।
৪) আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার- আয়কর দপ্তরের নতুন পোর্টালে বিভিন্ন ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। যেখানে পুরনো আইনের ধারা উল্লেখ করলেই নতুন ধারার অবস্থান দেখা যাবে।
৫) কৃষিজমির সংজ্ঞা আরো স্পষ্ট- নতুন আয়কর আইনে কৃষি জমির সংজ্ঞা এখন আরও সহজ ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে, যা আগে অনেকের বুঝতে অসুবিধা হতো।
৬) মূল্যায়ন বছর ও করবর্ষের ব্যাখ্যা- নতুন আয়কর বিলে মূল্যায়ন বছর এবং করবর্ষ সম্পর্কিত বিষয়গুলি এখন আরো সহজ করা হয়েছে। আয়কর দপ্তরের মতে যে বছর আয় হবে সেটাই করবর্ষ এবং আয়কর প্রদান করা হবে পরবর্তী বছরে।
আরও পড়ুন: বার্ড ফ্লু নয়, তাহলে কী? কেন রাজ্যে হাজার হাজার মুরগির মৃত্যু হচ্ছে জানেন?
কবে থেকে কার্যকর হবে এই নতুন বিল?
সূত্রের খবর অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মধ্যে সংসদে এই আইকর বিলটি পেশ করা হতে পারে। তবে এটি কার্যকর হতে হতে ২০২৬ সালের এপ্রিল মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এই নতুন আয়কর বিলের মাধ্যমে কর ব্যবস্থাকে আরো সহজ করা হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের বোঝার সুবিধার্থে সহজ সরল ভাষায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে।