পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষাব্যবস্থা ও প্রাতিষ্ঠানিক পাঠ্যক্রম নিয়ে এবার অত্যন্ত কড়া ও তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের ঐতিহ্য, নিজস্ব ভাষা এবং শুদ্ধ সংস্কৃতি পুনরুদ্ধারের ডাক দিয়ে তিনি স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই রাজ্যের শিক্ষা পরিকাঠামোয় বড়সড় সংস্কার আসতে চলেছে।
শুধু পুথিগত পড়াশোনাতেই সীমাবদ্ধ না রেখে শিক্ষার্থীদের ছোটবেলা থেকেই দেশপ্রেমী, নীতিবান এবং ভারতীয় ভাবধারায় গড়ে তোলার লক্ষ্যে সিলেবাস এবং স্কুলের প্রাত্যহিক কার্যক্রমে আমূল পরিবর্তন আনা হবে।
ভাষা ও শব্দের বিকৃতি রোধে কড়া বার্তা
রাজ্যের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় ঢুকে পড়া নানা বিচ্যুতি নিয়ে পূর্বতন বাম ও তৃণমূল সরকারের ভূমিকার তীব্র সমালোচনা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বছরের পর বছর ধরে পাঠ্যবই এবং স্কুল স্তরে বাংলার নিজস্ব ঐতিহ্য ও শব্দকে সরিয়ে অপ্রাসঙ্গিক ভাষা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে।
তাঁর স্পষ্ট মন্তব্য, “৩৪ বছরের বাম শাসন ও ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনে রাজ্যের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি নষ্ট হয়েছে। মাকে আম্মা শেখানো হয়েছে। ফুফু, বুবু, রংধনু—এসব কী? এসব আর বরদাস্ত করা হবে না। এই সব বিকৃতি বন্ধ করে বাংলার নিজস্ব পরিচিতি ও ঐতিহ্য ফেরানোর জন্য সার্বিক বদলের প্রয়োজন।”
প্রাথমিক স্তর থেকেই ভারতীয় সংস্কৃতি চর্চা
মুখ্যমন্ত্রী জানান, ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক প্রতিভার বিকাশ ঘটানো অত্যন্ত জরুরি। সেই কারণে প্রাথমিক স্তর থেকেই প্রতিটি স্কুলে ভারতীয় সুর ও বাদ্যযন্ত্রের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা থাকা উচিত। তিনি বলেন, স্কুলে হারমোনিয়াম, তবলা, সেতার, গিটার, খঞ্জনি ও মৃদঙ্গের মতো ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্রের চর্চা থাকলে শিশুদের মানসিক বিকাশ আরও সমৃদ্ধ হবে।
বিতর্ক, কুইজ ও বক্তৃতার মাধ্যমে বৌদ্ধিক বিকাশ
শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক ভাবনা ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির জন্য স্কুলের সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে নতুন নিয়ম চালুর পরামর্শ দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি নির্দেশমূলক সুরে বলেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে বছরে অন্তত তিন দিন বাধ্যতামূলকভাবে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, কুইজ এবং তাৎক্ষণিক বক্তৃতার মতো অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে হবে। এছাড়া স্কুলে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং জাতীয়তাবাদী চেতনা গড়ে তুলতে এনসিসি (NCC)-র ভূমিকা পুনরায় শক্তিশালী করার ওপরও তিনি জোর দেন।
আরও পড়ুন: পুজোর আবহে ফুড অ্যালোয়েন্স বাড়ল পুলিশ কর্মীদের, বাড়তি কত টাকা ঢুকবে দেখুন হিসেব
প্রশাসনিক ও শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্যের পর স্পষ্ট যে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকেই প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তরের পাঠ্যপুস্তকের ভাষা, সিলেবাসের আধেয় এবং সহ-পাঠ্যক্রমিক নিয়মে বড় ধরনের সরকারি নির্দেশিকা জারি হতে চলেছে।
