সাত দিন পরপর বাড়ি বাড়ি চলে যাবে পুষ্টিকর খাবার! স্বাধীনতার পর এই প্রথম….

পশ্চিমাঞ্চলের জঙ্গলমহল এলাকার উন্নয়ন ও প্রান্তিক জনজাতির জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বড় পদক্ষেপ নিল রাজ্য সরকার। শুক্রবার ঝাড়গ্রামের মানিকপাড়া অঞ্চলের লোধা-শবর অধ্যুষিত কালাঝারিয়া গ্রামে উপস্থিত হয়ে উপজাতি গোষ্ঠীর জন্য বিশেষ পুষ্টিকর খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

স্বাধীনতার পর এই প্রথম কোনো মুখ্যমন্ত্রী এই প্রত্যন্ত গ্রামে সরাসরি সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিলেন। পাশাপাশি গোটা ঝাড়গ্রাম জেলার পরিকাঠামো ও সামগ্রিক রূপরেখা বদলে দিতে মোট ৩৪২ কোটি টাকা বরাদ্দের ঘোষণা করা হয়েছে।

খাবারের প্যাকেটে কী কী থাকবে?

রাজ্য বাজেটে ঘোষিত প্রতিশ্রুতি পূরণ করে মুখ্যমন্ত্রী জানান, উপজাতি পরিবারগুলির পুষ্টির ঘাটতি মেটাতে এবার প্রতি সপ্তাহে সরাসরি বাড়ি বাড়ি খাদ্যসামগ্রীর কিট পৌঁছে দেওয়া হবে। সাধারণ রেশন ব্যবস্থার বাইরে এটি একটি সম্পূর্ণ অতিরিক্ত পরিষেবা হিসেবে কার্যকর হবে। প্রতিটি ফুড কিটের মধ্যে থাকবে:

  • প্রয়োজনীয় চাল ও ডাল

  • ভোজ্য তেল

  • পুষ্টিকর সয়াবিন

প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রায় ৪৫ হাজার এবং ঝাড়গ্রামের প্রায় ২৫ হাজার উপজাতি পরিবার সরাসরি উপকৃত হবে।

পড়ুয়াদের স্কলারশিপ ও ১০০ দিনের কাজের নিশ্চয়তা

খাদ্য প্রকল্পের পাশাপাশি শিক্ষাক্ষেত্রেও বড় ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। ঝাড়গ্রামের প্রায় ২ লক্ষ আদিবাসী পড়ুয়াকে ৮০০ টাকা করে এসটি (ST) স্কলারশিপ প্রদানের কথা জানান তিনি। একইসঙ্গে গ্রামীণ কর্মসংস্থানে গতি আনতে চালু হচ্ছে ‘আদিবাসী মহিলা সমৃদ্ধি যোজনা’।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now

মুখ্যমন্ত্রী আশ্বাস দিয়ে জানান, এই অঞ্চলে ১২৫ দিনের কাজের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে এবং যাঁদের জবকার্ড প্রয়োজন, তাঁদের দ্রুত নতুন কার্ড প্রদান করা হবে। এছাড়া বর্তমানে এই জেলায় ২ লক্ষ ৭২ হাজারেরও বেশি মহিলা ‘অন্নপূর্ণা যোজনা’-র মাসিক সুবিধা পাচ্ছেন বলেও তিনি তথ্য তুলে ধরেন।

উন্নয়নের জন্য ৬ মাসের কড়া ডেডলাইন

পশ্চিমাঞ্চলের সার্বিক উন্নয়নের দায়িত্ব নিজের কাঁধে তুলে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট নির্দেশ দেন, বরাদ্দের ৩৪২ কোটি টাকা দিয়ে আগামী ৬ মাসের মধ্যে ঝাড়গ্রামের সর্বাঙ্গীণ উন্নয়ন সম্পন্ন করতে হবে। জেলাশাসককে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে সমস্ত প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়নের কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: অন্নপূর্ণা ভাণ্ডারে আবার আবেদনের সুযোগ! কোথায় যেতে হবে, কী কী রেডি রাখবেন জানুন

প্রান্তিক লোধা ও শবর সম্প্রদায়ের ঘরে ঘরে পুষ্টিকর খাবার পৌঁছে দেওয়ার এই নতুন সরকারি উদ্যোগকে জঙ্গলমহলের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মহল।

Leave a Comment