পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন এখন অন্তিম পর্যায়ে। তবে বিয়ের পর পদবী বা ঠিকানা বদলে যাওয়ার কারণে বিবাহিত মহিলাদের ক্ষেত্রে এই এসআইআর এর ফর্ম পূরণ করতে বিভ্রান্তি হচ্ছে। কিন্তু একটু নিয়ম মেনে চললেই এই কাজ অত্যন্ত সহজ। জানতে হলে চোখ রাখুন আজকের প্রতিবেদনটিতে।
ফর্মের শুরুতে কী কী লিখবেন?
দেখুন, ফর্মের উপরের অংশটি সকল আবেদনকারীর জন্যই বাধ্যতামূলক। আর এখানে বর্তমান তথ্য দিতে হবে। সেক্ষেত্রে বর্তমান ভোটার কার্ডে যা লেখা রয়েছে সেই নাম, এপিক নাম্বার এবং ঠিকানা বসাতে হবে। আর সাম্প্রতিক তোলা একটি ছবি লাগাতে হবে। দুটি ফর্মের নির্দিষ্ট জায়গাতেই আপনার ছবি বসাতে হবে।
তবে বলে রাখি, জন্মতারিখের জায়গায় যদি শুধুমাত্র সাল লেখা থাকে বা XX দেওয়া থাকে, তাহলে সম্পূর্ণ জন্মতারিখ উল্লেখ করবেন। আর বাবার নামে জায়গায় বিবাহিত মহিলাদের ভোটার কার্ডে সাধারণত স্বামীর নাম থাকে। কিন্তু এসআইআর ফর্মে অবশ্যই বাবার নামে লিখতে হবে। পাশাপাশি মোবাইল নম্বর এবং আধার নম্বরও দিতে হবে। আর পরিবারের সদস্যদের এপিক নম্বর যদি থাকে তাহলে দিতে পারেন।
২০০২ সালের ভোটার লিস্টে নাম না থাকলে কী করবেন?
বিয়ের পর যে সমস্ত মহিলার বয়স কম বা ২০০২ সালে ভোটার লিস্টে যাদের তাদের নাম ছিল না তাদের ফর্মের ডানদিকের কলাম পূরণ করতে হবে। সেক্ষেত্রে নিন্মলিখিত ধাপগুলো অনুসরণ করুন—
- প্রথমে আত্মীয়র নামের জায়গায় বাবা-মা, যার নাম বসাতে চাইছেন তার নাম লিখতে হবে।
- এরপর তাঁর ২০০২ সালের এপিক নম্বর লিখতে হবে।
- তারপর ২০০২ সালের লিস্টে যা সম্পর্ক লেখা রয়েছে বাবা, স্বামী কিংবা মা, সেই তথ্য লিখতে হবে।
- এরপর সেই সময়কার জেলা, বিধানসভার নাম, পার্ট নম্বর এবং ক্রমিক সংখ্যা লিখতে হবে। মনে রাখবেন, এটি ২০০২ সালের লিস্ট দেখেই আপনাকে লিখতে হবে।
২০০২ সালের ভোটার লিস্টে নাম থাকলে কী করবেন?
যাদের বয়স বেশি বা বিয়ের আগে বাবার বাড়িতে ২০০২ সালে লিস্টের নাম ছিল, তাদের ফর্মের বাঁদিকের অংশটিকে পূরণ করতে হবে। সেক্ষেত্রে নিন্মলিখিত ধাপগুলো অনুসরণ করুন—
- ২০০২ সালে যদি নাম থাকে, বিয়ের আগে যে নাম ছিল সেই নাম বসাতে হবে। বর্তমান পদবীর থেকে আলাদা হলেও কোনও সমস্যা নেই।
- এরপর ২০০২ সালের এপিক নম্বর বসাতে হবে।
- এরপর সেই সময়ের কোনও আত্মীয়র নাম বসাতে হবে। সেক্ষেত্রে আপনি বাবার নাম বসাতে পারেন।
- এবার ২০০২ সালের সম্পূর্ণ ঠিকানা বসাতে হবে।
- এবার ভোটার লিস্ট দেখেই জেলা, বিধানসভা, পার্ট নম্বর এবং ক্রমিক নম্বর বসাতে হবে।
আরও পড়ুনঃ Bank Merger: ব্যাংক গ্রাহকদের জন্য বড় খবর! এই ৭ টি ব্যাংকের বদলে থাকবে মাত্র ৪টি ব্যাংক
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা
এক্ষেত্রে বলে রাখি, বাংলায় লিখলে সম্পূর্ণ ফর্মই বাংলায় লিখতে হবে। আর ইংরেজিতে লিখলে সম্পূর্ণ ফর্ম ইংরেজিতে ক্যাপিটাল লেটার লিখতে হবে। আর সংখ্যাগুলো ইংরেজিতে লিখলেই সবথেকে ভালো হবে। তবে ২০০২ সালের তথ্যের একটুও পরিবর্তন করা যাবে না। বানান যা রয়েছে তাই বসাতে হবে। আর ফর্মের শেষে অবশ্যই আবেদনকারীর সই বাধ্যতামূলক। তবে যদি দাদু বা ঠাকুমার তথ্য ব্যবহার করেন, তাহলে সম্পর্কের জায়গায় সঠিক অপশন না থাকলে বিএলও-র সঙ্গে কথা বলে জমা দিতে পারেন।
