রাজ্যের অন্নদাতাদের জন্য বিরাট আর্থিক সহায়তার সুখবর দিল রাজ্য প্রশাসন। দীর্ঘদিন ধরে প্রতীক্ষায় থাকা রাজ্যের ৫০ লাখেরও বেশি কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি পৌঁছে যেতে চলেছে কৃষক কল্যাণ প্রকল্পের আর্থিক সহায়তা।
আগামী ৫ নভেম্বর একটি বিশেষ প্রশাসনিক অনুষ্ঠান থেকে একযোগে এই অর্থ উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি ট্রান্সফার (DBT) করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। উৎসবের মরশুমের আবহে সরকারের এই বড় ঘোষণায় গ্রামীণ কৃষি পরিবারগুলির মধ্যে তীব্র উৎসাহ ও স্বস্তি দেখা দিয়েছে।
একসাথে দুই কিস্তির টাকা
নবান্নে আয়োজিত এক সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, পূর্বতন সরকারের আমলের ‘কৃষক বন্ধু’ প্রকল্পের কাঠামোগত পুনর্বিন্যাস ঘটিয়ে ‘প্রধানমন্ত্রী কিষান সম্মাননিধি’ (PM-Kisan) রূপায়ণে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে বর্তমান প্রশাসন। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত কিস্তির টাকা সরাসরি চাষিদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, কেন্দ্রের পিএম-কিষান সম্মান নিধি প্রকল্পের আওতায় রাজ্যের কৃষকরা ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রীর থেকে দুটি কিস্তির বাবদ চার হাজার টাকা (২,০০০ + ২,০০০) নিজেদের অ্যাকাউন্টে পেয়ে গিয়েছেন। এবার রাজ্য সরকারের তহবিল থেকেও পিএম-কিষান প্রাপকদের অ্যাকাউন্টে বকেয়া থাকা দুটি কিস্তির টাকা একসঙ্গে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
কবে এবং কীভাবে টাকা পাবেন?
আগামী ৫ নভেম্বর সকাল ১১টায় হুগলির পুরশুড়ায় আয়োজিত এক মেগা জনসভা ও সরকারি পরিষেবা প্রদান মঞ্চ থেকেই এই প্রক্রিয়ার সূচনা হবে। অনুষ্ঠানে রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী দুধকুমার মণ্ডলের উপস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রী নিজে একটি ক্লিকেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে রাজ্যের সমস্ত জেলার ৫০ লক্ষের বেশি নথিভুক্ত কৃষকের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে সরাসরি এই টাকা পাঠানোর নির্দেশ দেবেন। কৃষকদের কোথাও যেতে হবে না; সরাসরি ডিবিটি-র (Direct Benefit Transfer) মাধ্যমে তাঁদের রেজিস্টার্ড ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়ে যাবে।
প্রশাসনিক স্তরে বাড়তি বরাদ্দের ঘোষণা
কৃষি সহায়তার পাশাপাশি রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নমূলক কাজ দ্রুত শেষ করতে প্রশাসনিক স্তরেও কড়া বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, সরকারি দফতরগুলির মধ্যে যারা ইতিমধ্যে তাদের মূল বরাদ্দের ৭০ শতাংশ অর্থ যথাযথভাবে খরচ করতে পেরেছে, তাদের উন্নয়ন খাতে (Plan Head) আরও ২০ শতাংশ অতিরিক্ত তহবিল ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: পঞ্চায়েতগুলিতে পৌঁছাচ্ছে ৪৬৮ কোটি টাকা, কী কী কাজ হবে?
তবে ইউটিলাইজেশন সার্টিফিকেট (UC) জমা দেওয়ার শর্তেই পরবর্তী পর্যায়ে বরাদ্দ দেওয়া হবে। একই সঙ্গে আগামী ১১ নভেম্বর থেকে ১৮ নভেম্বর পর্যন্ত রাজ্যজুড়ে বৃহৎ আকারে ‘জনজাতি গৌরব দিবস’ পালনের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।
