বাংলায় এক অজানা রোগের কারণে হাজার হাজার মুরগির মৃত্যু হচ্ছে। তবে আশ্চর্যের একটি বিষয় হল, এই রোগটি নাকি বার্ড ফ্লু নয়! প্রাণী চিকিৎসকদের মতে আবহাওয়ার পরিবর্তন এবং খামারের যত্নের অভাবে নাকি এই রোগ হচ্ছে। পূর্ব বর্ধমানের ভাতার এবং আউশগ্রামের খামার মালিকরা এই পরিস্থিতিতে চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।
হঠাৎ কেন এত মুরগির মৃত্যু?
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে পূর্ব বর্ধমান জেলার বিভিন্ন এলাকার খামার থেকে প্রচুর মুরগির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছে। ছোট থেকে বড় সব মুরগিই আক্রান্ত হচ্ছে। প্রথমে মুরগিগুলির মধ্যে ঝিমুনি ভাব দেখা গেলেও পরে মুরগিগুলি ক্রমশ অবসন্ন হয়ে পড়ছে এবং শেষ পর্যন্ত মারা যাচ্ছে। খামার মালিকরা এই রোগের প্রকৃত কারণ এখনো বুঝতে পারছেন না। কারণ সাধারণ ওষুধ এই রোগে কাজ করছে না।
একজন ক্ষতিগ্রস্ত খামার মালিক বলেছেন, “আমার ২০০০ টির বেশি মুরগি মারা গেছে। কীভাবে এত মুরগির মৃত্যু হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছি না। বাজারেও এর প্রভাব পড়ছে।”
বার্ড ফ্লু নয়, তাহলে কী?
বিশেষজ্ঞ প্রাণী চিকিৎসক ডাক্তার পার্থ সরকার জানিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গে এখনো পর্যন্ত বার্ড ফ্লু ধরা পড়েনি। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তন, পর্যাপ্ত আলো না পাওয়া অথবা পরিচর্যার অভাবেও মুরগির মৃত্যু হতে পারে। সরকারের প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই মুহূর্তে রাজ্যে বার্ড ফ্লু রোগ নেই। তবে খামারগুলিকে বিশেষ নজরদারি করার প্রয়োজন রয়েছে। প্রতিটি খামারেই মুরগির স্বাস্থ্যের উপর বিশেষ নজর দিতে হবে।
ক্ষতির মুখে মুরগি খামার ব্যবসায়ীরা
এই রহস্যজনক রোগের কারণে ব্যবসায়ীরা বড়সড় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষ করে কন্ট্রাক্ট ফার্মিং করা ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ সম্পূর্ণরূপে বিফলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। খামার মালিকরা এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।
আরও পড়ুন: বাজারে লাগাম টানতে মুখ্যমন্ত্রীর নতুন প্ল্যান, এবার নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম কমবে
সরকারের পদক্ষেপ
প্রাণী সম্পদ উন্নয়ন দপ্তর জানিয়ে দিয়েছে, রাজ্যের প্রতিটি খামারকে সতর্ক করা হয়েছে এবং আক্রান্ত মুরগির নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার নির্দেশে দেওয়া হয়েছে। এখন দেখার বিষয় এই রহস্যজনক রোগ কত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনা যায়।
বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন খামার পরিচ্ছন্ন রাখা, সঠিক আলো এবং পর্যাপ্ত ওষুধের ব্যবস্থা করা বাধ্যতামূলক। যদি সময় মত ব্যবস্থা না নেওয়া হয় তাহলে এই রোগের প্রভাবে পোল্ট্রি ব্যবসা ধুলিস্যাৎ হয়ে যেতে পারে।