ভারতের অধিকাংশ কৃষক এখনো পর্যন্ত সরকারের চালু করা বিভিন্ন প্রকল্প সম্পর্কে জানে না। অথচ এই স্কিমগুলি শুধুমাত্র ভর্তুকি দেওয়ার জন্য নয়, বরং কৃষকদের আয় বাড়ানো থেকে শুরু করে আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত করা, বার্ধক্য বয়সে সুরক্ষা দেওয়া, সবকিছুই করে।
প্রধানমন্ত্রী কিষাণ সম্মান নিধি (PK Kisan) যোজনায় যেমন প্রতি বছরে ৬০০০ টাকা আর্থিক সহায়তা মেলে, ঠিক তেমনই আরো কয়েকটি বড় প্রকল্প রয়েছে কৃষকদের জন্য। আর এই স্কিমগুলি থেকেও প্রতিমাসে মোটা অংকের পেনশন এমনকি লাখ লাখ টাকা সুবিধা মেলে। চলুন বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক সেরকম কিছু প্রকল্প সম্পর্কে।
1. প্রধানমন্ত্রী কিষাণ মানধন যোজনা
১৮ থেকে ৪০ বছর বয়সী যেকোনো ছোট বা প্রান্তিক কৃষকদের জন্য এই প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রকল্পে মাসে মাত্র ৫৫ থেকে ২০০ টাকা জমা দিতে হয়। আর সরকারও সমান অঙ্কের টাকা জমা দেয়। এই প্রকল্পের আওতায় ৬০ বছর বয়সের পর কৃষকরা প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা পেনশন পায়। ফলে অবসর সময়ে এটি অর্থ উপার্জনের মূল ভরসা হতে পারে।
2. প্রধানমন্ত্রী ধন-ধান্য কৃষি যোজনা
২০২৫ সালের ১৬ জুলাই দেশের পিছিয়ে পড়া ১০০টি কৃষি জেলার জন্যই এই প্রকল্প চালু করা হয়েছিল। এই প্রকল্পে মূলত কৃষকদের টেকনিক্যাল প্রশিক্ষণ ও আধুনিক বীজ দেওয়া হয়। পাশাপাশি ফসল বৈচিত্র, ক্রমশক্তি ও বাজারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপনে সহায়তা করা হয়।
3. প্রধানমন্ত্রী কৃষি সিঞ্চাই যোজনা
প্রত্যেক ক্ষেতে জল পৌঁছে দেওয়া মূলত এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রীর এই প্রকল্পে ড্রিপ সিঞ্চাই, খাল সংস্কার, প্রকুর নির্মাণ, জল সংরক্ষণের জন্য অর্থ সাহায্যে দেওয়া হয়। এমনকি যে সমস্ত অঞ্চলে বর্ষার জল ভরসা, সেখানে এই প্রকল্প আশীর্বাদস্বরূপ বলা যায়।
4. কৃষি উড়ান যোজনা
কৃষিজাত পণ্য দ্রুত এবং নিরাপদে বাজারে পৌঁছে দেওয়ার জন্য এই প্রকল্পটি সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ। উত্তর-পূর্ব পাহাড়ি বা আদিবাসী অঞ্চলের কৃষকরা এই প্রকল্পের আওতায় বিশেষভাবে উপকৃত হচ্ছে, তা বলা চলে। ফল, ফুল, শাকসবজি, মাছ, দুধ বিমান পথে দেশের ৫৮টি বিমানবন্দরের মাধ্যমে পাঠানো হচ্ছে এই প্রকল্পের আওতায়। এতে কৃষকরা ভালো দাম পাচ্ছে আর নষ্ট হওয়ার হারও কমছে।
আরও পড়ুনঃ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে নতুন পদক্ষেপ! এবার এইভাবে ফর্ম জমা করতে হবে
5. প্রধানমন্ত্রী ফসল বীমা যোজনা
কেন্দ্র সরকারের এই প্রকল্পের আওতায় প্রাকৃতিক দুর্যোগে ফসল নষ্ট হলে আর্থিক সহায়তা পাওয়া যায়। হ্যাঁ, সামান্য প্রিমিয়ামেও মিলবে সম্পূর্ণ ফসল বীমা কভার। এমনকি ৫০টির বেশি ফসল এই স্কিমের আওতায় অন্তর্ভুক্ত। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের অ্যাকাউন্টে সরাসরি এই প্রকল্পের আওতায় ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়।