আইডিবিআই ব্যাঙ্কের (IDBI Bank) সিংহভাগ অংশীদারি বিক্রির প্রক্রিয়ার পর এবার দেশের আরও চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে নিজেদের অংশীদারি কমানো অর্থাৎ ব্যাঙ্কের শেয়ার বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার।
শেয়ার বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবির (SEBI) ‘মিনিমাম পাবলিক শেয়ারহোল্ডিং’ (MPS) নিয়ম মানতে সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া, ইউকো ব্যাঙ্ক, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্ক এবং পাঞ্জাব অ্যান্ড সিন্ধ ব্যাঙ্কে সরকারি অংশীদারি কমিয়ে ৭৫ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা শুরু হয়েছে। কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের খবর প্রকাশ্যে আসতেই শেয়ার বাজারে ব্যাঙ্কগুলির স্টকে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
4 টি ব্যাঙ্কের শেয়ার কেন বিক্রি করছে সরকার?
সেবি (SEBI)-র নিয়ম অনুসারে, দেশের স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত যেকোনো সংস্থায় সাধারণ শেয়ারহোল্ডারদের অংশীদারি ন্যূনতম ২৫ শতাংশ থাকা বাধ্যতামূলক। সরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে এতদিন এই নিয়ম থেকে বিশেষ ছাড় দেওয়া হলেও, খুব শীঘ্রই ব্যাঙ্কগুলিকে এই বিধির আওতায় আনা হচ্ছে।
বর্তমানে উল্লিখিত চারটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে কেন্দ্রের অংশীদারি ৯০ শতাংশের উপরে রয়েছে। তাই আগামী এক বছরের মধ্যে অফার ফর সেল (OFS) অথবা বাজার থেকে নতুন মূলধন সংগ্রহের মাধ্যমে ধাপে ধাপে সরকারি অংশীদারি ৭৫ শতাংশে নামিয়ে আনাই অর্থ মন্ত্রকের প্রাথমিক লক্ষ্য। বাজারে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বাড়লে ব্যাঙ্কগুলির মূল্যায়ন (Valuation) বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করছেন বাজার বিশেষজ্ঞরা।
বেসরকারিকরণ ও একত্রীকরণের বড় ইঙ্গিত
অংশীদারি কমানোর নিয়মের পাশাপাশি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কিং ক্ষেত্রে দ্বিতীয় দফার একত্রীকরণ ও বেসরকারিকরণের রূপরেখাও প্রস্তুত করছে কেন্দ্র। নীতি আয়োগের সুপারিশ অনুযায়ী, বেসরকারিকরণের সম্ভাব্য তালিকায় সেন্ট্রাল ব্যাঙ্ক অব ইন্ডিয়া এবং ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্কের নাম প্রাথমিকভাবে উঠে এসেছে।
কেন্দ্রীয় সরকারের দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য হলো গোটা দেশে কেবল তিন থেকে চারটি বৃহৎ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্ক টিকিয়ে রাখা এবং বাকি ছোট ও মাঝারি ব্যাঙ্কগুলিকে হয় সংযুক্ত করা অথবা বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়া। তবে ব্যাঙ্ক বেসরকারিকরণ কার্যকর করার জন্য সংসদের অনুমোদন ও ব্যাঙ্কিং আইনে (Banking Companies Acquisition and Transfer of Undertakings Act) প্রয়োজনীয় সংশোধনী আনা প্রয়োজন।
আরও পড়ুন: স্টেট ব্যাঙ্ক গ্রাহকদের তথ্য ফাঁস! SBI-তে অ্যাকাউন্ট থাকলেই সাবধান
ব্যাঙ্কের সাধারণ গ্রাহকদের কী প্রভাব পড়বে?
অংশীদারি কমানো এবং বেসরকারিকরণ নিয়ে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা গেলেও বিশেষজ্ঞদের দাবি, আমানতকারীদের আতঙ্কের কোনো কারণ নেই:
সেবির নিয়ম অনুযায়ী ২৫% পাবলিক শেয়ারহোল্ডিং নিশ্চিত করা কোনো বেসরকারিকরণ নয়; এটি কেবল স্টক মার্কেটের নিয়মরক্ষা।
সরকার অংশীদারি ৭৫ শতাংশে নামিয়ে আনলেও ব্যাঙ্কগুলির সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ, মালিকানা এবং পরিচালন ভার কেন্দ্রীয় সরকারের হাতেই থাকবে।
সাধারণ গ্রাহকদের ফিক্সড ডিপোজিট (FD), সেভিংস অ্যাকাউন্ট, ঋণের শর্তাবলী এবং ব্যাঙ্কিং পরিষেবার ক্ষেত্রে এর কোনো সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না।
