অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার সহ অন্যান্য সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে এবার আইন মানাটাও বাধ্যতামূলক হয়ে দাঁড়াল। রাজ্য প্রশাসনের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে, বাল্যবিবাহ বা নাবালিকা মাতৃত্বের মতো ঘটনায় জড়িত থাকলে সেই পরিবারের সরকারি ভাতা ও সামাজিক সুযোগ-সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হবে। কড়া আইন থাকা সত্ত্বেও এই ধরনের ঘটনা কমছে না বলেই এমন সিদ্ধান্তের পথে হাঁটতে হচ্ছে প্রশাসনকে।
কাদের বন্ধ হবে সরকারি প্রকল্পের সুবিধা?
প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, কোনও পরিবারে ১৮ বছরের কমবয়সি মেয়ের বিয়ে হয়েছে বলে প্রমাণ মিললে, বা কিশোরী স্ত্রীর অল্প বয়সে সন্তান জন্ম দেওয়ার ঘটনা সামনে এলে, সেই পরিবারের প্রাপ্য সরকারি প্রকল্পের সহায়তা তৎক্ষণাৎ বাতিল হয়ে যাবে। শুধু তাই নয়, ভবিষ্যতেও তারা কোনও সামাজিক ভাতার আওতায় আসতে পারবে না।
বাল্য বিবাহ নিয়ে কড়া আইন
শুধু ভাতা বন্ধ নয়, ২০০৬ সালের বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ আইন এবং পকসো আইনের একাধিক ধারায় দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নাবালিকা স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন পকসো আইনে যৌন নির্যাতন হিসেবে গণ্য হবে, যার জন্য স্বামীর ১০ থেকে ২০ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড হতে পারে।
স্ত্রীর বয়স ১৬ বছরের নিচে হলে সাজা যাবজ্জীবন পর্যন্ত গড়াতে পারে। একইভাবে, ২১ বছরের কমবয়সি পাত্রকেও আইনের চোখে অপ্রাপ্তবয়স্ক ধরা হবে, আর সেক্ষেত্রে দু’বছরের কারাদণ্ড ও এক লক্ষ টাকা জরিমানার সংস্থান রয়েছে।
নাবালিকার গর্ভধারণ বা প্রসবের খবর পেলেই পুলিশ নিজে থেকেই পকসো আইনে মামলা রুজু করবে বলেও জানানো হয়েছে।
বাদ যাবেন না পুরোহিত, কাজি বা অভিভাবকও
শুধু বর-কনে নয়, বিয়ের আয়োজনে যুক্ত সবাইকেই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। যে পুরোহিত বা কাজি নাবালিকার বিয়ে সম্পন্ন করাবেন, তাঁদের দু’বছরের জেল ও জরিমানার পাশাপাশি পকসো আইনেও মামলা হতে পারে। মেয়ের বিয়েতে সায় দেওয়া বাবা-মা বা অভিভাবকদের বিরুদ্ধেও ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, আর প্রয়োজনে আদালত আগাম নিষেধাজ্ঞা জারি করে বিয়ে আটকাতে পারবে।
বয়স প্রমাণ করতে হবে সরকারি নথি দিয়ে
রাজ্যজুড়ে নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য দফতর। যেসব পরিবারে নাবালিকা বধূর খোঁজ মিলবে, সেখানে শোকজ নোটিস পাঠানো হবে এবং বিয়ের সময় স্ত্রীর বয়স ১৮ পেরিয়েছিল কিনা, তা স্কুল সার্টিফিকেট, জন্মের শংসাপত্র বা পরিচয়পত্র দিয়ে প্রমাণ করতে হবে।
আরও পড়ুন: Yuva Shakti Bekar Bhata: শুরু হচ্ছে যুবশক্তির আবেদন, এই নথিগুলি এখনই রেডি করে রাখুন
প্রমাণ দিতে না পারলে জেল পর্যন্ত হতে পারে। হাসপাতালে নাবালিকা প্রসবের তথ্য গোপন করলে ছাড় পাবেন না চিকিৎসক বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে এই নিয়ম সব ক্ষেত্রেই সমানভাবে প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।
